আমাদের হাতে কিছুই ছিল না

রাজধানী ঢাকার প্রেক্ষাপটে নির্মিত নেটফ্লিক্সের সিনেমা ‘এক্সট্রাকশন’-এর বাংলাদেশ অংশের শ্যুটিংয়ের ম্যানেজার ছিলেন আরিক আনাম খান। সিনেমাটি নিয়ে বেশ আলোচনা-সমালোচনা চলছে। এ নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন মাসিদ রণ

‘এক্সট্রাকশন’ নিয়ে...

আমি নিজেও ফিল্ম মেকিং নিয়ে পড়াশোনা করেছি। একজন রুচিশীল দর্শক হিসেবে বা ফিল্ম মেকার হিসেবে এই সিনেমাটি আমি দেখতাম না, যদি এতে আমি কাজ না করতাম! ঢাকা বা বাংলাদেশকে হলিউডে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তা নিয়ে যেসব সমালোচনা হচ্ছে, তার সঙ্গে আমিও একমত। শুধু তাই নয়, সিনেমাটির গল্প, মেকিং অনেক কিছুই আমার কাছে অসামঞ্জস্যপূর্ণ লেগেছে। তবে এই  ফিল্মটিকে যতটা গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে, সেটা ঠিক না। এটা কোনো ডকুমেন্টারি বা সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত সিনেমা নয়। কাল্পনিক একটি গল্প। এতে আমাদের দেশকে যেভাবেই দেখানো হোক, তাতে দেশের যে সুনাম বা বাস্তবতা, তা বিশ্বের কাছে বদলে যাবে না।

সমালোচনা...

অনেকে আমাকে নিয়ে সমালোচনা করেছেন। কিন্তু, যারা সেটা করছেন একেবারেই কিছু না জেনে করছেন। আমরা এ সিনেমার শুধু বাংলাদেশ অংশের শ্যুটিংয়ের ম্যানেজমেন্ট করেছি, যা সিনেমার মাত্র ২ শতাংশ। আমরা যখন এর সঙ্গে যুক্ত হই, তত দিনে ৯০ শতাংশ কাজ শেষ। আমাদের বলা হয়েছে কী ধরনের লোকেশন তারা চায়, আমরা সেটা পেতে তাদের সাহায্য করেছি। ঢাকায় কোনো অভিনেতাও আসেননি, তারা শুধু কিছু ড্রোন শট নিয়েছে

রাস্তাঘাটের। তবে কাজ করার সময় আমরা জেনে নিয়েছি এর গল্প কোনোভাবে আমাদের দেশের মানুষ, ধর্ম বা সরকারের বিরুদ্ধে কি না। হলিউড খুব গুরুত্বপূর্ণ না হলে কারও সঙ্গে পুরো স্ক্রিপ্ট শেয়ার করে না। তাই আমাদের পক্ষেও জানা সম্ভব ছিল না তারা কী গল্প নিয়ে কাজ করছে। সুতরাং ঢাকাকে কেন এভাবে দেখানো হলো? ঢাকা নিয়ে সিনেমা কিন্তু আমাদের দেশের কোনো অভিনেতা কেন নেই? এসব ব্যাপারে আমাদের হাতে কিছুই ছিল না।

লন্ডন ফিল্ম স্কুল থেকে ফিরে...

এ বছরই লন্ডন ফিল্ম স্কুল থেকে ফিল্ম মেকিংয়ের ওপর মাস্টার্স শেষ করেছি। সেখানে প্রতিটি ছাত্রের মতো আমিও একটি শর্টফিল্ম করেছিলাম। ‘ট্রানজিট’ নামের সেই ফিল্মটি সেখানে প্রশংসিত হয়েছে। ইচ্ছা আছে ফিল্মটি বিভিন্ন ফেস্টিভ্যালে নিয়ে যাওয়ার। পূর্ণাঙ্গ ফিচার ফিল্ম করতে অনেক পড়াশোনা ও অভিজ্ঞতার দরকার। আমি নিজেকে প্রস্তুত করছি। বায়োস্কোপের অরিজিনাল কনটেন্ট বিভাগে দায়িত্ব পালন করছি। এখন হোম অফিস করছি। হোম কোয়ারেন্টাইনে থেকে অনেক ধরনের সিনেমা ও ওয়েব সিরিজ দেখছি। নেটফ্লিক্সের ‘মানি হেইস্ট’ সিরিজটি খুব উপভোগ করেছি। পুরাতন টার্কিশ সিনেমা ‘উজাক’ ও হলিউড সিনেমা ‘দি অ্যাপার্টমেন্ট’ দেখে আবার প্রেমে পড়েছি। স্ক্রিপ্ট রাইটিংয়ের ওপর সিড ফিল্ডের লেখা একই বই পড়ছি।