করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে নিজ এলাকার মানুষকে ঘরে রাখতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আসাদুজ্জামান আসাদ নিয়েছেন ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ। তিনি এখন সবজির ফেরিওয়ালা। প্রায় ২০ রকমের সবজিভর্তি পিকআপ ভ্যান নিয়ে ওয়ার্ডের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঘুরে বেড়ান আসাদ। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে এলাকার মানুষের হাতে সবজি তুলে দেন এ জনপ্রতিনিধি ও তার কর্মীরা। গরিব মানুষদের বিনামূল্যে আর উচ্চবিত্তদের যাদের সামর্থ্য আছে তাদের কাছে নামমাত্র মূল্য নিয়ে সরবরাহ করা হয় প্রয়োজনীয় সবজি। কাউন্সিলর আসাদের ভিন্নধর্মী এ উদ্যোগে এলাকাবাসীর সাড়াও মিলেছে বেশ।
আসাদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নিজের সাধ্যমতো চেষ্টা করছি মানুষের পাশে থাকার। করোনাভাইরাস দুর্যোগ মোকাবিলায় আমি আমার ওয়ার্ডের মানুষকে বাজারবিমুখ করতে সবার দরজায় কাঁচাবাজার সেবা দেওয়ার অংশ হিসেবে সবজি ফেরি করছি। আমি মনে করি অদৃশ্য এ ভাইরাস বাজারঘাট থেকে সংক্রমণের একটি ঝুঁকি থাকে। বিশেষজ্ঞরাও তাই দাবি করছেন। তাই আমি চেয়েছি আমার ওয়ার্ডের মানুষ বাজারে যাবে না, বাজার যাবে তাদের দরজায়। এ আগ্রহ থেকে পিকআপ ভ্যানে করে প্রতিদিন সকালে ২১নং ওয়ার্ডের এই প্রান্ত থেকে ওই প্রান্ত ঘুরি সবজি নিয়ে।’
আসাদের পিকআপ ভ্যানে দরিদ্র মানুষদের জন্য বিনামূল্যে থাকে ২০ রকমের সবজি। গরিব মানুষদের বিনামূল্যে আর উচ্চবিত্তদের যাদের সামর্থ্য আছে তাদের কাছে নামমাত্র মূল্য নিয়ে সরবরাহ করা হয় প্রয়োজনীয় সব সবজি। ২০ রকমের সবজির মধ্যে রয়েছে আলু, শাক, চিচিঙ্গা, ঢেঁড়স, কাঁচামরিচ, ধনিয়াপাতা, লতি, শসা, লাউ ইত্যাদি।
সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আসাদ বলেন, ‘যতদিন লকডাউন চলবে আমার ওয়ার্ডে এ সেবা অব্যাহত থাকবে। আমার লক্ষ্যই হলো মানুষের বাজারে যাওয়ার প্রয়োজন যেন না পড়ে সেটা নিশ্চিত করা।’
২১নং ওয়ার্ডের অন্তর্গত ফুলার রোড, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, শিববাড়ী, উত্তর নীলক্ষেত, দক্ষিণ নীলক্ষেত ও বঙ্গবন্ধু মেডিকেল স্টাফ কোয়ার্টারসহ বিভিন্ন স্পটে এক ঘণ্টা করে আসাদের পিকআপ ভ্যান অবস্থান করে। সেখানে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে এলাকার মানুষের হাতে সবজি তুলে দেন আসাদ ও তার কর্মীরা। যারা সামর্থ্যবান তারা দাম দেন, যারা পারেন না তারা দাম দেন না। আসাদ বলেন, ‘আমার ওয়ার্ডের মানুষের সেবাদানের লক্ষ্যে এবং তাদের পাশে থাকার ইচ্ছা থেকে করোনার প্রকোপের শুরু থেকে আমি সবজি সেবা দিয়ে যাচ্ছি।’
করোনাকালে ঘরে ঘরে কাঁচাবাজার পৌঁছে দিতে কাউন্সিলর আসাদের এ উদ্যোগে খুশি এলাকার বাসিন্দারা। ২১নং ওয়ার্ডের নীলক্ষেতের বাসিন্দা রাহুল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আসাদ ভাইয়ের পিকআপ ভ্যান থেকে কাঁচা সবজি নিয়ে আমরা আপাতত প্রয়োজন মেটাই। এটা ভালো উদ্যোগ। এরকম করে সব নিত্যপণ্যই ঘরে বসে পাওয়ার ব্যবস্থা হলে আরও সুবিধা হতো।’
করোনাভাইরাস মোকাবিলায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অংশ হিসেবে আসাদ তার ওয়ার্ডের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজও নিজ হাতে করে যাচ্ছেন। সিটি করপোরেশনের গাড়ি করে অলিগলিতে নিয়মিত জীবাণুনাশক ছেটান এ কাউন্সিলর। এর আগে নির্বাচিত হওয়ার পর দায়িত্ব নিয়েই তার এলাকার ফুটপাতমুক্ত ও সড়ক পরিষ্কার রাখার উদ্যোগ নিয়ে আলোচনায় আসেন সাবেক এ ছাত্রলীগ নেতা।