শচীনের সেই এলবিডব্লিউ না দেওয়া আজও আজমলের কাছে ধাঁধা

২০১১ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ভারত-পাকিস্তান লড়াই দেখেছিল দর্শক। মোহালিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে পাকিস্তানকে ২৯ রানে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে ভারত। ৮৫ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচসেরা হন শচীন টেন্ডুলকার। যদিও মাত্র ২৩ রানেই সেদিন থেমে যেতে পারতেন শচীন।

সাঈদ আজমলের বলে এলবিডব্লিউ হয়েছিলেন শচীন। ফিল্ড আম্পায়ার ইয়ান গোল্ড আউটের সিদ্ধান্তও দিয়ে দেন। কিন্তু তৃতীয় আম্পায়ার বিলি বাউডেন নট আউটের সিদ্ধান্ত দেন।

আইসিসির প্যানেল আম্পায়ার হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করা গোল্ড সম্প্রতি বলেছেন, তিনি এখনো শচীনকে আউট দেওয়ার পক্ষেই কথা বলবেন। আজমলও তাই বলছেন। এমনকি কেন সেদিন শচীনকে আউট দেওয়া হলো না, এর উত্তর এখনো খোঁজেন তিনি।

৪২ বছর বয়সী আজমল বলছেন, ‘এটা সরাসরি আউট ছিল। আমি শতভাগ নিশ্চিত ছিলাম সে আউট। শহীদ আফ্রিদি, কামরান আকমল, ওয়াহাব রিয়াজ ও অন্যরা আমাকে জিজ্ঞেস করছিল আউট কিনা। আমি বলেছিলাম, সে আউট।’

কিন্তু থার্ড আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে তার হৃদয় ভেঙে যায় বলে জানান আজমল। এমনকি আম্পায়ার গোল্ডকেও নাকি খুব হতাশ লাগছিল।

আজমল আরো বলেন, ‘আমি টেস্টে কখনো টেন্ডুলকারের বিপক্ষে বল করার সুযোগ পাইনি। তাই সাদা বলে যখনই তার বিপক্ষে খেলতাম সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করতাম। সেমিফাইনালে আমাদের হেরে যাওয়াটা খুব হতাশার ছিল। অবশ্যই টেন্ডুলকারের ৮৫ রানটাই ব্যবধান গড়ে দেয়।’

প্রথমে ব্যাট করে ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ২৬০ রান করেছিল ভারত। একমাত্র ফিফটি এসেছিল টেন্ডুলকারের ব্যাট থেকে। শেষ পর্যন্ত যিনি আজমলের বলেই কাটা পড়েছিলেন। তবে ২৬১ রান তাড়া করতে নেমে ২৩১ রানেই গুটিয়ে গিয়েছিল পাকিস্তান। ভারত উঠে যায় ফাইনালে। পরে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে জয় করে ট্রফি।

আজমল বলেন, ‘আজও সেদিনের থার্ড আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত আমার কাছে বড় ধাঁধা। হয়তো ভাগ্য তার (টেন্ডুলকার) সাথে ছিল। সে দলের জন্য দারুণ একটা ইনিংস খেলতে পেরেছিল।’

পাকিস্তানের হয়ে ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ৩৫ টেস্টে ১৭৮ উইকেট নেন ডানহাতি অফব্রেক বোলার সাঈদ আজমল। ১১৩ ওয়ানডেতে তার শিকার ১৮৩ ও ৬৪ টি-টোয়েন্টিতে নিয়েছেন ৮৫ উইকেট।

২০১৫ সালে বাংলাদেশ সফরের পরই থেমে যায় আজমলের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার। ২০১৪ সালে অবৈধ বোলিং অ্যাকশনের জন্য নিষিদ্ধ হতে হয়েছিল তাকে। পরে অ্যাকশন শুধরে আর নিজেকে সেভাবে ফিরে পাননি। ২০১৭ সালে ক্রিকেটকে বিদায় বলে দেন।