সর্বোচ্চ পরীক্ষায় সর্বোচ্চ শনাক্ত

দেশে এক দিনে প্রথমবারের মতো চার সহস্রাধিক নমুনা পরীক্ষার মাধ্যমে প্রায় সাড়ে পাঁচশ করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা ও শনাক্তের এই সংখ্যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। এর আগে গত সোমবার সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৮১২ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছিল এবং গত শুক্রবার সর্বোচ্চ ৫০৩ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছিল। একই সঙ্গে গতকাল দেশে সর্বমোট নমুনা পরীক্ষা ৫৪ হাজার ছাড়িয়েছে এবং সর্বমোট করোনা রোগী শনাক্ত ৬ হাজার ছাড়িয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার করোনা পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত অনলাইন বুলেটিনে এসব তথ্য জানানো হয়।

বুলেটিনে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ৪ হাজার ৩০৯ জনের। পরীক্ষা করা হয়েছে ৪ হাজার ৩৩২ জনের। এর মধ্যে ৫৪৯ জনের মধ্যে কভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত সর্বমোট শনাক্ত ৬ হাজার ৪৬২ জন। ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণ করেছেন আরও ৩ জন। সর্বমোট মৃত্যু ১৫৫ জন। এছাড়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীনদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন আরও ৮ জন। এ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীনদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন মোট ১৩৯ জন।

গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের পর গতকাল ছিল ৫২তম দিন। এ পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৫৪ হাজার ৭৩৩ জনের। এর মধ্যে মোট শনাক্ত ৬ হাজার ৪৬২ জন। নমুনা পরীক্ষার তুলনায় রোগী শনাক্তের হার ১২ শতাংশ। অর্থাৎ প্রতি ১০০ নমুনা পরীক্ষায় ১২ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। প্রথম দিকে নমুনা পরীক্ষা কম হওয়ায় রোগীও কম শনাক্ত হয়েছে। পরে পরীক্ষা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোগী শনাক্ত বেড়েছে। কয়দিন পরপরই সর্বোচ্চ রোগী শনাক্তের নতুন রেকর্ড হয়েছে। গত ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় রোগী শনাক্ত তিনশর মধ্যে ছিল। পরের দিন ২০ এপ্রিল এক লাফে ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হয় ৪৯২ জন। পরের তিন দিন তুলনামূলক কম শনাক্ত হওয়ার পর গত ২৪ তারিখ আগের রেকর্ড ভেঙে ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হয় ৫০৩ জন। পুনরায় তিন দিন বিরতি দিয়ে ফের গতকাল ২৪ ঘণ্টায় ৫৪৯ জন শনাক্ত হয়ে নতুন রেকর্ড গড়ল। তবে স্বস্তির বিষয় হচ্ছে মৃত্যুর হার আগের চেয়ে কিছুটা কমেছে। গতকাল ২৪ ঘণ্টায় ৩ জন মৃত্যুবরণ করেছেন, যা গত ১৭ দিনের মধ্যে সর্বনিম্ন। এদিন মৃত তিনজনের বিষয়ে ডা. নাসিমা জানান, মৃত তিনজনই ঢাকার ভেতরের। তাদের প্রত্যেকের বয়স ষাটোর্ধ্ব।

তিনি আরও জানান, ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে ১১১ জনকে। বর্তমানে আছেন মোট ১ হাজার ২৮৪ জন। একই সময়ে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে ২ হাজার ৩৯২ জনকে। বর্তমানে কোয়ারেন্টাইনে আছেন মোট ৭৬ হাজার ৮৪০ জন। স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩, ৩৩৩ ও আইইডিসিআরের হটলাইনে ২৪ ঘণ্টায় করোনাবিষয়ক কল এসেছে মোট ৭২ হাজার ১৮৭টি। স্থল, সমুদ্র ও বিমানপথে ২৪ ঘণ্টায় দেশে প্রবেশ করেছেন ৫০১ জন। তাদের প্রত্যেককে স্ক্রিনিং করা হয়েছে। এছাড়া এ পর্যন্ত পিপিই বিতরণ করা হয়েছে ১৩ লাখ ৯ হাজার ১৪৮টি। বর্তমানে মজুদ আছে আরও ৩ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৪টি।