জ্বর সর্দি কাশি শ্বাসকষ্টে আরও ৫ জনের মৃত্যু

জ্বর, সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে চার জেলায় আরও পাঁচজন মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বরিশালে মারা গেছেন দুই নারী। খুলনায় মারা গেছেন এক তরুণী। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মারা গেছেন এক অটোরিকশাচালক ও মৌলভীবাজারে এক মোটরসাইকেল মেকার। দেশ রূপান্তরের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর অনুযায়ী এ নিয়ে ১৯ দিনে দেশে জ্বর, সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্টে ১২২ জনের প্রাণহানি হলো।

বরিশাল : শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুই নারী মারা গেছেন। হাসপাতাল পরিচালক ডা. মো. বাকির হোসেন জানান, তাদের একজন ছিলেন গাইনি ওয়ার্ডে, আরেকজন করোনা ওয়ার্ডে। তাদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, গতকাল সকাল ৮টার দিকে করোনা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন নারীর (৫০) মৃত্যু হয়। ভোলা সদর থেকে আসা ওই নারী গত ২৭ এপ্রিল সকালে শ্বাসকষ্ট ও জ্বর নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। মেডিসিন ওয়ার্ড থেকে তাকে ওইদিনই করোনা ওয়ার্ডে পাঠানো হয়। এছাড়া গতকাল সকাল ১০টার দিকে গাইনি ওয়ার্ডে মারা যান পটুয়াখালী সদর উপজেলার এক প্রসূতি (৩০)। তারও শ্বাসকষ্টের সমস্যা ছিল। বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানায়, বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় ১০৮ জন রোগীর এ পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে। যার মধ্যে সুস্থ হয়েছে ১২ এবং মারা গেছে ৫ জন।

খুলনা : খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল ভোরে লিমা খাতুনের (২৪) মৃত্যু হয়। তিনি পিরোজপুর সদরের জুলফিকার আলীর মেয়ে। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (মেডিসিন) ও করোনা আইসোলেশন ওয়ার্ডের মুখপাত্র ডা. শৈলেন্দ্রনাথ বিশ্বাস বলেন, লিমা তিন-চার দিন ধরে নিউমোনিয়ায় ভুগছিলেন। গত সোমবার বিকেলে তাকে খুমেক হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। তিনি করোনায় আক্রান্ত ছিলেন কি না তা পরীক্ষার জন্য তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া : সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত সোমবার রাত ১১টার দিকে মারা যান অটোরিকশাচালক ওই যুবক। তার বাড়ি উপজেলার লালপুর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামে। আশুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. নূপুর সাহা বলেন, করোনা পরীক্ষার জন্য তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। করোনা রোগীর মতো করেই তাকে দাফন করা হয়েছে।

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) : কমলগঞ্জের আদমপুর ইউপির নয়াপত্তন গ্রামে গতকাল দুপুরে মারা যান নন্দলাল সিংহ (২৫) নামে এক মোটরসাইকেল মেকার। কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানিয়েছে, নয়াপত্তন গ্রামের মৃত কুঞ্জ রাজ সিংহের ছেলে নন্দলাল সিংহ একজন মোটরসাইকেল মেকার। গতকাল দুপুরে নিজ বাড়িতে কয়েক দফা বমি করে মারা যান তিনি। তিনি করোনায় মারা গেছেন বলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিষয়টি কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুল আলম ভূঁইয়াকে জানানো হয়। মাহবুবুল আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, মৃতদেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। বাড়ির লোকজনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলা হয়েছে।