করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। ধাপে ধাপে আগামী ৫ মে পর্যন্ত ছুটি বাড়ানো হয়েছে। এরই মধ্যে গত সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক ভিডিও কনফারেন্সের শুরুতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হবে বলে জানিয়েছেন। এ প্রেক্ষাপটে কীভাবে শিক্ষাবর্ষ অব্যাহত রাখা হবে সে বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বন্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হলেও শিক্ষাবর্ষ ‘কন্টিনিউ’ রাখতে ছুটি কমানোসহ আরও কিছু কৌশল খোঁজা হচ্ছে। শিক্ষাবিদরা বলছেন, পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে সেজন্য একটি শিক্ষাবর্ষ স্থগিত করা উচিত।
গত ১ এপ্রিল থেকে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরুর কথা থাকলেও ইতিমধ্যেই তা পিছিয়েছে। এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করাও এখন সম্ভব নয়। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শ্রেণি কার্যক্রম সংসদ টিভির মাধ্যমে চালু রাখা হয়েছে। কিন্তু শিক্ষাপঞ্জিকা অনুযায়ী, ইতিমধ্যে প্রথম সাময়িক পরীক্ষার সময় পেরিয়েছে।
প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অনলাইনে তাদের ক্লাস কার্যক্রম চালু রাখলেও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্ষেত্রে এই কার্যক্রম খুবই সীমিত। এছাড়া প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা ও ভর্তি প্রক্রিয়া বন্ধ রয়েছে। আবার চাকরিপ্রত্যাশী অনেকের চাকরি বয়সসীমা পেরিয়ে যাচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভাবনা জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পরিস্থিতি যেকোনো সময় পাল্টে যেতে পারে। তারপরও আমরা প্রস্তুত আছি। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী যদি সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আমাদের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হয় এবং অক্টোবর থেকে যদি খুলতে পারি তবুও আমরা শিক্ষাবর্ষ “কন্টিনিউ” করতে পারব। সে ক্ষেত্রে হয়তো শিক্ষাবর্ষের যেসব ছুটি রয়েছে সেগুলো কমিয়ে এনে সমন্বয় করতে হবে। এছাড়া আরও কিছু কৌশল আমরা খুঁজছি এ বিষয়ে।’
এইচএসসি পরীক্ষাও অক্টোবর পর্যন্ত পেছানো হলে শিক্ষার্থীরা অন্তত ছয় মাস পিছিয়ে পড়বে; সে ক্ষেত্রে কীভাবে শিক্ষাবর্ষের সঙ্গে সমন্বয় হবে এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এ পরীক্ষার্থীরা দীর্ঘ সময় ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নেয়। আমরা হয়তো সেটা শর্ট করে আনব। প্রয়োজনবোধে শিক্ষাবর্ষের সময়সীমা কমিয়ে আনাও হতে পারে। আরও কী কী কৌশল অবলম্বন করলে এ শিক্ষাবর্ষকে “কন্টিনিউ” রাখা যায় তা নিয়ে ভাবছি আমরা।’
এ পরিস্থিতিতে করণীয় জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবীণ অধ্যাপক ও শিক্ষাবিদ সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যে পরিস্থিতির দিকে আমরা (বাংলাদেশ) এগোচ্ছি তাতে মনে হচ্ছে সহজে করোনাভাইরাসের প্রকোপ থাকবে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি বাড়তে পারে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত। অনলাইন বা টিভিতে যে ক্লাস কার্যক্রম শুরু হয়েছে তা কত শতাংশ শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছাচ্ছে? আমার হিসাব মতে, ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীই এর বাইরে রয়েছে। ফলে এত বড় সংখ্যক শিক্ষার্থীকে আলোর বাইরে রেখে শিক্ষাবর্ষ চালু রাখা ঠিক হবে না। ফলে আমি মনে করি, চলতি শিক্ষাবর্ষটি স্থগিত করে দেওয়া উচিত। এছাড়া যারা চাকরিপ্রার্থী তাদের বয়সসীমা বাড়িয়ে দিতে প্রধানমন্ত্রীর একটি ঘোষণাই যথেষ্ট।’