ভরকেন্দ্র বদলাচ্ছে করোনা!

চীন থেকে ইউরোপ, তারপর যুক্তরাষ্ট্র। ক্রমেই ‘ভরকেন্দ্র’ বদলাচ্ছে করোনাভাইরাসজনিত রোগ কভিড-১৯। গেল বছরের শেষ থেকে চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান থেকে ছড়িয়ে পড়ে করোনাভাইরাস। উৎপত্তিস্থল চীনে ৮২ হাজারেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হলেও সেখানে ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব কমে গেছে। তবে এরপরই বাড়তে শুরু করে ইউরোপের দেশ ইতালি, স্পেন, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যে। এর মধ্যেই ভয়ংকর রূপ নেয় যুক্তরাষ্ট্রেও। টানা দুই মাস পরে ওইসব অঞ্চলে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত আর মৃত্যুর সংখ্যা কমতে শুরু করলেও রাশিয়া, তুরস্ক, ব্রাজিল ও কানাডায় ভয়ংকর হচ্ছে করোনা।

রাশিয়ায় ক্রমেই ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে সংক্রমণের লেখচিত্র। আক্রান্তের দিক থেকে রাশিয়া এখন বিশ্বে অষ্টম স্থানে উঠে এসেছে। দেশটিতে এক দিনে রেকর্ডসংখ্যক মানুষ করোনাভাইরাস আক্রান্ত হয়েছে এবং মারা গেছে। রাশিয়ার করোনাভাইরাস ক্রাইসিস সেন্টার বলছে, মঙ্গলবার দেশটিতে করোনাভাইরাসে নতুন আক্রান্ত হয়েছে ৬ হাজার ৪১১ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৭৩ জনের। এক দিনে রাশিয়ায় এটিই আক্রান্ত এবং মৃত্যুর সর্বোচ্চ সংখ্যা। দেশটিতে এই পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে ৯৩ হাজার ৫৫৮ জন। আর মারা গেছেন ৮৬৭ জন। 

ব্রাজিলেও ভয়ংকর হয় উঠেছে করোনাভাইরাস। দেশটিতে কয়েক দিন ধরে এক থেকে দেড় হাজার মানুষের আক্রান্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। মারা যাচ্ছে গড়ে শতাধিক মানুষ। গতকাল পর্যন্ত সেখানে সাড়ে চার হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছে ৬৮ হাজারের বেশি মানুষ।

তুরস্কেও অনেক পরে রোগটি ধরা পড়লেও সেখানে রোগীর সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে এক লাখ। গতকাল পর্যন্ত সেখানে ১ লাখ ১২ হাজার ২৬১ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। আর মৃত্যু হয়েছে ২ হাজার ৯০০ জনের। 

কানাডায় নানা পদক্ষেপ নেওয়ার পরেও রোগীর সংখ্যা ৪৮ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। মারা গেছে ২ হাজার ৭০৭ জন। 

এদিকে গত রবিবার ২৪ ঘণ্টায় এক মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও গতকাল বিশ্বে ফের বেড়েছে এই সংখ্যা। সোমবার রাতেই মহামারী করোনাভাইরাসে বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা ৩০ লাখ অতিক্রম করেছে।  আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটার তথ্য বলছে, বাংলাদেশ সময় গতকাল মঙ্গলবার রাত ১২.৩০টা পর্যন্ত বিশ্বে রোগটিতে আক্রান্ত হয়েছে ৩১ লাখ ৬ হাজার ৭০০ জন। মারা গেছে  ২ লাখ ১৪ হাজার ৬৪৫ জন।  এর মধ্যে  আক্রান্ত ও  মৃত্যুতে তালিকার শীর্ষে আছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ১০ লাখ ২২ হাজার ২৫৯ জন। দেশটি মৃত্যুর তালিকায়ও শীর্ষে। সেখানে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৭ হাজার ৮৬২ জনে। আক্রান্তের সংখ্যায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা স্পেনে এখন করোনা রোগীর সংখ্যা ২ লাখ ৩২ হাজার ১২৮ জন। মারা গেছে ২৩ হাজার ৮২২ জন। তবে মৃত্যুর সংখ্যায় ইতালি আছে স্পেনের আগে। দেশটিতে মারা গেছে ২৭ হাজার ৩৫৯ জন। আর আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১ হাজার ৫০৫ জনে। ফ্রান্সে মারা গেছে ২৩ হাজার ২৯৩ জন। আক্রান্ত ১ লাখ ৬৫  হাজার ৮৪২ জন।

ইউরোপের আরেক দেশ জার্মানিতে শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৫৯ হাজার ২৩৯ জন। দেশটিতে গতকাল পর্যন্ত মারা গেছে ৬ হাজার ১৭৭ জন।

ভাইরাসটির উৎসস্থল চীনে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৮২ হাজার ৮৩৬ এবং মৃত্যুর সংখ্যা ৪ হাজার ৬৩৩ জন।

যুক্তরাজ্যে মৃত্যুর সংখ্যা ২১ হাজার ৯২, আক্রান্ত ১ লাখ ৫৭ হাজার ১৪৯ জন।

নেদারল্যান্ডসে আক্রান্তের সংখ্যা ৩৮ হাজার ৪১৬ আর মৃত্যু হয়েছে ৪ হাজার ৫৬৬ জনের।

বেলজিয়ামে রোগীর সংখ্যা ৪৭ হাজার ৩৩৪ জন। মারা গেছে ৭ হাজার ৩৩১। 

সুইজারল্যান্ডে আক্রান্ত ২৯ হাজার ২৬৪, মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ৬৮৫ জনের।

সুইডেনে ১৯ হাজার ৬২১ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। মারা গেছে ২ হাজার ৩৫৫ জন। 

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরানে আক্রান্তের সংখ্যা ৯২ হাজার ৫৮৪ আর মৃত্যু হয়েছে ৫ হাজার ৮৭৭ জনের।

এছাড়া আরও অনেক দেশেই রোগীর সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়েছে আর মারা গেছে পাঁচ শতাধিক মানুষ।