করোনাভাইরাসে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মহাদেশ ইউরোপ। সোয়া এক লাখেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেনএই মহাদেশে। মহামারীর কারণে ইউরোপের দেশে দেশে যে লকডাউন চলছে, তা অর্থনৈতিক বিপর্যয় ডেকে আনবে বলে পূর্বাভাস দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। গত ২৬ এপ্রিল ইউরোপের প্রায় প্রত্যেকটি দেশেই বিগত এক মাসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী মহামারীতে সবচেয়ে কম মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এ অবস্থায় লকডাউন থেকে বেরিয়ে আসার পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন শুরু করেছে দেশগুলো। লিখেছেন পরাগ মাঝি
৪ মে’র পর থেকে ইতালি
করোনাভাইরাসের মারাত্মক আঘাতে ইতালিতে লকডাউন পরিস্থিতি চলছে গত সাত সপ্তাহ ধরে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত প্রায় দুই লাখ মানুষ করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন। আর সংক্রমিত মানুষদের মধ্যে মৃত্যুবরণ করা মানুষের সংখ্যা প্রায় ২৭ হাজারেরও বেশি। ধীরে ধীরে ইতালিতে কভিড-১৯ ভাইরাসের সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার কমে এসেছে। তাই লকডাউনে স্থবির হয়ে থাকা দেশকে আবার সচল করার পরিকল্পনা করছে সরকার।
ইতালির প্রধানমন্ত্রী গুইসেপ কন্টের বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, করোনাভাইরাস ঠেকাতে ইতালি জুড়ে নাগরিকদের চলাফেরায় আরোপ করা লকডাউন পরিস্থিতি আগামী ৪ মে’র পর থেকেই কিছুটা শিথিল করে দেওয়া হবে। সে সময় ঘরে ঘরে আটকে থাকা ইতালিয়ানরা বাড়ির বাইরে এসে আত্মীয়স্বজনের খোঁজ নিতে পারবেন। তবে, অবশ্যই তাদের একসঙ্গে অধিক মানুষের সমাবেশ কিংবা চলাফেরা এড়িয়ে চলতে হবে।
জানা গেছে, ৪ মে’র পর থেকেই ইতালির বিভিন্ন প্রদেশের পার্ক, কারখানা ও বড় অবকাঠামোগুলো খুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খোলা হবে সেপ্টেম্বরে। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে গত কয়েক দিনে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমে যাওয়ার পরই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার। ‘২৬ এপ্রিল’ ছিল ইতালিয়ানদের জন্য একটি আশাপ্রদ দিন। এদিন দেশটির মাত্র ২৬০ জন নাগরিক কভিড-১৯ সংক্রমণে মৃত্যুবরণ করেন। ১৪ মার্চের পর দেশটির মৃত্যুহারের দিক থেকে এটাই ছিল সর্বনিম্ন পরিসংখ্যান। তবে, সর্বমোট মৃত্যুর দিক থেকে ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে ইতালির অবস্থান এখনো সবার ওপরে।
টেলিভিশনে দেওয়া এক বক্তব্যে ইতালির প্রধানমন্ত্রী কন্টে জানান, দেশের লকডাউন পরিস্থিতি তুলে নিতে শিগগির তারা দ্বিতীয় পর্যায় শুরু করতে যাচ্ছেন। এর অংশ হিসেবে দেশটির নাগরিকরা ঘর থেকে বের হয়ে চলাফেরা করতে পারবেন। তবে, তারা নিজের প্রদেশের বাইরে যেতে পারবেন না। নিকটাত্মীয়দের মৃত্যু হলে শেষকৃত্যা অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারবেন নাগরিকরা। তবে, এ ধরনের অনুষ্ঠানে কিছুতেই ১৫ জনের বেশি উপস্থিত থাকা যাবে না। স্বতন্ত্রভাবে খেলোয়াড়রা তাদের অনুশীলন চালিয়ে যেতে পারবেন। আর এত দিন যারা বাড়ির ভেতরেই শরীরচর্চা করছিলেন, তারা এবার বাড়ির বাইরে আরেকটু খোলা জায়গায় তা করতে পারবেন।
৪ মে থেকে ইতালির রাস্তার পাশের রেস্তোরাঁগুলো খুলে দেওয়া হবে। তবে, এসব রেস্তোরাঁয় বসে খাবার খাওয়ার অনুমতি থাকবে না। রেস্তোরাঁ থেকে খাবার সংগ্রহ করে বাসায় কিংবা অফিসে বসে খেতে হবে। সেলুন, বিউটি পার্লার ও বারগুলো খুলে দেওয়া হবে ১ জুন থেকে। তবে, তার আগেই ১৮ মে থেকে দেশটির খুচরা পণ্যের দোকানগুলো ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারবে। এদিন থেকে ক্রীড়া দলগুলোর সদস্যরা সম্মিলিত অনুশীলনেও অংশ নিতে পারবেন। তবে, ইতালির প্রিমিয়ার ফুটবল লীগ ‘সিরি-এ’ কবে শুরু হবে, সে সম্পর্কে এখনো কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
প্রধানমন্ত্রী কন্টে আরও জানান, ইতালিতে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশটি আরও কয়েক মাস ধরে বলবৎ থাকবে এবং চার্চগুলো অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে। তিনি সাধারণ মানুষকে চলাফেরায় একে অপরের কাছ থেকে অন্তত তিন ফুট দূরত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আমরা যদি এই নিয়মগুলো মেনে না চলি, তবে, মহামারীর সূচক আবার ওপরের দিকে উঠতে শুরু করবে, মৃতের সংখ্যা বাড়বে এবং আমাদের অর্থনীতি একেবারে ভেঙে পড়বে।’ ইতালিতে মানসম্মত একটি ফেইস মাস্কের দাম ৫০ সেন্ট নির্ধারণ করে দেন কন্টে।
গত ৯ মার্চ থেকেই ইতালির নাগরিকদের সার্বক্ষণিক বাড়ির ভেতরে অবস্থান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরে গত ১৪ এপ্রিল দেশটির লকডাউন পরিস্থিতি শিথিল করার প্রথম পর্যায় শুরু হয়। এ ক্ষেত্রে বই-পত্র ও স্টেশনারি দোকান ছাড়াও ড্রাইক্লিনিং লন্ড্রিগুলো খুলে দেওয়া হয়েছিল। কারণ, এ ধরনের দোকানে সাধারণত একসঙ্গে বেশি মানুষ ভিড় করে না।
এভাবে বিভিন্ন পর্যায়ের মধ্য দিয়ে এক দিন লকডাউন পরিস্থিতি থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে আসার পরিকল্পনা করেছে ইতালি। কিন্তু এ সময়ের মধ্যে দেশটিতে যদি মহামারীতে আক্রান্ত ও মৃত্যুবরণ করা মানুষের সংখ্যা বাড়তে শুরু করে, তবে, নতুন করে নানা নিষেধাজ্ঞা আরোপের মধ্য দিয়ে আবার লকডাউন জোরদার করা হবে।
মুক্ত বাতাসে স্প্যানিশ শিশুরা
মহামারীতে মৃত মানুষের সংখ্যার দিক দিয়ে ইউরোপে ইতালির পরই অবস্থান করছে স্পেন। দেশটিতে এখন পর্যন্ত প্রায় ২৪ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। যদিও সেখানে ইতালির চেয়েও বেশি প্রায় ২ লাখ ২৭ হাজার কভিড-১৯ ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে। ইতালির মতো স্পেনের জন্যও বিগত পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে সবচেয়ে ভালো দিন ছিল ‘২৬ এপ্রিল’। এদিন স্পেনেও কভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে মৃত মানুষের সংখ্যা ছিল তুলনামূলক কম, মাত্র ২৮৮ জন।
২৬ এপ্রিলই লকডাউন পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার প্রক্রিয়া শুরু করেছে দেশটি। ছয় সপ্তাহ পর দেশটির শিশুরা এদিন ঘরের বাইরে আসার সুযোগ পায়। এতে সারা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে লাখ লাখ শিশু ঘর ছেড়ে বাইরে এসে সময় কাটায়। টানা ৪২ দিন ঘরের মধ্যে অবরুদ্ধ সময় কাটিয়েছে তারা। মূলত ১৪ বছরের কম বয়সীরাই এদিন বাড়ির বাইরে আসার সুযোগ পেয়েছে। বাড়ির কাছাকাছি পার্ক ও উদ্যানগুলোতে তারা হাত-পা ছুড়ে, আড্ডা মেরে সময় কাটিয়েছে। মুক্ত সময় উপভোগ করার জন্য পুলিশ ছিল সহায়কের ভূমিকায়। শিশুদের সঙ্গে নিজ নিজ পরিবার থেকে বড়জোর একজন অভিভাবক বাড়ির বাইরে আসার সুযোগ পেয়েছিলেন তাদের দেখভাল করার জন্য।
কিছু স্প্যানিশ বেলাভূমি শিশুদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। বেলাভূমি থেকে যাদের বাড়ি এক কিলোমিটারের মধ্যে, শুধু তারাই সেখানে সময় কাটানোর সুযোগ পায়। তবে, সেখানে তারা সমুদ্রস্নান, সূর্যস্নান কিংবা বনভোজন করার সুযোগ পায়নি। নির্ধারিত এক ঘণ্টার বেশি যেন কেউ বাড়ির বাইরে না থাকে সেদিকে নজর ছিল পুলিশের। শিশুদের সাইকেল ও স্কুটার চালানোর পাশাপাশি সঙ্গে বল রাখারও অনুমতি ছিল। তবে, নিজ ভাই-বোন ছাড়া অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলাধুলা করার সুযোগ ছিল না। সুযোগ ছিল না খেলার মাঠে যাওয়ারও। সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টার মধ্যে প্রত্যেক শিশু মাত্র এক ঘণ্টার জন্য বাড়ির বাইরে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল। একসঙ্গে তিন শিশুর বেশি একত্র হওয়ার অনুমতি ছিল না। বাড়ি থেকে সর্বোচ্চ এক কিলোমিটার দূরে যাওয়ার সুযোগ পায় তারা। তাদের মুখে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক না হলেও সতর্কতা হিসেবে অনেকেই তা ব্যবহার করেছে।
স্পেনে জারি থাকা রাষ্ট্রীয় জরুরি অবস্থা ২৬ এপ্রিল থেকে বাড়িয়ে ১০ মার্চ মধ্যরাত পর্যন্ত নির্ধারণ করে দেওয়া হলেও ২ মে থেকেই লকডাউন থেকে বেরিয়ে আসার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।
স্প্যানিশ উপ-প্রধানমন্ত্রী তেরেসা রিবেরা বলেন, ‘দেশের অর্থনীতিকে আবার সচল করার জন্য আমরা ক্রমিক পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করেছি।’ তিনি আশা প্রকাশ করেন, শিগগির বিভিন্ন সেক্টর একে একে খুলে দেওয়া হবে। ২৬ এপ্রিল রাতে টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে স্প্যানিশ প্রধানমন্ত্রী পেড্রো সানচেজ মহামারীতে মৃত্যুহার কমে আসার ঘোষণা দিয়ে বলেন, ‘যদি এই উন্নতি অব্যাহত থাকে, তবে, আগামী ২ মে থেকে দেশের প্রাপ্তবয়স্করা বাড়ির বাইরে এসে হাঁটা-চলা ও শারীরিক অনুশীলন চালিয়ে যেতে পারবেন।’
শেষ ধাপে খুলবে ব্রিটিশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
কভিড-১৯ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘ অসুস্থতার পর আবার নিজের দপ্তরে কাজে ফিরেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। গত ৫ এপ্রিল থেকে অন্তত এক সপ্তাহ তিনি লন্ডনের সেন্ট থমাস হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। এর মধ্যে তিন দিন ছিলেন নিবিড় পরিচর্যা ক্রেন্দ্রে।
নিজের দপ্তরে ফেরার পর থেকেই যুক্তরাজ্য কীভাবে লকডাউন থেকে বেরিয়ে আসবে, তার পরিকল্পনা শুরু করেছেন বরিস। প্রায় পাঁচ সপ্তাহ ধরে স্থবির হয়ে আছে দেশটি। কভিড-১৯ ভাইরাসে আক্রান্ত মানুষের মৃত্যুর পরিসংখ্যানে ‘২৬ এপ্রিল’ দিনটি আশাপ্রদ হলেও ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডমিনিক রাব এক সতর্কবার্তায় বলেন, ‘মহামারী রয়ে গেছে, পরিস্থিতি এখনো ভয়ানক।’
কভিড-১৯ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যুক্তরাজ্যে এখন পর্যন্ত ২১ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। তবে, লকডাউনের কারণে দেশের অর্থনীতি নিয়ে শঙ্কায় আছেন ব্রিটিশ গবেষকরা। লন্ডনের মেয়র থাকাকালীন বরিস জনসনের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা জেরার্ড লায়ন্স আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘শিগগির যদি লকডাউন তুলে না নেওয়া হয়, তবে ব্রিটেনই হবে পশ্চিমা বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ।’
লকডাউন তুলে নিলে ভাইরাসের সংক্রমণ যে আবার চূড়ায় না ওঠে, সেজন্য বেশ কিছু প্রাথমিক পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে ব্রিটিশ প্রশাসন। এ ক্ষেত্রে খাদ্যপণ্য বিক্রি করে না এমন খুচরা দোকানগুলো খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আবার এমন কিছু দোকান খোলার পরিকল্পনা হচ্ছে, যেখান থেকে ক্রেতাদের হাতে পণ্য পৌঁছাবে মানুষের হাতের কোনো স্পর্শ ছাড়াই। কাপড়ের দোকানগুলোতে ট্রায়াল রুম না রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
পররাষ্ট্রসচিব ডমিনিক রাব জানিয়েছেন, ব্রিটেনকে লকডাউন থেকে বের করে আনার প্রাথমিক পরিকল্পনা হিসেবে যেকোনো বন্দর দিয়ে কেউ যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করলেই তাকে বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। আর এই নির্দেশ কেউ অমান্য করলে তাকে জরিমানা গুনতে হবে।
এদিকে, গত ২৭ এপ্রিল থেকেই আবার উৎপাদন শুরু করেছে ব্রিটেনের সবচেয়ে বড় ইট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। লকডাউনের কারণে যে উৎপাদন ঘাটতি হয়েছে, তা পুষিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। গত ২৩ মার্চ থেকেই দেশটির নির্মাণ সাইটগুলো বন্ধ আছে। ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার জন্য নির্মাণশ্রমিকরা সন্ধ্যার পর ও ছুটির দিনগুলোতে কাজ করার চিন্তাভাবনা করছেন।
তবে, আগামী ১ জুনের আগে স্কুলগুলো খুলে দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই ব্রিটিশ কর্র্তৃপক্ষের। ডমিনিক রাব বলেন, ‘শিশুদের সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত না করেই স্কুলে পাঠানো হবে বড় ধরনের ভুল সিদ্ধান্ত।’ এ ক্ষেত্রে লকডাউন থেকে বেরিয়ে আসার সর্বশেষ ধাপে থাকবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া।
ইউরোপের অন্যান্য দেশ
সুইজারল্যান্ডে গত ২৭ এপ্রিল থেকেই উদ্যান ও সেলুনগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে। এর আগে দেশটির স্কুলগুলো চালু করা হয়েছে। দুই সপ্তাহ পর দেশটির কিছু কিছু দোকানেও বেচাকেনা শুরু হয়েছে। তবে, একসঙ্গে পাঁচজনের বেশি একত্র হওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা ৮ জুন পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। আর দেশটির রেস্তোরাঁ ও বারগুলো কবে খোলা হবে তা এখনো অজানা।
এদিকে, গতকাল (২৮ এপ্রিল) লকডাউন থেকে বেরিয়ে আসার জন্য গুরুত্বপূর্ণ মিটিং অনুষ্ঠিত হয়েছে ফ্রান্সে। এই মিটিংয়ে স্বাস্থ্য, স্কুল, কর্মক্ষেত্র, দোকানপাট, গণপরিবহন ও সমাবেশের মতো ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় ছিল। প্রায় ছয় সপ্তাহ ধরে লকডাউন অবস্থায় রয়েছে ফ্রান্স। মহামারীতে ক্ষয়ক্ষতির দিক থেকে ইউরোপে ইতালি ও স্পেনের পরই ফরাসিদের অবস্থান। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৬২ হাজার মানুষ আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি ২৩ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সম্প্রতি দেশটিতে কভিড-১৯ ভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুবরণ করা মানুষের সংখ্যা দ্রুত হারে কমতে শুরু করেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশটি আগামী ১১ মে থেকে লকডাউন শিথিল করে স্বাভাবিক কাজকর্ম শুরু করার প্রক্রিয়া চালু করবে। তবে, দেশটির রেস্তোরাঁ ও বারগুলো আগামী মাসেও খোলা হবে না, এটি নিশ্চিত।
ফ্রান্সের বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা পরিষদ সতর্কতা জারি করে বলেছে, ‘লকডাউন শিথিল করা হলে হঠাৎ করে ভাইরাসের সংক্রমণ আবার বেড়ে যেতে পারে এবং হাসপাতাল ও ইন্টেনসিভ কেয়ারগুলো আবার তীব্র সংকট দেখা দিতে পারে। বৈজ্ঞানিক পরিষদ ফরাসিদের বাড়ির ভেতরে অবস্থান করেই যথাসম্ভব কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে। যদিও দেশটির কর্র্তৃপক্ষ আগামী ১১ মে থেকেই স্কুলগুলো খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। লকডাউন শিথিল করার কয়েক মাসের মধ্যে নাগরিকদের দেশের বাইরে ভ্রমণের ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে।
লকডাউন শিথিল করার প্রক্রিয়া বেশ কয়েক দিন আগেই শুরু হয়েছে জার্মানিতে। দেশটির গণপরিবহনে চলাচল করার সময় মুখের মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ফলে দেশটিতে মাস্কের বিপুল চাহিদা তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় জার্মান সরকার দেশের ভেতরেই কোটি কোটি মাস্ক উৎপাদনের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।