ঝালকাঠির রাজাপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের একজন জ্যেষ্ঠ সেবিকা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। বুধবার সকালে এ খবর নিশ্চিত করেছেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. শ্যামল কৃষ্ণ হাওলাদার। এছাড়া ওই সেবিকার সংস্পর্শে আসা চিকিৎসক, সেবিকা, কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ বিশজনকে আইসোলেশনে পাঠানো হয়েছে।
জানা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ওই জেষ্ঠ সেবিকার মেয়ে কিছুদিন আগে ঢাকা থেকে বাড়িতে আসেন। এ সময় তার কাশি ছিল। গত পাঁচদিন ধরে ওই সেবিকাও কাশিতে ভুগছিলেন। এরপর গত রবিবার উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ওই সেবিকার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য আইইডিসিআর-এ পাঠায়।
মঙ্গলবার রাতে পরীক্ষার ফলাফল আসলে ওই সেবিকার শরীরে করোনা সংক্রমণ পাওয়া যায় । এ খবরে উপজেলা সদরে থাকা ওই সেবিকার প্রতিবেশীরা এবং রাজাপুর স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ভর্তি রোগী ও তাদের স্বজনরা আতংকিত হয়ে পড়েছেন।
হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, করোনায় আক্রান্ত সেবিকার কাশি ছাড়া অন্য কোন লক্ষন নেই। তিনি ও তার মেয়ে দুজনেই বর্তমানে সুস্থ আছেন এবং পরিবারে থাকা বাকি অন্য তিন সদস্যও সুস্থ রয়েছেন।
সূত্র আরও জানিয়েছে, গতরাতে আইইডিসিআরএর রিপোর্টে সেবিকার শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্তের পর ওই সেবিকার সংস্পর্শে থাকা হাসপাতালের চারজন মহিলা চিকিৎসকসহ পাচজন চিকিৎসক, এগারজন সেবিকা, দুইজন অফিস সহকারী ও দইজন ক্লিনারকে আইসোলেশনে পাঠানো হয়েছে।
এছাড়াও আজ দুপুরে করোনা শনাক্ত হওয়া সেবিকার বাড়ি উপজেলা সদরের আদর্শপাড়া এলাকার ৫০টি পরিবারকে লকডাউন করেছে রাজাপুর উপজেলা প্রশাসন।
ঝালকাঠি সিভিল সার্জন ডা. শ্যামল কৃষ্ণ হাওলাদার বলেন, রাজাপুর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ইতিমধ্যেই ডাক্তারদের তিনটি টিম গঠন করা হয়েছে।একটি টিম আইসোলেসনে আছে, একটি টিম এখন থেকে আগামী সাতদিন কাজ করার পর কোয়ারেন্টাইনে যাবে এবং অন্য টিমটি কাজে যোগদান করবে। এছাড়াও মঙ্গলবার রাত থেকে যারা আইসোলেশনে আছেন তাদের প্রত্যেকের রক্তের নমুনা দু এক দিনের মধ্যেই আইইডিসিআর-এ পাঠানো হবে।