ডাকাতি করতে গিয়ে স্বর্ণালংকার না পেয়ে মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণ করা হয়েছে আদালতে এমন স্বীকারোক্তি দিলেন অন্যতম অভিযুক্ত যোবায়ের হোসেন সোহাগ। সে উপজেলার মজলিশপুর ইউনিয়নের বিঞ্চপুর গ্রামের সাইফুল রুবেলের ছেলে।
সোমবার রাতে তাকে উপজেলার মজলিশপুর ইউনিয়নের ফাজিলেরঘাট এলাকা থেকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে।
মঙ্গলবারর দুপুরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সোনাগাজী মডেল থানার উপপরিদর্শক নওশের কোরেশী তাকে ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শরাফ উদ্দিন আহমদের আদালতে হাজির করে। অভিযুক্ত সোহাগ ১৬৪ ধারায় অপরাধ স্বীকার করে স্বেচ্চায় জবানবন্দি প্রদান করেন এবং অপর অভিযুক্তদের নাম প্রকাশ করে।
আদালতে সোহাগ স্বীকার করে ৬ জন সংঘবদ্ধ হয়ে ডাকাতির পরিকল্পনা করে। ডাকাতিকালে তারা ৫ হাজার টাকা পেয়েছে। পরে একটি কক্ষে নিয়ে মাদরাসা পড়ুয়া ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করে সে। জবানবন্দি প্রদানের পর সন্ধ্যায় তাকে ফেনী জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
সোনাগাজী মডেল থানার উপপরিদর্শক নওশের কোরেশী জানায়, জবানবন্দিতে সোহাগ ঘটনার সাথে জড়িত মজলিশপুর ইউনিয়নের স্থানীয় বিএনপি নেতা নেতা বাসু মেম্বারের ছেলে সালাউদ্দিন, একই এলাকার শহিদুল ইসলামের ছেলে মনির আহমদ,সাহাব উদ্দিনের ছেলে আবুল হোসেন কালুর নাম প্রকাশ করে।
সোনাগাজী মডেল থানার ওসি সাজেদুল ইসলাম জানিয়েছে, সোহাগের স্বীকারোক্তিতে নাম আসায় আবুল হোসেন কালুকে মঙ্গলবার রাতে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। বুধবার দুপুরে তাকে ফেনীর আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে।
ফেনীর পুলিশ সুপার খন্দকার নুরনবী পিপিএম বলেন, মাদ্রাসা ছাত্রী ধর্ষনের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত সোহাগ দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়ে তার সহযোগীদের নাম প্রকাশ করেন। পলাতক আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যহত রয়েছে।
প্রসঙ্গত; গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে উপজেলার চর মজলিশপুর ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামে এক চা দেকানীর ভাড়া বাসায় হানা দেয় ৫/৬ জন মুখোশধারী সশস্ত্র ডাকাত। ডাকাতরা বাড়ির দরজার ছিটকিনি ভেঙ্গে ভেতরে ঢুকে কাপড় দিয়ে হাত-পা বেঁধে অস্ত্রের মুখে পরিবারের সবাইকে জিম্মি করে ফেলে। এ সময় ঘরে সামান্য টাকা ছাড়া স্বর্ণালংকার না পেয়ে ডাকাতদলের এক সদস্য ওই ব্যবসায়ীর মেয়েকে ঘরের অন্য একটি কক্ষে নিয়ে ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় ৪ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে ওই চা দোকানী বাদি হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে ভিকটিমের শারিরীক পরীক্ষায় ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়। ভিকটিম আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দী দিয়ে তার উপর সযগঠিত অপরাধের আদ্যেপান্ত বর্ননা করেন।
এ ঘটনায় মামলা নিতে গড়িমসি করার অভিযোগে সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মঈন উদ্দিনকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।