চাঁদপুরের আট উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি অবহেলিত উপজেলা হাইমচর। মেঘনা নদীর তীরে অবস্থিত এ উপজেলার অধিকাংশ মানুষই নদীতে মাছ ধরা, কৃষি কাজ করে তাদের জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। করোনাভাইরাসের কারণে কর্মহীন হয়ে পড়েছে নদীভাঙন কবলিত এই উপজেলার ১৫ চরাঞ্চলের অর্ধলক্ষাধিক মানুষ।
এ উপজেলার অধিকাংশ মানুষ দরিদ্রসীমার নিচে বসবাস করে। এতে করে সরকারের দেওয়া সহায়তা পর্যান্ত হচ্ছে না এ এলাকার মানুষের জন্য। আর তাই ব্যক্তি উদ্যোগে সহায়তার করা হচ্ছে অসহায় এই মানুষদের।
এ অঞ্চলের মানুষের ক্ষুধার জ্বালা মেটাতে এগিয়ে এসেছেন হাইমচর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যন নূর হোসেন পাটোয়ারী। অসহায় মানুষের সাহায্যার্থে নিজ উদ্যোগে খুলেছেন দুটি হট লাইন নম্বর।
ফোন পেলেই একদল স্বেচ্ছাসেবীর সহযোগিতায় উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে পৌঁছে দিচ্ছেন খাদ্যসামগ্রী। ৫০ জন স্বেচ্ছাসেবী যুবক তাদের ২৫টি মোটরসাইকেলের মাধ্যমে হটলাইনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী নির্দষ্ট ঠিকানায় খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন।
এক মাসে ১০ হাজার পরিবারের মাঝে চাল, ডাল, আলুসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে জানান আয়োজকরা।
হটলাইনের দায়িত্বে থাকা স্বেচ্ছাসেবক দীপু পাটোয়ারী বলেন, হাইমচর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নূর হোসেন পাটোয়ারীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে এই সহায়তা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত আমাদের দুটি হটলাইন নম্বরে অসহায় মানুষজন কল করে থাকেন। এরপর তাদের ঠিকানা লিপিবদ্ধ করে মোটরসাইকেলে করে তাদের বাড়িতে খাদ্য পৌঁছে দিই আমরা। প্রতিদিন প্রচুর ফোন রিসিভ করতে হয় আমাদের। একটি মুহুর্তের জন্যও আমরা অবসর পাই না। তবু এ কঠিন সময়ে অসহায় মানুষের উপকারে আসতে পেরে আমরা অনেক গর্ব অনুভব করছি। অসহায় মানুষ খাদ্য সহায়তা পেয়ে যেই হাসি দেয়, সেই হাসি দেখার আনন্দ অন্য কিছুতে পাওয়া সম্ভব নয়।
হাইমচর উজেলার কাটাখালী, তেলীরমোড়, দূর্গাপর এলাকার একাধিক ব্যক্তি জানান, চাঁদপুর জেলায় প্রায় একমাস হলো লকডাউন চলছে। আমরা কোনো কাজে যেতে না পারায় অত্যন্ত মানবেতর জীবন-যাপন করছি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে। এ সময় অবস্থায় কারো কাছে হাতও পাততে পারছি না। আমাদের উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হটলাইনের মাধ্যমে খাদ্য সহায়তা দেওয়ায় আমাদের অনেক উপকার হয়েছে। এ সংকট দূর না হওয়া পর্যন্ত এ সেবা অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানাচ্ছি।
হাইমচর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নূর হোসেন পাটোয়ারী বলেন, ‘গত মার্চ মাসে উপজেলার ২ হাজার সাত শ ৫০টি পরিবারের মাধ্যে সরকারিভাবে ৩২ লাখ টাকার খাদ্য সহায়তা দিয়েছি। এ সময় প্রতিটি পরিবারকে চাল, ডাল, আলু, পেঁয়াজ, আটা, লবণসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী দিয়েছি।’
কিন্তু আমার উপজেলায় নিম্নবিত্ত পরিবারের সংখ্যা বেশি হওয়ায় মানুষের সহায়তাও বেশি দরকার পড়ছে। চরাঞ্চলের অসহায় এই মানুষগুলোর কথা চিন্তা করে ৫ এপ্রিল থেকে আমি ব্যক্তিগত উদ্যোগে হটলাইন খুলে মানুষের মাঝে খাদ্য সহায়তা প্রদান করে আসছি। প্রতিদিন ৫০ জন স্বেচ্ছাসেবীর মাধ্যমে অনাহারী মানুষের মাঝে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছি। প্রতিদিনই তিন শ থেকে সাড়ে তিন শ মানুষের মাঝে ১০ কেজি চাল, ১ কেজি ডাল, ২ কেজি আলু ও ১ কেজি পেঁয়াজ দিচ্ছি।
ইতিমধ্যে প্রায় ১০ হাজার মানুষের মাঝে এই সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। আশা করি, যতদিন এই মহামারি দেশে থাকবে, ততদিন আমার এই সহায়তা অব্যাহত থাকবে ইনশাআল্লাহ।