পিছিয়ে গেল ট্রেক বিধিমালা প্রণয়ন

করোনাভাইরাসের কারণে সরকারি সাধারণ ছুটি থাকায় নির্ধারিত সময়ে ট্রেডিং রাইট এনটাইটেলমেন্ট সার্টিফিকেট (ট্রেক) বিধিমালার বিষয়ে জনমত যাচাই করতে পারেনি পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। এ-সংক্রান্ত খসড়া গেজেটও প্রকাশ করতে পারেনি এসইসি। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে নতুন করে জনমত যাচাইয়ের সময়সীমাও নির্ধারণ হয়নি। ফলে বর্তমান কমিশনের আমলে ট্রেক ইস্যুর বিধিমালাটি না হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে আগামী ৫ মে পর্যন্ত দেশব্যাপী সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। এ সময় এসইসিসহ অন্যান্য স্টেকহোল্ডারের অফিস বন্ধ রয়েছে। যদিও সাধারণ ছুটির মধ্যে গতকাল কমিশনের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, সাধারণ ছুটি শেষে অফিস খোলার পর ট্রেক বিধিমালার বিষয়ে জনমত জরিপের জন্য নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে।

জানা গেছে, আগামী ১৪ মে বর্তমান কমিশনের চেয়ারম্যান ড. খায়রুল হোসেনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। খায়রুল হোসেনের সঙ্গে আরেকজন কমিশনারের মেয়াদও প্রায় একই সময়ে শেষ হতে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে একজন কমিশনারের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। ফলে ট্রেক বিধিমালাটি বর্তমান কমিশনের আমলে চূড়ান্ত না হওয়ার আশঙ্কা বেশি। অবশ্য ট্রেক বিধিমালার মাধ্যমে নতুন ব্রোকারেজ লাইসেন্স ইস্যুর বিষয়ে স্টক এক্সচেঞ্জের বেশির ভাগ সদস্যসই বিরোধিতা করছেন। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পর্ষদ খসড়া ট্রেক বিধিমালায় সম্মতি দেওয়ায় সাধারণ সদস্যদের তোপের মুখে রয়েছে তারা। এমন পরিস্থিতিতে পরবর্তী কমিশনের জন্য ট্রেক বিধিমালাটি চূড়ান্তের জন্য রেখে যেতে চায় বর্তমান কমিশন।

বর্তমান কমিশনের মেয়াদ শেষ পর্যায়ে চলে আসায় জরুরি আইন চূড়ান্ত করতে গতকাল সাধারণ ছুটির মধ্যেও কমিশন সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সভাতেই সাধারণ ছুটির পর ট্রেক বিধিমালার খসড়ায় জনমত যাচাইয়ে পরবর্তী সময়সূচি নির্ধারণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। কমিশন সভা শেষে এসইসির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সরকারঘোষিত ছুটির কারণে ট্রেক বিধিমালা, ২০২০-এর খসড়া গেজেট প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া জনমত জরিপের সময় পার হয়ে গেছে। তাই অফিস খোলার পরে জনমত জরিপের নতুন সময়সীমা নির্ধারণ করা হবে।

গত ২৫ মার্চ জনমত যাচাইয়ের জন্য মতামত চেয়ে ট্রেক বিধিমালার খসড়া প্রকাশ করে কমিশন। এতে ১ লাখ টাকা আবেদন ফি এবং ৫ লাখ টাকা নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়। এ ছাড়া ৩ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধন ও ২ কোটি টাকা জামানত থাকার কথা বলা হয়। খসড়ায় পর্ষদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সম্মতি জানিয়েছিল ডিএসই। তবে ওই খসড়ায় তিন জন শেয়ারহোল্ডার পরিচালকের আপত্তি থাকলেও তা কমিশনকে অবহিত করা হয়নি। তিনজন শেয়ারহোল্ডার পরিচালকের পাশাপাশি ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনও (ডিবিএ) আপত্তি জানায় খসড়া ট্রেক বিধিমালার বিষয়ে। ট্রেক বিধিমালার খসড়ায় দেওয়া সম্মতি ডিএসই প্রত্যাহার না করলে পুরো পর্ষদকে অপসারণের হুমকি দেয় ডিবিএ।

স্টক এক্সচেঞ্জেস ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন আইনের ১৬-এর ৫ ধারায় বলা হয়েছে, ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশনের পাঁচ বছর পর স্টক এক্সচেঞ্জ নির্ধারিত পদ্ধতিতে আবেদনকারীর অনুকূলে ট্রেক ইস্যু করবে। কিন্তু সাড়ে ছয় বছর পার হলেও নতুন ট্রেক ইস্যুর বিষয়ে কোনো উদ্যোগ না থাকায় ডিএসইর পর্ষদের সম্মতি নিয়ে ট্রেক ইস্যুর লক্ষ্যে জনমত যাচাইয়ের জন্য খসড়া বিধিমালা প্রকাশ করে এসইসি। কিন্তু প্রধান অংশীজনদের আপত্তির মুখে এসইসি বিধিমালাটি চূড়ান্ত করা থেকে পিছিয়ে এসেছে।