নতুন অ্যান্টিবডি পরীক্ষার অনুমোদন পুরো ইউরোপে

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে মানব শরীরে অ্যান্টিবডি পরীক্ষার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে আপাতত এই পরীক্ষা শুধু ইউরোপে করা যাবে বলে জানিয়েছে দ্য ইনডিপেন্ডেন্ট। গ্লোবাল ডায়াগনস্টিক অ্যাব্বটের যুক্তরাজ্য শাখার গবেষকরা জানান, তারা মে মাসের শেষে গোটা ইউরোপে গবেষণাগারভিত্তিক লাখ লাখ পরীক্ষা উপাদান পাঠানোর আশা করছেন। এই কোম্পানির ডায়াগনস্টিক পরীক্ষাকে সিই মার্ক সনদ দেওয়া হয়েছে।  ইউরোপের নিরাপত্তা নীতিমালার উপযুক্ত হলেই এই সনদ দেওয়া হয়। ফলে এখন থেকে গোটা ইউরোপে প্রতিষ্ঠানটি করোনায় আক্রান্ত রোগীদের অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করতে পারবে।

অ্যান্টিবডি পরীক্ষায় দেখা হয় কারও শরীরে ইতিমধ্যে করোনাভাইরাস রয়েছে কি না। একই সঙ্গে দেখা হয় কারও শরীরে এই ভাইরাস প্রতিরোধী ক্ষমতা (অ্যান্টিবডি) তৈরি হয়েছে কি না। একটি যন্ত্রের মধ্যে এক ফোঁটা রক্ত নিয়ে এ পরীক্ষা করা হয়। এর ফল জানা যায় কয়েক মিনিটের মধ্যে। এক ফোঁটা রক্ত যন্ত্রে থাকা একটি তরল রাসায়নিকের সঙ্গে মেশানো হয় এবং এই পরীক্ষা বলে দেয় যে কারও শরীরে ভাইরাস প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি আছে কি না।

যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যিক ভিত্তিতে করোনাভাইরাস অ্যান্টিবডি পরীক্ষার কিট তৈরিতে অনুমোদন দিয়েছে। দ্রুত উৎপাদনের জন্য আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের বিষয়টি এড়িয়ে গেছে দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। মানুষ যাতে পুনরায় কাজে যোগ দিতে পারে, সে জন্য করোনাভাইরাস অ্যান্টিবডি পরীক্ষায় জোর দিচ্ছে ব্রিটিশ সরকারও। তবে এই পরীক্ষার মাধ্যমে শতভাগ সফলতা পাওয়া যাবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

অ্যাব্বটের উত্তর ইউরোপের ডায়াগনস্টিক বিভাগের নির্বাহী প্রধান মাইক ক্লেইটন বলেন, ‘মহামারী মোকাবিলায় করোনায় আক্রান্তদের পরীক্ষা দ্রুতগতিতে করার ব্যাপারে মনোযোগী অ্যাব্বট। অবিলম্বে অ্যান্টিবডি পরীক্ষা সরবরাহ করতে পেরে আমরা গর্বিত। এর মাধ্যমে জানা যাবে ভাইরাসটি কতটা ছড়িয়েছে এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে আমাদের কতটা সময় লাগবে।’

২১ এপ্রিল সায়েন্স ম্যাগাজিনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, নেদারল্যান্ডস ও যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি অঞ্চলে অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করে দেখা গেছে নির্দিষ্ট জনসংখ্যার প্রায় ২ থেকে ৩০ শতাংশ মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। পরিসংখ্যানটি বলছে, নিশ্চিত করোনা রোগীর যে সংখ্যাটা আমরা জানতে পারছি, তার তুলনায় প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা অনেক বেশি। অধিকাংশের দেহেই হালকা সংক্রমণ হয়েছে, মৃদু উপসর্গ দেখা গেছে। তবে অ্যান্টিবডি টেস্ট ও প্রাপ্ত ডেটা নিয়ে অনেক বিজ্ঞানী সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।