বাংলাদেশে কভিড-১৯ নিয়ে ভ্রান্ত ধারণা, অসহিষ্ণুতা ও মানসিক স্বাস্থ্য

নভেল করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) একটি বৈশ্বিক মহামারী যা খুব দ্রুত একটি ভয়াবহ বোঝা হয়ে উঠছে মানবস্বাস্থ্যের উপর- যার অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে শারীরিক, মানসিক ও মনোসামাজিক স্বাস্থ্য, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এবং কার্যকরী ও যথাযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণে দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ, দ্রুত সাড়া দান নীতিমালা এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা সম্পর্কিত তথ্য। দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রত্যাশিত ধারাবাহিকতার অভাব, পর্যাপ্ত দক্ষতা, স্বচ্ছতা, বস্তুনিষ্ঠতা, সহমর্মিতা ও দায়িত্বশীলতার অভাব জনমনে অবিশ্বাস ও ভয় সৃষ্টির প্রতিষ্ঠিত নিয়ামক । অন্যদিকে জনগণ যখন বিশ্বস্ত ও সহজলভ্য মাধ্যমে যথাসময়ে দুর্যোগকালীন জরুরি সেবার প্রাপ্যতার সাথে ঝুঁকি ও দায়িত্ব বুঝতে সক্ষম হয়, তখন তারা  বুঝতে পারে প্রস্তাবিত স্বাস্থ্য, পরিচ্ছন্নতা অথবা সামাজিক আচার যার অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে সজ্ঞানে সিদ্ধান্ত  গ্রহণ, নিজেদের সুরক্ষার জন্য  শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার মত পদক্ষেপ। একই সময়ে ভুল তথ্য ও অযাচিত তথ্য, ভ্রান্ত ধারণা এবং গোষ্ঠীর আচরণ (যেমন খাবার বা টয়লেট পেপার মজুদ করা) তদারকি করতে হবে যাতে আলোচ্য গোষ্ঠীতে এগুলোর প্রাদুর্ভাব বোঝা যায় এবং এর সম্ভাব্য উৎস শনাক্ত করতে হবে। বিশ্বস্ত জাতীয় কর্তৃপক্ষ, এবং অন্যান্য অংশীদার, যেমন বিশ্বস্ত গণমাধ্যম, সরকারি প্রতিনিধিদের উচিত প্রয়োজনীয় তথ্যের উপর মূল্যবান আলোকপাত করা, নির্দিষ্ট  ঘটনার প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ (যেমন ভ্রান্ত ধারণা ও বৈষম্য), এবং কোন জনগোষ্ঠীর প্রতি  বিশেষ নজর দিতে হবে কিনা সেটা দেখা যাদের অন্তর্ভুক্ত শিশু, যুবক, প্রান্তিক ও সংকটাপন্ন জনগোষ্ঠী।

বাংলাদেশ যা ৮ মার্চ ২০২০ তারিখে নিজেদের প্রথম কভিড-১৯ আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত করে যা ১ মে ২০২০ এসে দাঁড়িয়েছে ৮২৩১ জন শনাক্ত, ১৭০ জন মৃত এবং ১৭৪ জন সুস্থ। টেস্ট করার সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে আক্রান্তের হারও প্রতিদিন বেড়ে চলছে এবং এখনো সুস্থ হবার হার খুবই কম হওয়ায় খুব অল্প সময়ে এই সংকট উত্তরনের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না আপাতত। গত সপ্তাহের গোড়ার দিক থেকে ঢিলেঢালা হয়ে আসতে শুরু করেছে লকডাউন, স্বল্প পরিসরে খুলেছে অনেক পোশাক কারখানা ও অনান্য ব্যবসা, এখন দেখার বিষয় এর প্রতিক্রিয়া কতটা কঠিন হয় সামনের দুই সপ্তাহ।

যদিও বাংলাদেশে কভিড-১৯ এর সংক্রমণ ও মৃত্যু সংখ্যাগত দিক দিয়ে তুলনামূলকভাবে কম, তবুও সীমিত প্রশাসনিক ও অবকাঠামোগত সুবিধা, দুর্বল তদারকি এবং চারদিকে আতংক ও ভ্রান্ত ধারণার জন্য দেশটি এর নিশ্চিত ও উপসর্গযুক্ত ব্যক্তিবর্গকে নিয়ন্ত্রণ করতে সংকট ও নানাবিধ প্রতিকূলতার সম্মুখীন হচ্ছে। চার ধরণের মানুষ বৈষম্যের স্বীকার হচ্ছেন যার সাথে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের মিল রয়েছে, যেটি একজন স্বনামধন্য ভারতীয় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের বর্ণনায় প্রতীয়মান হয়েছে।

প্রথমত, কভিড-১৯ শনাক্ত ব্যক্তি ও তার পরিবার – যারা কোয়ারান্টাইন অথবা আইসোলেশনে আছেন, তাদের টেস্টে পজিটিভ আসুক আর নাই বা আসুক- অনেক আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তাদের বাসস্থানের বর্ণনা দিয়ে, রঙিন স্টিকার দিয়ে তাদের বাসার দরজা চিহ্নিত করে অবধারিতভাবে চিকিৎসা শিষ্টাচার লঙ্ঘন করছেন, এবং এমনকি সামাজিক গণমাধ্যমে এমন ঘটনাও আসছে যে কোনো ব্যক্তি সামান্য থেকে মোটামুটি লক্ষণ/উপসর্গ প্রকাশের পর তাকে বাসা থেকে বের করে দেয়া হচ্ছে।

দ্বিতীয়ত, সামনের সারির স্বাস্থ্যসেবা কর্মীরা ডাক্তার থেকে শুরু করে নার্স, মেডিকেল টেকনিশিয়ান, হাসপাতাল পরিচ্ছন্নকর্মীরা আরও বেশি ভ্রান্ত ধারণা ও বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। অনেক ডাক্তারকে তার বাড়ির মালিক সংক্রমণ বিস্তার ঠেকাতে যত দ্রুত সম্ভব বাসা ছাড়তে বলছেন।

তৃতীয়ত, তাদের চাকরির ধরণের জন্য পুলিশগণও সংক্রমণ ছড়াতে পারেন এরকম ভাবা হচ্ছে।

চতুর্থত, যারা প্রথাগত বৈষম্যের শিকার যেমন গৃহকর্মী, গার্মেন্টস কর্মী, বস্তিতে বসবাসকারী, গণপরিবহণের কর্মী এবং অতি দরিদ্র জনগোষ্ঠী নির্বিশেষে বৈষম্য ও ভ্রান্ত ধারণার শিকার হচ্ছেন।

পরিণামস্বরূপ মার্চের ২৮ তারিখে তেজগাঁও এলাকায় কভিড-১৯ রোগীদের জন্য নির্মাণাধীন একটি অস্থায়ী হাসপাতাল স্থানীয়রা ধ্বংস করে ফেলেন। মজার বিষয়, সপ্তাহখানেক আগে চীনের উহানে  একইরকম একটি অন্তর্র্বতীকালীন হাসপাতাল এবং লন্ডনের একটি অডিটোরিয়ামকে কভিড হাসপাতাল বানানোর খবরের সকলেই প্রশংসা করেছিল, কিন্তু যখন একই জিনিস ঢাকায় হওয়ার কথা আসে, তখন স্থানীয়রা বিষয়টি অন্যভাবে নেয় এবং উগ্রভাবে আচরণ করে। সম্প্রতি সংবাদপত্রে প্রকাশিত একটি লেখায় বলা হয় যে স্থানীয়দের মধ্যে ভয় ছিল যে হাসপাতালটি সকলের মাঝে সংক্রমণ ছড়াতে পারে। উত্তরার দিয়াবাড়িতে স্থানীয়রা একই ধরণের বিক্ষোভ করে সেখান থেকে কোয়ারান্টাইন সেন্টার পরিচালনার একটি সরকারি পরিকল্পনা বন্ধ করে দেয়। ঢাকার খিলগাঁও কবরস্থানের প্রবেশমুখে একটি অমানবিক ব্যানার টানানো ছিল, যাতে লেখা ছিল যে কোনো কভিড-১৯ পজিটিভ রোগী অথবা সন্দেহভাজনের লাশ সেখানে দাফন করা যাবে না। তারা এমনকি সরকারের দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করে যাতে তারা এই ঘোষণাটি বাস্তবায়ন করতে পদক্ষেপ নেয় যাতে স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। আমরা যদি ঢাকার বাইরে তাকাই, মানিকগঞ্জ, মাদারীপুর ও গাজীপুরে পুলিশ লকডাউন বাস্তাবায়নের সময় বিক্ষোভের মুখোমুখি হয়েছে। বগুড়াতে কোভিড-১৯ এর লক্ষণযুক্ত একজন ব্যক্তির দাফনের সময় পুলিশ স্থানীয়দের বাঁধার মুখোমুখি হয়েছে। যেহেতু কভিড-১৯ এ আক্রান্ত ব্যক্তি ও মৃতের সংখ্যা বাড়ছেসামনের দিনগুলোতে জনমনে আতংক, দুঃচিন্তা ও বৈষম্য বৃদ্ধি পেতে দেখার যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে। 

বাংলাদেশে কোভিড-১৯ কে ঘিরে ভ্রান্ত ধারণার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হচ্ছে এই নতুন ভাইরাসটি সম্পর্কে জ্ঞানের ঘাটতি। বিশ্বজুড়ে প্রচুর ভুয়া খবর ও মিথ্যা তথ্যের ছড়াছড়ি বিষয়টিকে আরও গভীর করে তুলেছে। ডব্লিউএইচও এই মহামারীর মধ্যে এই ভুয়া খবরের বিস্তারকে ইতিমধ্যে অতিরিক্ত তথ্য  হিসেবে ঘোষণা করেছে এবং তারা অনুমান করছে যে বিকৃত ও অবৈজ্ঞানিক তথ্য ভাইরাসের চেয়েও দ্রুত ছড়াচ্ছে। এইসব কারণের ভিত্তিতে, মানুষ ভুলবশত যেকোনো ফ্লু এর উপসর্গকে কভিড-১৯ ভাবছে; ভুল করে এই বিশ্বাস জন্মাচ্ছে যে এই ভাইরাস আক্রান্ত সকল ব্যক্তিকেই মেরে ফেলবে অথবা কোভিড-১৯ একটি বায়ুবাহিত রোগ, ভাইরাসটি গলার ভিতরে কয়েকদিন থাকে বা ২৩ ডিগ্রি বা তার চেয়ে বেশি তাপমাত্রা ভাইরাসটিকে মেরে ফেলবে তাই গরম, নাতিশীতোষ্ণ দেশে কিছুই হবে না এসব ভুল ধারণা জন্মাচ্ছে।

সামাজিক গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পরা গুজব, খ্যাতি অর্জনের চেষ্টা/ সামাজিক গণমাধ্যমে পরিচিতি এবং রাষ্ট্রের কর্তাব্যক্তিরা একটি মহামারী রুখতে সক্ষম নন এরকম দাবী করা ভুয়া রিপোর্টের ভিত্তিতে রোগটি সম্পর্কে যে ধারণা জন্মেছে তা জনমনে দুর্বলতা তৈরি করেছে। এই ভয়, শুধু আক্রান্ত ব্যক্তির শারীরিক ক্ষতি বা প্রিয়জনকে হারাবার মাঝেই সীমাবদ্ধ নয়, সংকট পরবর্তী সময়ে বেঁচে থাকার অনিশ্চয়তাও এর অন্তর্ভুক্ত। সর্বোচ্চ পর্যায়ে দৃশ্যমান সমন্বয়হীনতা, কর্তৃপক্ষের অসংলগ্ন বক্তব্য, প্রস্তুতি পরিকল্পনায় জটিলতা সেই সাথে দেশজুড়ে সামগ্রিক লকডাউন এই গণ আতংক তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে। এতে আরও ভূমিকা রেখেছে সংক্রমণ কমানোর জন্য ব্যবহৃত মাধ্যম কোয়ারান্টাইন ও আইসোলেশনের সম্পর্কে কম ধারণা। যদিও এই পদ্ধতিগুলো রোগে আক্রান্তের হার কমাতে খুবই কার্যকরী কিন্তু জনগণকে এগুলোর সাথে পরিচিত করতে কোন দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা যায়নি। সরকারের কিছু পদক্ষেপ ও এই সমস্ত দৃষ্টিভঙ্গি সৃষ্টিতে ভূমিকা রেখেছে। প্রথমদিকে, দেশের বাইরে থেকে আসা ব্যক্তিদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা তখনই বাধ্যতামূলক ছিল যদি তারা চীন থেকে আগত হয়ে থাকেন। তার উপর আবার সরকারি নির্মাণ প্রকল্পে কর্মরত চীনা কর্মচারীদের ছুটিতে পাঠানো হয়। ফলস্বরূপ, সাধারণ মানুষ চীনাদের মত কাউকে দেখলেই ভয় পাচ্ছিল বা সন্দেহ করছিল, তাদের জাতীয়তা যাই হোক না কেন বা বাস্তবিক কোন ঝুঁকি থাকুক বা না থাকুক। চীনের বিরুদ্ধে অনেক ষড়যন্ত্র তত্ত্বও এই আচরণ তৈরিতে ভূমিকা রাখে।

পরবর্তীতে, সরকার যখন বিদেশ থেকে আগত সকলের পরীক্ষা শুরু করে তখন এই ভ্রান্ত ধারণাগুলো বিদেশ থেকে আগত সকলের দিকে ধাবিত হতে থাকে বিশেষ করে ইতালি, ইরান, ফ্রান্স এবং আমেরিকা ফেরতদের প্রতি। বর্তমানে, মানুষ বিদেশ থেকে আগত কারো সাথেই সাক্ষাৎ করতে চাচ্ছেন না এমনকি তারা ১৪ দিনের কোয়ারান্টাইন পালন করার পরেও। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে আইন বাস্তবায়নে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গ বিদেশ ফেরতদের বাড়ি লাল পতাকা দিয়ে চিহ্নিত করে দিচ্ছেন। এধরণের পদক্ষেপ ব্যাপক আকারে ভ্রান্ত ধারণা ও বৈষম্য সৃষ্টি করেছে। উপসর্গযুক্ত অনেকেই স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত ব্যক্তির কাছে তাদের ভ্রমণ বিষয়ে তথ্য গোপন করেছেন যার ফলে তার এলাকা পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং লকডাউন হয়েছে। সংক্রমণের আতংক এত বৃদ্ধি পেয়েছে যে ঋতুভিত্তিক ফ্লুকে কভিড-১৯ মনে করা হচ্ছে এবং সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে নিয়মিত রোগীদের দেখাশোনা, সার্জারি করতে ডাক্তারদের প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। জনগণ, ডাক্তার/সামনের সারির স্বাস্থ্যসেবা কর্মী, স্বাস্থ্য প্রশাসক ও সাংবাদিকদের মাঝে বিরোধ বেড়ে যাওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে এবং এটি একটি ভয়াবহ সংকটের রূপ ধারণ করতে পারে কেননা সীমিত সরঞ্জাম (যেমন পিপিই এর অভাব) ইতিমধ্যেই ডাক্তারদের মাঝে হতাশা সৃষ্টি করেছে।

ডব্লিউএইচও এই রোগের গতিপথকে অনিশ্চিত ঘোষণা করেছে এবং এই মুহূর্তে জনগণের কাছে সঠিক তথ্যটা পৌঁছানো গুরুত্বপূর্ণ। সামাজিক ভাবে হেয় প্রতিপন্ন ও বৈষম্যের শিকার হওয়ার ভয়ে প্রাথমিক লক্ষণ গোপন করার গণ প্রবৃত্তি সংক্রমণ আরও বাড়াবো। পূর্বের সার্স মহামারী থেকে প্রতীয়মান হয় যে আতংক কমাতে হলে ভ্রান্ত ধারণার বিস্তার ও কমাতে হবে। বাংলাদেশের মতো দেশে ভ্রান্ত ধারণা ও বৈষম্য প্রতিরোধ করতে হলে সরকারকে স্বচ্ছ, পূর্ণাঙ্গ ও সঠিক তথ্যের সমন্বয়ে জোরদার গণপ্রচারণা করতে হবে। এক্ষেত্রে জনপ্রিয় রাজনৈতিক, ক্রীড়া ও বিনোদন জগতের ব্যক্তিত্বদের যুক্ত করা কার্যকরী হতে পারে।   তবে আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপট ভালোভাবে বিশ্লেষণ না করে শুধুমাত্র সঠিক তথ্য প্রবাহ নিশ্চিত করে এই ভয়াবহ আতংক, জনগণের মাঝে গোষ্ঠীগত ও শ্রেণী বৈষম্য দূর করা সম্ভব না, এই ভ্রান্ত ধারণা ও বৈষম্য দূর করা বুঝতে হলে অন্তঃনিহিত নিয়ামকগুলো  ও খুঁজে দেখতে হবে।

এই অনিশ্চয়তা, ভয় ও মানসিক চাপের মাঝে বাংলাদেশ ও একই ধরণের সীমিত সম্পদের ব্যবস্থায় কভিড-১৯ সংক্রান্ত ভীতি মোকাবেলায় খুব অল্প রাস্তাই খোলা আছে, রাষ্ট্র স্বীকৃত তথ্য উৎস থেকে যাচাইকৃত তথ্য সরবরাহ করাই হচ্ছে ইনফোডেমিক প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকরী পদ্ধতি। অতএব, গুজব, মিথ্যাচার ও ষড়যন্ত্র প্রতিরোধে একই সাথে সামাজিক গণমাধ্যম তদারকি ও তাৎক্ষনিক আইনি ব্যবস্থা নেয়া জরুরি। এখন পুরো বিশ্বই গোত্র, লিঙ্গ, বয়স অথবা আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট নির্বিশেষে একই ধরণের লক্ষণ নিরীক্ষাসূচি এবং প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।  সাম্প্রতিক এক গবেষণায় যেভাবে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছেসেভাবে আমরাও আশাবাদী যে কোভিড-১৯ এর বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতিমনা মানুষকে একসাথে এনে বদ্ধমূল ও ভ্রান্ত ধারণা কমানোর এবং গবেষণালব্ধ প্রমাণের ভিত্তিতে পরামর্শ  ও সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে সামাজিক পরিবর্তন ও সামাজিক ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠার  সুযোগ আছে।  

লেখকগণ: চিকিৎসক, মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক গবেষক এবং আইন বিশেষজ্ঞ।