এপ্রিলে করোনার ভয়াল রূপ

দিনে ৬৫১৩ মৃত্যু শনাক্ত ৮৪ হাজার

করোনাভাইরাসের ভয়াল রূপ দেখল এপ্রিল। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে মহামারী রূপ নেওয়া এই ভাইরাসে মাসটির ৩০ দিনে মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ ৯৫ হাজার ৪০৫ জনের। আর আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে ২৫ লাখ ৪৩ হাজার ৯৪৬ জন। এই হিসাবে মাসটিতে প্রতিদিন গড়ে ৬ হাজার ৫১৩ জন করে করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে। আর দিনে শনাক্ত হয়েছে ৮৪ হাজার ৪৯৮ জন করে রোগী। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটার এবং জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যমতে মাসটিতে কোনো কোনো দিন মৃত্যুর সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে ৮ হাজার। শনাক্ত রোগীর সংখ্যাও লাখ ছাড়িয়েছে একাধিক দিন। 

এখনো ভাইরাসটির কোনো প্রতিষেধক ও ওষুধ আবিষ্কৃত না হওয়ায় চলতি মাসেও এই ধারা অব্যাহত থাকার আশঙ্কা করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। পাশাপাশি যেসব দেশ লকডাউন তুলে নেওয়ার চিন্তা করছে তাদের নতুন করে বিপর্যয়ে পড়ার আশঙ্কা করছে সংস্থাটি। জাতিসংঘের এই সংস্থাটি বলছে, করোনার বিরুদ্ধে চলমান লড়াই আমাদের আরও দীর্ঘ সময় ধরে চালিয়ে যেতে হবে। 

গেল বছর শেষ দিন চীনের উহানে ভাইরাসটির প্রথম রোগী শনাক্ত হওয়ার পর প্রথম মাসে তুলনামূলক কম ছড়ালেও ফেব্রুয়ারি থেকে ভয়াবহ রূপ নিতে শুরু করে ভাইরাসটি। ৩১ জানুয়ারি বিশ্বজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সব দেশের সরকারকেই সতর্ক হওয়ার আহ্বানও জানায় সংস্থাটি। তবে ফেব্রুয়ারিতে ভাইরাসজনিত রোগ কভিড-১৯ ছড়ানোয় নতুন মাত্রা পায়। চীনের অবস্থা ভয়াবহ হতে শুরু করে। মার্চে বিশ্বজুড়ে আক্রান্ত আর মৃত্যুর পালে লাগে হাওয়া। ১১ মার্চ করোনাভাইরাসকে ‘বৈশ্বিক মহামারী’ ঘোষণা করে ডব্লিউএইচও। কিন্তু অপ্রতিরোধ্য ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বজুড়ে। মার্চ মাসেই রোগটিতে বিশ্বে আক্রান্ত হয় ৭ লাখ ৫০ হাজার ২৮৫ জন। আর মারা যায় ৩৮ হাজার ২৩ জন। মাসটিতে প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ৩০০ জন করে মারা গেলেও এপ্রিলে এসে সে হার বেড়ে যায় আরও ভয়ংকর রূপে। ওই মাসের প্রথম ১৫ দিনে বিশ্বজুড়ে মারা যায় ৯৬ হাজারের বেশি মানুষ। আর শনাক্ত হয় ১২ লাখ ৩২ হাজার ৬২০ রোগী। পরে ১৫ দিনই এক হারে বেড়ে ৩০ তারিখ শেষে মৃত্যু আর শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় যথাক্রমে ২ লাখ ৩৯ হাজার ৪৪৮ এবং ৩৩ লাখ ৯৮ হাজার ৯৪ জনে। 

এর আগের গত ৩১ মার্চ বিশ্বে মোট করোনা রোগী ছিল ৮ লাখ ৫৯ হাজার ৭৯৮ জন। আর ওইদিন পর্যন্ত মোট মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৪২ হাজার ৩২০ জন। এর মধ্যে কেবল মার্চ মাসেই রোগটিতে বিশ্বে আক্রান্ত হয়েছে ৭ লাখ ৫০ হাজার ২৮৫ জন। আর মারা গেছে ৩৮ হাজার ২৩ জন।

ওই হিসাবে মাসটিতে প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ৩০০ জন করে মানুষ মারা যায় করোনায়। আর আক্রান্তদের মধ্যে প্রতিদিন গড়ে শনাক্ত হয়েছে ২৪ হাজার ২০২ জন রোগী। এরও আগের মাস ফেব্রুয়ারির শেষ দিন পর্যন্ত (২৯ ফেব্রুয়ারি) বিশ্বে এ রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৮৬ হাজার ৬০৪ জন। আর মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৯৭৭ জন।

এদিকে গতকাল শনিবার রাতের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী বিশ্বজুড়ে এই মহামারীতে নতুন আক্রান্তদের মধ্যে শনাক্ত হয়েছে ৩৪ লাখ ১৭ হাজার ৯০৩ জন। আর মৃত্যু হয়েছে ২ লাখ ৩৯ হাজার ৯২০ জনের। গতকাল পর্যন্ত আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হয়েছে ১০ লাখ ৮৯ হাজার ১৯২ জন। চিকিৎসাধীন আছে মোট ২০ লাখ ৮৮ হাজার ৭৯১ জন। এদের মধ্যে ৫১ হাজার ২১৭ জনের অবস্থা গুরুতর। 

এখন পর্যন্ত ১১ লাখ ৩৫ হাজার ৯৮৪ জন আক্রান্ত নিয়ে তালিকার শীর্ষে আছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি মৃত্যুর তালিকায়ও শীর্ষে। সেখানে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৫ হাজার ৯৬০ জনে। আক্রান্তের সংখ্যায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা স্পেনে এখন করোনা রোগীর সংখ্যা ২ লাখ ৪৫ হাজার ৫৬৭ জন। মারা গেছে ২৪ হাজার ১০০ জন। তবে মৃত্যুর সংখ্যায় ইতালি আছে স্পেনের আগে। দেশটিতে মারা গেছে ২৮ হাজার ২৩৬ জন। আর আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৭ হাজার ৪২৮ জনে। যুক্তরাজ্যে মৃত্যুর সংখ্যা ২৭ হাজার ৫১০ জন, আক্রান্ত ১ লাখ ৭৭ হাজার ৪৫৬ জন। ফ্রান্সে মারা গেছে ২৪ হাজার ৫৯৪ জন। আক্রান্ত ১ লাখ ৬৭ হাজার ৩৪৬ জন।

ইউরোপের আরেক দেশ জার্মানিতে শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৬৪ হাজার ৩১৬ জন। দেশটিতে গতকাল পর্যন্ত মারা গেছে ৬ হাজার ৭৩৬ জন।

নেদারল্যান্ডসে আক্রান্তের সংখ্যা ৪০ হাজার ২৩৬ আর মৃত্যু হয়েছে ৪ হাজার ৯৮৭ জনের। বেলজিয়ামেও রোগীর সংখ্যা ৪৯ হাজার ৫১৭ জন। মারা গেছে ৭ হাজার ৭৬৫ জন।

সুইজারল্যান্ডে আক্রান্ত ২৯ হাজার ৮১৭, মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ৭৬০ জনের। তুরস্কে ১ লাখ ২২ হাজার ৩৯২ জন আক্রান্ত। ৩ হাজার ২৫৮ জন মারা গেছে। সুইডেনে ২২ হাজার ৮২ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। মারা গেছে ২ হাজার ৬৬৯ জন।  রাশিয়ায় ১ লাখ ২৪ হাজার ৫৪ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। তবে মারা গেছে ১ হাজার ২২২ জন।

কানাডায় রোগীর সংখ্যা ৫৫ হাজার ৫৭২। মারা গেছে ৩ হাজার ৪৪৬ জন। ব্রাজিলে ৯২ হাজার ৬৩০ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। মৃত্যুর সংখ্যা ৬ হাজার ৪৩৪ জন।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরানে আক্রান্তের সংখ্যা ৯৬ হাজার ৪৪৮ আর মৃত্যু হয়েছে ৬ হাজার ১৫৬ জনের। ভাইরাসটির উৎসস্থল চীনে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৮২ হাজার ৮৭৫ এবং মৃত্যুর সংখ্যা ৪ হাজার ৬৩৩ জন।

এছাড়া অনেক দেশেই রোগীর সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়িয়েছে আর মারা গেছে হাজারেরও বেশি।