করোনাভাইরাসে সৃষ্ট কভিড-১৯ রোগে আরেক পুলিশ সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শনিবার ভোরে সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) সুলতানুল আরেফিনের (৪৪) মৃত্যু হয়। তিনি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট (পিওএম) পশ্চিম বিভাগে কর্মরত ছিলেন। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত করোনায় পুলিশের ৫ সদস্যের মৃত্যু হলো।
পুলিশ সদর দপ্তরের কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন। তারা আরও জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৩৯ পুলিশ সদস্য। সব মিলে শুরু থেকেই করোনা প্রতিরোধে মাঠে থাকা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের ৭৪১ সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন। আর আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসায় সতর্কতা হিসেবে কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ১ হাজার ২৫০ জন। ইতিমধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৫৭ জন।
সংশ্লিষ্ট কর্তকর্তারা বলছেন, করোনাসংকটের প্রথম থেকেই বিদেশফেরতদের অবস্থান শনাক্ত করে কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত, আক্রান্তদের হাসপাতালে পাঠানো, লকডাউন ও শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করা, ত্রাণ বিতরণ, মরদেহের দাফন ও সৎকার করতে হচ্ছে পুলিশের এসআই, এএসআই ও কনস্টেবলদের। সরাসরি মাঠপর্যায়ে এসব কাজ করতে গিয়ে তাদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সারা দেশে পুলিশের ২ লক্ষাধিক সদস্য বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে নিরন্তর সেবা দিচ্ছেন। নিজেদের সুরক্ষার জন্য প্রথমত তাদের সচেতন করা হয়েছে। দ্বিতীয় সিনিয়র কর্মকর্তারা নিয়মিত পুলিশ লাইনসে গিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলছেন।
পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) সোহেল রানা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের পাঁচ সদস্য ইতিমধ্যে করোনায় মারা গেছেন। আমরা তাদের জন্য গর্বিত। এই ত্যাগ ও এই শোককে শক্তিতে পরিণত করে আমাদের প্রত্যেক সদস্য সাধারণ মানুষের পাশে থাকবেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তায় পর্যাপ্ত সুরক্ষাসামগ্রী দেওয়া হয়েছে এবং প্রতিনিয়তই দেওয়া হচ্ছে। আর ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।’