সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পাড়কোলা এলাকায় কাউন্সিলর বেল্লাল হোসেনের সমর্থকদের সঙ্গে সাবেক কাউন্সিলর মোস্তাফিজুর রহমান পীযূষের সমর্থকদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আধিপত্য বিস্তার নিয়ে পূর্ববিরোধের জের ধরে গত শুক্রবার ভোরে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ, ৩টি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ঘণ্টাব্যাপী এ সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হয়। আহতদের উদ্ধার করে শাহজাদপুর ও সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ বিষয়ে সাবেক কাউন্সিলর মোস্তাফিজুর রহমান পীযূষ বলেন, কাউন্সিলর বেল্লাল হোসেন নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে এলাকায় সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। হাট-ঘাট, সরকারি পুকুর-জলাশয় তার দখলে নিয়েছেন। এলাকার নিরীহ কৃষকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ফসলি জমির ওপরের অংশের মাটি দু-তিন ফুট গভীর করে জোরপূর্বক কেটে নিয়ে ইটভাটায় সরবরাহ করে অঢেল অবৈধ অর্থ-সম্পদের মালিক হয়েছেন। গ্রামের নিরীহ কৃষকরা তার কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন। ঘটনার দিন ভোরে বিনা কারণে ককটেল ফাটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে আমাদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে শেরশাহ ও দুলু বেগমের বাড়ি ও ফড়িং ডাক্তারের ডিসপেনসারি ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে। এ ছাড়া বেধড়ক মারপিট করে আমাদের ১০-১৫ জনকে আহত করেছে।
তবে কাউন্সিলর বেল্লাল হোসেন বলেন, সাবেক কাউন্সিলর মোস্তাফিজুর রহমান পীযূষ এলাকার একজন শীর্ষ সন্ত্রাসী। তাদের অপকর্মের শেষ নেই। গত নির্বাচনে তিনি আমার কাছে হেরে গিয়ে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। আগে জোরপূর্বক গ্রামের সরকারি পুকুর জলাশয় দখল করে খেতেন। এখন আর তা পারেন না। নিয়ম অনুযায়ী লিজ নিয়ে সেখানে মাছ চাষ করা হয়। আর অগ্রিম টাকা দিয়ে জমির মাটি কিনে বৈধভাবে ব্যবসা করি। এতে প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে আমার নামে অপবাদ দিচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, শুক্রবার ভোরে আমার দুই সমর্থক তাদের বাড়ির সামনে দিয়ে কাজে যাচ্ছিল। এ সময় তারা হামলা চালিয়ে তাদের বেধড়ক মারপিট করে গুরুতর আহত করে। এ খবর গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত জনতা তাদের ধাওয়া করে। আমি তাদের ঠেকানোর চেষ্টা করেছি।
শাহজাদপুর থানার ওসি আতাউর রহমান বলেন, এ ঘটনায় ৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর বেল্লাল হোসেনের পক্ষ থেকে তার ভাই হেলাল উদ্দিন ৬৭ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেছেন। সাবেক কাউন্সিলর পীযূষের পক্ষের কেউ মামলা করতে থানায় আসেনি। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় পুলিশ টহল জোরদার করা হয়েছে।