করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে গতকাল সোমবার রাজধানীর খিলগাঁওয়ে পাঁচতলা বাড়ির ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে পুলিশের এক কনস্টেবল আত্মহত্যা করেছেন। তোফাজ্জল হোসেন (৪০) নামের ওই পুলিশ সদস্য বিশেষ শাখার (এসবি) প্রটেকশনে বিভাগে কর্মরত ছিলেন।
খিলগাঁও থানার ওসি মশিউর রহমান তার আত্মহত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ওসি বলেন, ‘করোনা উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর তোফাজ্জল করোনা পরীক্ষা করা হয়। গত ২৯ এপ্রিল পরীক্ষার রিপোর্ট ‘নেগেটিভ’ আসে। বিষয়টি নিয়ে তার স্ত্রীর কাছে সন্দেহ প্রকাশ করেন। তিনি ধারণা করতে থাকেন তার পরীক্ষার ফল সঠিকভাবে আসেনি বা তিনি আবারও করোনায় আক্রান্ত হতে পারেন। এভাবে টেনশন করতে করতে মানসিকভাবে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন তোফাজ্জল। এক পর্যায়ে খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দেন। ঠিকমতো ঘুমাতেন না। এমনকি কয়েক দিন থেকে তার পায়খানা হতো না।’
নিহতের স্ত্রীর বরাত দিয়ে ওসি আরও জানান, ‘সোমবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে তোফাজ্জল বাসা থেকে দরজা খুলে বের হন। বাসার বাইরে থেকে দরজা লাগিয়ে দেন। এর কিছু সময় পর পাঁচতলার ছাদ থেকে ভারী কিছু পড়ে যাওয়ার শব্দ পান তার স্ত্রী। বাসার অন্যরা বের হয়ে দেখেন বাসার সামনের রাস্তায় তোফাজ্জলের রক্তাক্ত লাশ পড়ে আছে। পরে থানা পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
নিহত তোফাজ্জলের ছোট ভাই মো. মামুন জানান, তাদের গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া নবীনগর উপজেলার কনিকারা গ্রামে। দুই মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে তিলপাপাড়ায় একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন তার বড় ভাই। অনেক দিন ধরেই তার স্ত্রীর সঙ্গে মনোমালিন্য ছিল। সেই সঙ্গে দেশে করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণেও দুশ্চিন্তায় ছিলেন। এ দুশ্চিন্তা থেকে গত ২৮ এপ্রিল করোনাভাইরাস পরীক্ষা করেন। পরীক্ষায় তার রিপোর্টে নেগেটিভ আসে। এরপরও চিন্তামুক্ত হতে পারেননি। এসব নানা বিষয় নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেছেন তিনি।
দেশে করোনা ছড়িয়ে পড়ার পর সাধারণ মানুষের পাশাপাশি চিকিৎসক এবং নার্সের পর পুলিশ সদস্যরা করোনা আক্রান্ত হচ্ছেন বেশি। গতকাল পর্যন্ত করোনায় পাঁচ পুলিশ সদস্যের মৃত্যু হয়েছে।