ঈদে থাকতে হবে কর্মস্থলেই, ছুটি ১৬ মে পর্যন্ত

করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে চলমান সাধারণ ছুটি আরও ১১ দিন বাড়ানো হয়েছে। জরুরি সেবাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে আওতার বাইরে রেখে শর্তসাপেক্ষে ৬ থেকে ১৬ মে পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল সোমবার সাধারণ ছুটি বাড়ানোর প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এর আগে ৫ মে পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করা হয়। গতকালের প্রজ্ঞাপনে আগামী ৭ মে থেকে ১৪ মে পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। এ সাধারণ ছুটির সঙ্গে যুক্ত করা হয় ৬ মে’র বুদ্ধপূর্ণিমার ছুটি এবং ১৫ ও ১৬ মে’র সাপ্তাহিক ছুটি। একই সঙ্গে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আসন্ন ঈদে কর্মস্থল ত্যাগ করা যাবে না।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেশ রূপান্তরকে জানান, ১৬ মে’র পর ঈদের আগে কর্মদিবস আছে আর মাত্র চার দিন। ১৭ থেকে ২০ মে পর্যন্ত কর্মদিবস। ২১ মে বৃহস্পতিবার শবে কদরের ছুটি। ২২ মে শুক্রবার ও ২৩ মে শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। ২৪ মে রবিবার থেকে ২৬ মে মঙ্গলবার পর্যন্ত ঈদের ছুটি। আর একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে ঈদের ছুটির সঙ্গে ১৭ থেকে ২০ মে’র কর্মদিবসগুলোকে ছুটি হিসেবে ঘোষণা করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

এখনই কেন ঈদের ছুটির সঙ্গে চলমান ছুটিকে সংযুক্ত করা হয়নি জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা বলেন, মানুষকে এমনিতেই ঘরে আটকে রাখা যাচ্ছে না। এত আগে ঈদের ছুটির সঙ্গে বর্তমান ছুটি সংযুক্ত করলে তাদের কোনোভাবেই কর্মস্থলে রাখা যাবে না। এ কারণেই ধাপে ধাপে ছুটি ঘোষণা করা হচ্ছে। 

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সব মন্ত্রণালয় বা বিভাগ তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন অফিসগুলো প্রয়োজন অনুসারে খোলা রাখবে। এ বিষয়ে তাদের অধিক্ষেত্রের কাজ পরিচালনায় নির্দেশনা জারি করবে।

করোনাভাইরাসের কারণে এবারের ছুটি নিয়ে গত ২৬ মার্চ থেকে মোট ছয় দফায় ছুটি বাড়ানো হলো। প্রথম দফায় ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি দেওয়া হয়েছিল। এরপর ছুটি বাড়িয়ে তা ১১ এপ্রিল করা হয়। ছুটি তৃতীয় দফা বাড়িয়ে করা হয় ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত। এরপর চতুর্থ দফায় ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি বাড়ানো হয়। আর পঞ্চম দফায় ছুটি ৫ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল।

ছুটির নতুন প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এ ছুটির সময় জনসাধারণ ও সব কর্র্তৃপক্ষকে অবশ্যই স্বাস্থ্য বিভাগের জারি করা নির্দেশনা বা স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।

তবে জরুরি সেবা বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও অন্যান্য জ¦ালানি, ফায়ার সার্ভিস, স্থল, নদী ও সমুদ্রবন্দর, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, টেলিফোন, ইন্টারনেট, ডাক সেবা এবং সংশ্লিষ্ট সেবাকাজে নিয়োজিত যানবাহন ও কর্মীরা এ ছুটির বাইরে থাকবেন। সড়ক ও নৌপথে সব ধরনের পণ্য পরিবহনের সঙ্গে নিয়োজিত যানবাহন ট্রাক, লরি, কার্গো ভেসেল চলাচল অব্যাহত থাকবে।

কৃষিপণ্য, সার, কীটনাশক, খাদ্য, শিল্পপণ্য, রাষ্ট্রীয় প্রকল্পের মালামাল, কাঁচাবাজার, খাবার, ওষুধের দোকান, হাসপাতাল ও জরুরি সেবা এবং এসবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের ক্ষেত্রে এ ছুটি প্রযোজ্য হবে না। চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক ও কর্মী, ওষুধসহ চিকিৎসা সরঞ্জামাদি বহনকারী যানবাহন ও কর্মী, গণমাধ্যম এবং কেব্ল টিভি নেটওয়ার্কের কর্মীরা এ ছুটির আওতাবহির্ভূত থাকবেন।

প্রজ্ঞাপনে এছাড়া আগের মতোই বলা হয়েছে, ওষুধশিল্প, উৎপাদন ও রপ্তানিসহ সব কলকারখানা কর্র্তৃপক্ষ শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করে চালু রাখতে পারবে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরবর্তী সময়ে শিল্প কারখানা, কৃষি ও উৎপাদন এবং সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলো এবং গণপরিবহন পর্যায়ক্রমে উন্মুক্ত করা হবে। সাধারণ ছুটির সময় কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখা যাবে না।