দেশে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। প্রতিদিনই রেকর্ডসংখ্যক রোগী শনাক্ত হচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা প্রথমবারের মতো ৭০০ ছাড়িয়ে প্রায় ৮০০-এর কাছাকাছি পৌঁছেছে। এদিন সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ৭৮৬ জনের মধ্যে কভিড-১৯ শনাক্তের কথা জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ নিয়ে পরপর তিন দিন রেকর্ডসংখ্যক রোগী শনাক্ত হলো। এর আগে গত সোমবার ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬৮৮ জন শনাক্তের মাধ্যমে দেশে সর্বমোট শনাক্ত হওয়া রোগী ১০ হাজার ছাড়ায়। তার আগে গত রবিবার শনাক্ত হয় ৬৬৫ জন রোগী। আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে বাড়লেও দেশে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা কমছে। গতকাল সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণ করেছেন একজন, যা গত ২৬ দিনের মধ্যে সর্বনিম্ন। অন্যদিকে দেশে করোনায় সুস্থ হওয়ার সংখ্যা গতকাল ১৪০০ ছাড়িয়েছে।
এদিন করোনা পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত অনলাইন বুলেটিনে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার দুপুর ১২টা থেকে মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত) সারা দেশের ৩৩টি ল্যাব কর্র্তৃক নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ৬ হাজার ১৮২ জনের। পরীক্ষা করা হয়েছে ৫ হাজার ৭১১ জনের। এর মধ্যে ৭৮৬ জনের মধ্যে কভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত সর্বমোট শনাক্ত ১০ হাজার ৯২৯ জন। ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণ করেছেন একজন। তিনি একজন পুরুষ। তার বয়স ২১-৩০ এর মধ্যে। এ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেছেন মোট ১৮৩ জন। ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন আরও ১৯৩ জন। এ নিয়ে সর্বমোট ১ হাজার ৪০৩ জন সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছেন।
গতকাল সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা হয়েছে আগের দিনের চেয়ে প্রায় ৯ শতাংশ কম। তবে রোগী শনাক্ত হয়েছে আগের দিনের চেয়ে ১২ শতাংশ বেশি। এদিন প্রতি ১০০ জনের নমুনা পরীক্ষায় রোগী শনাক্ত হয়েছে প্রায় ১৪ জন, যা গতকাল ছিল প্রায় ১১ জন। অর্থাৎ শনাক্তের হার বেড়েছে ৩ শতাংশ।
বুলেটিনে আরও জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে ১২৮ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন মোট ১ হাজার ৬৯৪ জন। একই সময়ে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে ২ হাজার ৪৭৭ জন। বর্তমানে মোট কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৪১ হাজার ১২২ জন। স্বাস্থ্য বাতায়ন-১৬২৬৩, ৩৩৩ ও আইইডিসিআরের হটলাইনে ২৪ ঘণ্টায় ৬৯ হাজার ৬২৪টি কল এসেছে। স্থল, সমুদ্র ও বিমানপথে ২৪ ঘণ্টায় দেশে প্রবেশ করেছেন মোট ৫৪৭ জন, তাদের প্রত্যেককে স্ক্রিনিং করা হয়েছে। এ পর্যন্ত পিপিই বিতরণ করা হয়েছে ১৫ লাখ ৪৯ হাজার ৪৮২টি। বর্তমানে মজুদ আছে আরও ৩ লাখ ৮০ হাজার ৭৭২টি।
বুলেটিনের শেষভাগে সবাইকে করোনা থেকে বাঁচতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান ডা. নাসিমা সুলতানা। তিনি বলেন, দেশে প্রতিনিয়তই আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। আমরা যদি নিজেরা সচেতন না হই তাহলে এ সংখ্যা কিছুতেই কমানো যাবে না।