মৃত্যু আড়াই লাখ ছাড়াল এক-চতুর্থাংশই যুক্তরাষ্ট্রে

মহামারী করোনায় বিশ্বজুড়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫৩ হাজার ৭৯৩ জনে। আক্রান্ত ৩৬ লাখ ৭৭ হাজার। করোনার ভয়াল এপ্রিল পার করে মে মাসে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে গতি কিছুটা কমলে মৃত্যুর সংখ্যাটা ২ লাখ ৫০ হাজার হতে খুব দীর্ঘ সময় লাগেনি। এই মৃত্যুর মিছিলে সবার ওপরে আছে যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল পর্যন্ত দেশটিতে ৭০ হাজার ৪০১ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা বিশ্বের মোট মৃত্যুর প্রায় এক-চতুর্থাংশ। 

চীনে প্রাদুর্ভাবের ৯০ দিন পর গত ১০ এপ্রিল কভিড-১৯ মহামারীতে বিশ্বে মৃতের সংখ্যা লাখ ছুঁয়েছিল। তার আট দিন পর ৫০ হাজার মানুষের মৃত্যু এই সংখ্যাকে দেড় লাখ ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। তার পরের ৫০ হাজারের মৃত্যু ঘটতে সময় লেগেছিল সাত দিন। এর পরে ৫০ হাজারের  মৃত্যুতে লেগেছিল সাত দিন। আর সর্বশেষ ৫০ হাজার মানুষ বিশ্ব থেকে হারিয়ে গেল মাত্র আট দিনে। 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটার এবং জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যমতে, গতকাল মঙ্গলবার রাত ১২.৩০টা পর্যন্ত বিশ্বের ২১০টি দেশ ও অঞ্চলে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৬ লাখ ৯৫ হাজার ৪১৩ জন। মারা গেছে ২ লাখ ৫৩ হাজার ৭৯৩ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে ১২ লাখ ১২ হাজার ২৪২ জন। চিকিৎসাধীন আছে ২২ লাখ ৫৫ হাজার ৭৯২ জন। তাদের মধ্যে ৪৯ হাজার ৫৭৬ জনের অবস্থা গুরুতর। 

এখন পর্যন্ত ১২ লাখ ২৫ হাজার ৬৩ জন আক্রান্ত নিয়ে তালিকার শীর্ষে আছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি মৃত্যুর তালিকায়ও শীর্ষে। সেখানে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭১ হাজার ২২৫ জনে। 

আক্রান্তের সংখ্যায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা স্পেনে এখন করোনা রোগীর সংখ্যা ২ লাখ ৫০ হাজার ৫৬১ জন। মারা গেছে ২৫ হাজার ৬১৩ জন। তবে মৃত্যুর সংখ্যায় দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে যাওয়া যুক্তরাজ্যে বর্তমান আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৯৪ হাজার ৯৯০ জন, মৃত্যুর সংখ্যা দ্বিতীয়বারের মতো রিভিউ করলে এক লাফে ৩২ হাজার ছাড়িয়ে যায়।

ইতালিতে গতকাল পর্যন্ত মারা গেছে ২৯ হাজার ৩১৫ জন। আর আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৩ হাজার ১৩। ফ্রান্সে মারা গেছে ২৫ হাজার ২০১ জন। আক্রান্ত ১ লাখ ৬৯ হাজার ৪৬২ জন।

ইউরোপের আরেক দেশ জার্মানিতে শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৬৬ হাজার ৪৯০। দেশটিতে গতকাল পর্যন্ত মারা গেছে ৬ হাজার ৯৯৩ জন।

নেদারল্যান্ডসে আক্রান্তের সংখ্যা ৪১ হাজার ৮৭ আর মৃত্যু হয়েছে ৫ হাজার ১৬৮ জনের। বেলজিয়ামে রোগীর সংখ্যা ৫০ হাজার ৫০৯ জন। মারা গেছে ৮ হাজার ১৬ জন।

সুইজারল্যান্ডে আক্রান্ত ৩০ হাজার ৯, মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ৭৯০ জনের। তুরস্কে ১ লাখ ২৭ হাজার ৬৫৯ জন আক্রান্ত আর ৩ হাজার ৪৬১ জন মারা গেছে।

সুইডেনে ২৩ হাজার ২১৬ রোগী শনাক্ত হয়েছে। মারা গেছে ২ হাজার ৮৫৪ জন।

রাশিয়ায় ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩৭০ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। তবে মারা গেছে ১ হাজার ৪৫১ জন।

কানাডায় রোগীর সংখ্যা ৬১ হাজার ১৬৫। মারা গেছে ৩ হাজার ৯১৮ জন।

ব্রাজিলে ১ লাখ ৮ হাজার ৬২০ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। মৃত্যুর সংখ্যা ৭ হাজার ৩৬৭।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরানে আক্রান্তের সংখ্যা ৯৯ হাজার ৯৭০ আর মৃত্যু হয়েছে ৬ হাজার ৩৪০ জনের। ভাইরাসটির উৎসস্থল চীনে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৮২ হাজার ৮৩১ এবং মৃত্যুর সংখ্যা ৪ হাজার ৬৩৩ জন।

এ ছাড়া অনেক দেশেই রোগীর সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়িয়েছে আর মারা গেছে হাজারেরও বেশি।