এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে কার্পজাতীয় মা-মাছের আনাগোনা শুরু হয়েছে। সামনে পূর্ণিমা তিথির জো। বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হলে এবং নদীতে পাহাড়ি ঢলের তীব্রতা বৃদ্ধি পেলে মা-মাছ ডিম ছাড়তে পারে। ইতিমধ্যে দু-এক পশলা বৃষ্টি হয়ে গেছে। গত দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে হাটহাজারী উপজেলা প্রশাসনের ব্যাপক অভিযান ও কঠোর নজরদারির কারণে ডিম আহরণকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এ কারণে নদীতে মা-মাছ ব্যাপক হারে ডিম ছাড়তে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ডিম আহরণকারীরা। ফলে ডিম আহরণকারীরা আশায় বুক বেঁধেছেন।
ডিম আহরণকারীদের সূত্রে জানা যায়, বাংলা বছরের চৈত্র-বৈশাখ মাসে বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হলে হালদা নদীতে কার্পজাতীয় মা মাছ ডিম ছাড়ে। কিন্তু এ বছর চৈত্র মাসে বৃষ্টির কোনো আলামত না থাকায় নদীতে মা-মাছ ডিম ছাড়েনি। বৈশাখ মাসের প্রথমদিকে সম্প্রতি দুদিন মাঝারি ও হালকা বৃষ্টিপাত হয়েছে। বৃষ্টিপাতের ফলে হাটহাজারী, রাউজান ও ফটিকছড়ি তিন উপজেলার দীর্ঘদিন শুকিয়ে থাকা হালদা নদীর সংযোগ খাল ও ছড়ায় প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। চলতি বৈশাখ মাসে বজ্রপাতসহ প্রবল বর্ষণ হলে হালদা নদীতে মা-মাছ বিভিন্ন স্থান থেকে ডিম ছাড়তে চলে আসে। পূর্ণিমা তিথিকে সামনে রেখে আকাশে ভারী মেঘের আনাগোনা ও বৃষ্টির আলামত দেখে বিভিন্ন শাখা খাল ও নদী যথা কর্ণফুলী, সাঙ্গু, মাতামুহুরী, চেংখালী, পোড়াকোপালী, সোনাইখাল, তেড়পাড়িখাল, ডোমখালীখাল প্রভৃতি স্থান থেকে হালদা নদীতে কার্পজাতীয় মা-মাছের আনাগোনা লক্ষ করা যাচ্ছে।
দক্ষিণ মার্দাশা এলাকার ডিম সংগ্রহকারী আশু বড়ুয়া বলেন, হালদা নদীতে বিভিন্ন সময় প্রশাসনের তৎপরতার কারণে এবার মা-মাছের মজুদ বৃদ্ধি পেয়েছে। মাছের আনাগোনা বেশ ভালো। ডিম ছাড়ার পরিমাণও বাড়বে। তাই আগেভাগে ডিম আহরণের প্রস্তুতি শুরু করেছি।
এ প্রসঙ্গে হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র এই হালদা নদীতে কঠোর নজরদারির মাধ্যমে মাছের মজুদ বৃদ্ধি পেয়েছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবরেটরির সমন্বয়ক ড. মঞ্জুরুল কিবরিয়া বলেন, হাটহাজারী পিকিং পাওয়ার প্ল্যান্ট ও এশিয়া পেপার মিল বন্ধ থাকা, ভুজপুরে স্থাপিত রবার ড্যামের কার্যক্রম স্থগিত, মানিকছড়িতে তামাক চাষ বন্ধ থাকায় হালদা নদীদূষণ অনেকাংশে কমে গেছে। নানা কারণে এবার নদীতে রেকর্ড পরিমাণ ডিম ছাড়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।