শাহজাদপুর উপজেলাসহ পাবনা-সিরাজগঞ্জ জেলার মিল্কসেড এরিয়ায় এ বছর মশা-মাছির অত্যাচার ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এসব মশা-মাছির আক্রমণে এ এরিয়ায় গরুর খুরা রোগ, ম্যাস্টাইটিস, ওলান ফোলা, জড়া, চর্মরোগ, খাওয়ায় অরুচি, অ্যালার্জি, বাঁটে পচন, স্বাস্থ্যহানিসহ নানা রোগ ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়েছে।
খুরা রোগসহ মশা-মাছিবাহিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে গত এক মাসে এ এলাকার শতাধিক গরু মারা গেছে। এতে খামারিদের কমপক্ষে দেড় কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। ফলে করোনা আক্রান্তের ভয়ের চেয়ে গরু রক্ষায় তারা বেশি দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
মশা-মাছির অত্যাচারে এ এরিয়ার দুগ্ধ উৎপাদনকারী কৃষক ও গো-খামারিরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। তারা গোয়ালঘরে ধূপ ও কয়েল জ¦ালিয়ে, ফিনিশ ও ফাইটার স্প্রে করে এবং ফ্যান ও মশারি টানিয়েও খামারের গরুকে রক্ষা করতে পারছেন না। মশা-মাছির অত্যাচারে গরু খেতে, বসতে ও ঘুমাতে না পারায় দুধের উৎপাদন হ্রাস ও ফ্যাট কমে গেছে। ফলে কৃষকরা দুধ বিক্রি করেও লোকসান গুনছেন। ফলে এ এরিয়ার দুগ্ধশিল্প হুমকির মুখে পড়েছে।
মিল্কসেড এরিয়ার উপজেলাগুলো হলো পাবনার বেড়া, সাঁথিয়া, সুজানগর, ফরিদপুর, ভাঙ্গুরা, চাটমোহর, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর, উল্লাপাড়া, বেলকুচি ও চৌহালী।
শাহজাদপুর উপজেলার নরিনা দক্ষিণপাড়া গ্রামের সুজন মোল্লা, মোতালেব হোসেন, চিথুলিয়া গ্রামের মন্তাজ মণ্ডল, সারা খাতুন, শামছুল মণ্ডল, জয়নাল আবেদীন, ইব্রাহিম, আবদুল বারি, আলীম, মাজম মণ্ডল, সাইদুল ইসলাম, মোন্নাফ আকন্দ বলেন, অনেক টাকা ব্যয় করে পুরো গোয়ালঘরে মশারি দিয়ে ঢেকে দিয়েছি। তারপরও মশা-মাছি থেকে গরু রক্ষা করতে পারছি না। গত ৫০ বছরের মধ্যে এ রকম মশা-মাছির উপদ্রব দেখিনি। মিল্ক ভিটার সাঁথিয়া উপজেলার বোয়ালমারী দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় সমিতির সভাপতি ও গো-খামারি বেলায়েত হোসেন বলেন, তাদের এরিয়ায় মাছির চেয়ে মশার অত্যাচার বেশি হওয়ায় মাংস উৎপাদনশীল গরুকে মশারির মধ্যে লালন-পালন করতে বাধ্য হচ্ছেন। বাঘাবাড়ি মিল্ক ভিটা কারখানার ডিজিএম ডা. ইদ্রিস আলী ও ম্যানেজার অমীয় কুমার মণ্ডল বলেন, খামারিরা এ বিষয়ে মিল্ক ভিটার কাছে সহযোগিতা চাইলে বিষয়টি ভেবে দেখব।
শাহজাদপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান বলেন, সরকারিভাবে এ এরিয়ায় মশা-মাছি নির্মূলে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া যায় কি না, তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।