মহামারী নভেল করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের ২১০ দেশ ও অঞ্চলে। গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা পর্যন্ত বিশ্বে এই ভাইরাজজনিত রোগ কভিড-১৯-এ আক্রান্ত হয়েছে ৩৮ লাখ ৫৬ হাজার ৭৯৪ জন, মৃত্যু হয়েছে ২ লাখ ৬৬ হাজার ৪৮৮ জনের। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটার এবং জনস হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যমতে আক্রান্তের সংখ্যায় শীর্ষ দশটি দেশেই আছে পৃথিবীর মোট করোনা রোগীর ৭৩ শতাংশের বেশি। আর ওই দেশগুলোতে মারা যাওয়া মানুষের সংখ্যা এই রোগে বিশ্বের মোট মৃত্যুর ৮০ শতাংশের বেশি। অবশ্য আক্রান্তের তালিকায় শীর্ষ দশে থাকা রাশিয়া ও তুরস্কের চেয়েও কয়েকটি দেশে মৃত্যুর সংখ্যা অনেক বেশি।
পরিসংখ্যান বলছে, আক্রান্তের সংখ্যায় সবার ওপরে আছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্বে যত মানুষ এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে তার প্রায় ৩৩ শতাংশই যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যাও একক দেশ হিসেবে সবচেয়ে বেশি। গতকাল পর্যন্ত বিশ্বে যত মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে তার ২৮ শতাংশই যুক্তরাষ্ট্রে।
আক্রান্তের সংখ্যায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা স্পেনে এখন করোনা রোগীর সংখ্যা ২ লাখ ৫৬ হাজার ৮৫৫ জন, যা বিশ্বের মোট করোনা রোগীর ৬ দশমিক ৬ শতাংশ। দেশটিতে করোনায় মৃত্যু হয়েছে ২৬ হাজার ৭০ জন, যা বিশ্বের মোট মৃত্যুর ৯ দশমিক ৫ শতাংশ। তবে মৃত্যুর সংখ্যায় দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে যাওয়া যুক্তরাজ্যে বর্তমানে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ২ লাখ ১ হাজার ১০১ জন, যা বিশ্বের মোট রোগীর ৫ দশমিক ২৩ শতাংশ। দেশটিতে মারা গেছে ৩০ হাজার ৭৬ জন, যা বিশ্বের মোট মৃত্যুর ১১ দশমিক ৩ শতাংশ।
ইতালিতে গতকাল পর্যন্ত মারা গেছে ২৯ হাজার ৬৮৪ জন, যা বিশ্বের মোট মৃত্যুর ১১ দশমিক ১৩ শতাংশ। আর আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৪ হাজার ৪৫৭, যা বিশ্বের মোট রোগীর ৫ দশমিক ৫৮ শতাংশ।
ফ্রান্সে মারা গেছেন ২৫ হাজার ৮০৯ জন, যা বিশ্বের মোট মৃত্যুর ৯ দশমিক ৬৮ শতাংশ। আক্রান্ত ১ লাখ ৭৪ হাজার ১৯১ জন, যা বিশে^র মোট রোগীর ৪ দশমিক ৫৩ শতাংশ। ইউরোপের আরেক দেশ জার্মানিতে শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৬৮ হাজার, যা বিশে^র মোট রোগীর ৪ দশমিক ৩৭ শতাংশ। দেশটিতে গতকাল পর্যন্ত মারা গেছেন ৭ হাজার ৩২২ জন, যা বিশ্বের মোট মৃত্যুর ২ দশমিক ৭৪ শতাংশ।
তুরস্কে আক্রান্ত ১ লাখ ৩১ হাজার ৭৪৪ জন, যা বিশ্বের মোট রোগীর ৩ দশমিক ৪২ শতাংশ। আর ৩ হাজার ৫২০ জন মারা গেছেন, যা বিশ্বের মোট মৃত্যুর ১ দশমিক ৩ শতাংশ । রাশিয়ায় ১ লাখ ৬৫ হাজার ৯২৯ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে, যা বিশ্বের মোট রোগীর ৪ দশমিক ৬ শতাংশ । তবে মারা গেছে ১ হাজার ৬২৫ জন, যা বিশ্বের মোট মৃত্যুর শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ। ব্রাজিলে ১ লাখ ২৭ হাজার ৩৮৯ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে, যা বিশ্বের মোট রোগীর ৩ দশমিক ২৯ শতাংশ। মৃত্যুর সংখ্যা ৮ হাজার ৬০৫, যা বিশ্বের মোট মৃত্যুর ৩ দশমিক ২২ শতাংশ।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরানে আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৩ হাজার ১৩৫, যা বিশ্বের মোট রোগীর ২ দশমিক ৬৮ শতাংশ। আর মৃত্যু হয়েছে ৬ হাজার ৪৮৬ জনের, যা বিশ্বের মোট মৃত্যুর ২ দশমিক ৪৩ শতাংশ।
এছাড়া নেদারল্যান্ডসে আক্রান্তের সংখ্যা ৪১ হাজার ৭৩৪ আর মৃত্যু হয়েছে ৫ হাজার ২৮৮ জনের। বেলজিয়ামে রোগীর সংখ্যা ৫১ হাজার ৪২০ জন। মারা গেছে ৮ হাজার ৪১৫ জন। সুইজারল্যান্ডে আক্রান্ত ৩০ হাজার ১২৬, মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ৮০৮ জনের। সুইডেনে ২৪ হাজার ৬২৩ রোগী শনাক্ত হয়েছে। মারা গেছে ৩ হাজার ৪০ জন।
কানাডায় রোগীর সংখ্যা ৬৩ হাজার ৮৯৫। মারা গেছে ৪ হাজার ২৮০ জন।
ভাইরাসটির উৎসস্থল চীনে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৮২ হাজার ৮৮৫ এবং মৃত্যুর সংখ্যা ৪ হাজার ৬৩৩ জন। এছাড়া অনেক দেশেই রোগীর সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়িয়েছে আর মারা গেছে হাজারেরও বেশি।