ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে রাজধানীর রমনা থানায় হওয়া মামলায় গ্রেপ্তার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন ও ‘রাষ্ট্রচিন্তা’ নামে সংগঠনের সদস্য দিদারুল ইসলাম ভূঁইয়াকে (৩৯) কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর হাকিম রাজেশ চৌধুরী শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এছাড়া তাদের সাত দিনের রিমান্ড আবেদনের শুনানি সরকারঘোষিত সাধারণ ছুটির পর হবে বলে আদেশে উল্লেখ করেন তিনি।
এর আগে গত বুধবার একই মামলায় কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোর ও ব্যবসায়ী মুশতাক আহমেদকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।
আদালতে রমনা থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) উপপরিদর্শক (এসআই) নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রমনা থানার মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক জামশেদুল ইসলাম সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করে আসামি মিনহাজ মান্নান ও দিদারুল ভূঁইয়াকে আদালতে হাজির করেন। এদিন মামলার মূল সিডি (কেস ডকেট) না থাকায় বিচারক সাধারণ ছুটির পর শুনানি হবে বলে আদেশ দেন। আসামিদের পক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করে। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।’
গত বুধবার রাতে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে মিনহাজ মান্নান ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিএলআই সিকিউরিটিজের কর্ণধার ইমন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের একজন পরিচালক। তিনি শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির খালাতো ভাই। মিনহাজের ভাই জুলহাজ মান্নানকে ২০১৬ সালে জঙ্গিরা হত্যা করেছিল। জুলহাজ মান্নান যুক্তরাষ্ট্রের ঢাকা দূতাবাসের রাষ্ট্রদূতের প্রটোকল কর্মকর্তা ছিলেন।
এদিকে ‘রাষ্ট্রচিন্তা’র সদস্য দিদারুল ভূঁইয়াকে বুধবার রাতে রমনা থানায় সোপর্দ করে র্যাব। এর আগে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উত্তর বাড্ডার চ-৫৫/১ নম্বর বাড়ির ছয়তলার ফ্ল্যাট থেকে তাকে র্যাব পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়। র্যাব-৩ অপারেশন অফিসার এএসপি জাফর বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মঙ্গলবার রাতে রমনা থানায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন র্যাব-৩-এর ওয়ারেন্ট অফিসার মো. আবু বকর সিদ্দিক। এতে অজ্ঞাত আরও পাঁচ-ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে। এরই মধ্যে গ্রেপ্তার হওয়া মিনহাজ, দিদারুল, কার্টুনিস্ট কিশোর ও ব্যবসায়ী মুশতাক ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন প্রবাসী সাংবাদিক তাসনিম খলিল ও শাহেদ আলম, সায়ের জুলকারনাইন, আশিক ইমরান, ফিলিপ শুমাখার, স্বপন ওয়াহিদ ও ব্লগার আসিফ মহিউদ্দীন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, র্যাব-৩ পর্যালোচনা করে দেখেছে, আইএম বাংলাদেশি (ইংরেজি হরফে লেখা) পেজের অ্যাডমিন সায়ের জুলকারনাইন, আমি কিশোর, আশিক ইমরান, ফিলিপ শুমাখার, স্বপন ওয়াহিদ ও মুশতাক আহমেদ নামে ছয়জন দীর্ঘদিন ধরে ওই ফেইসবুক পেজটি পরিচালনা করে আসছেন। এই ফেইসবুক পেজ থেকে জাতির জনক, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, মহামারী সম্পর্কে গুজব, রাষ্ট্র/সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অভিপ্রায়ে অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। অপপ্রচার বা মিথ্যা জেনেও তারা গুজবসহ বিভিন্ন তথ্য সামাজিকমাধ্যমে ছড়াচ্ছিলেন। এতে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি, অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে। এরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারবিরোধী প্রচারণা, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি এবং ত্রাণসামগ্রী বিতরণ নিয়ে নানা ধরনের গুজব ছড়াচ্ছিলেন বলে উল্লেখ করেছে র্যাব।