করোনায় মৃত্যু ২০০ ছাড়াল শনাক্ত ছাড়িয়েছে ১৩ হাজার

দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণে মৃত্যুর সংখ্যা সরকারি হিসাবে ২০০ ছাড়িয়েছে। গতকাল শুক্রবার দেশে করোনা শনাক্তের ৬২তম দিনে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ৭ জন মৃত্যুবরণ করেছেন বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ নিয়ে সরকারি এই সংস্থার হিসাবে গত দুদিনে ২০ জন এবং এ পর্যন্ত সর্বমোট ২০৬ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। যদিও এ হিসাবের বাইরে করোনার উপসর্গ নিয়ে আরও অনেকেই মৃত্যুবরণ করেছেন, যাদের নমুনা পরীক্ষা করা যায়নি। গত ২০ এপ্রিল ৪৪তম দিনে দেশে করোনায় সর্বমোট মৃত্যু ১০০ পূর্ণ হয়। বাকি একশ মৃত্যু হলো শেষ ১৮ দিনে। অর্থাৎ শেষের ১৮ দিনে মৃত্যুর হার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। এদিকে চতুর্থ দিনের মতো গতকালও ২৪ ঘণ্টায় সাত শতাধিক রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে এদিন দেশে সর্বমোট করোনা রোগীর সংখ্যা ১৩ হাজার ছাড়াল।

গতকাল করোনা পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত অনলাইন বুলেটিনে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে শুক্রবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত) নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ৫ হাজার ৭০৭টি। পরীক্ষা হয়েছে ৫ হাজার ৯৪১ জনের। এরমধ্যে ৭০৯ জনের মধ্যে কভিড-১৯ শনাক্ত করা হয়েছে।

এ পর্যন্ত সর্বমোট শনাক্ত ১৩ হাজার ১৩৪ জন। ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন আরও ৭ জন। দেশে সর্বমোট মৃত্যু ২০৬ জন। সর্বশেষ মৃতদের ৫ জন পুরুষ ও ২ জন মহিলা। তাদের মধ্যে একজনের বয়স ৯০ বছরের বেশি, ২ জনের বয়স ৭১-৮০ এর মধ্যে, ২ জনের ৬১-৭০ এর মধ্যে ও বাকি ২ জনের বয়স ৫১-৬০ এর মধ্যে।

তিনি জানান, ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ১৯১ জন। সুস্থদের মধ্যে রাজশাহী বিভাগে ৪৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৩ জন, খুলনা বিভাগে ১০ জন এবং মহানগরীর বাইরে ঢাকা বিভাগে সুস্থ হয়েছেন ২২ জন। ঢাকা মহানগরীতে বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে ১৫ জন, কুর্মিটোলা হাসপাতালে ১৫ জন, রিজেন্ট হাসপাতালে ২ জন, রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতাল থেকে ১৮ জন সুস্থ হয়েছেন। এছাড়া নারায়ণগঞ্জের সাজেদা ফাউন্ডেশন হাসপাতালে সুস্থ হয়েছেন ৮ জন। দেশে এ পর্যন্ত সর্বমোট সুস্থ হয়েছেন ২ হাজার ১০১ জন। গতকাল মোট ৩৫টি ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে বলে জানান ডা. নাসিমা। এদিন নতুন করে নমুনা পরীক্ষা শুরু করেছে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল।

বুলেটিনে আরও জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে ১০৩ জনকে। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ১ হাজার ৮৭৪ জন। একই সময়ে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে ২ হাজার ৬১৯ জনকে। বর্তমানে কোয়ারেন্টাইনে আছেন মোট ৩৯ হাজার ১৪৬ জন। স্থল, সমুদ্র ও বিমানপথে ২৪ ঘণ্টায় দেশে প্রবেশ করেছেন ৫৮৫ জন, তাদের প্রত্যেককে স্ক্যানিং করা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় পিপিই বিতরণ করা হয়েছে ৪১ হাজার ৬৩০টি। বর্তমানে মজুদ আছে আরও ৪ লাখ ১৩ হাজার ৯৭৬টি।

হটলাইনে কল বেড়েছে দ্বিগুণ : দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ার সঙ্গে হটলাইনগুলোতে কলের সংখ্যাও বেড়েছে। স্বাস্থ্য বাতায়ন-১৬২৬৩, ৩৩৩ ও আইইডিসিআরের দুটি হটলাইনে গত দুদিনে কলের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণেরও বেশি। গতকাল সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় এই হটলাইনগুলোতে কল এসেছে ১ লাখ ৪২ হাজার ১৬৯টি। গত বৃহস্পতিবারও প্রায় সমসংখ্যক কল এসেছিল। তবে এর আগের কয়েক দিন ২৪ ঘণ্টায় মোট কল ৭০ হাজারের নিচে ছিল।

যে মানদণ্ডে রোগীরা হাসপাতাল থেকে ছাড় পায় : এদিন বুলেটিনে ডা. নাসিমা হাসপাতাল থেকে করোনা রোগী ছাড় দেওয়ার নির্ধারিত মানদণ্ডগুলো জানান। তিনি জানান, জ্বর কমানোর ওষুধ (যেমন-প্যারাসিটামল) সেবন ছাড়াই জ্বর সেরে গেলে ও শ্বাসযন্ত্রের সমস্যাজনিত উপসর্গের (যেমন-শুষ্ক কাশি, কফ, নিঃশ্বাসের দুর্বলতা ইত্যাদি) লক্ষণীয় উন্নতি হলে এবং ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে পর পর দুটি আরটি পিসিআর পরীক্ষার ফল নেগেটিভ হলে তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্রের অনুমতি দেওয়া যাবে। তবে কারও ক্ষেত্রে যদি দুটি আরটি পিসিআর পরীক্ষা সম্ভব না হয়, তাদের ক্ষেত্রে জ্বর ও শ্বাসজনিত সমস্যার বিষয়ে উল্লিখিত উন্নতি পরবর্তী টানা ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকলে তাকেও হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্রের অনুমতি দেওয়া যাবে।

হাসপাতাল থেকে ছাড় পাওয়াদের করণীয় বিষয়ে ডা. নাসিমা জানান, ছাড় পাওয়ার পরবর্তী ১৪ দিন তাদের নিজ বাসায় বা মনোনীত যেকোনো নির্দিষ্ট জায়গায় অবস্থান করতে হবে এবং আইসোলেশন বা কোয়ারেন্টাইনের নিয়ম মানতে হবে। পরবর্তী সময়ে সম্ভব হলে পুনরায় আরটি পিসিআর পরীক্ষার জন্য নমুনা দেওয়া যেতে পারে।