তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে কোনো জমিই অনাবাদি রাখা যাবে না। তিনি বলেন, ‘করোনাভাইরাসের কারণে পৃথিবী স্তব্ধ হয়ে গেছে। সব অর্থনৈতিক কর্মকা- স্থবির হয়ে গেছে। বৈশ্বিক এই দুর্যোগের কারণে পৃথিবীতে খাদ্যাভাব দেখা দিতে পারে। কিন্তু মহান স্রষ্টা বাংলাদেশকে উর্বর জমি দিয়েছেন। খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে দেশের কোনো জমিই অনাবাদি রাখা যাবে না।’
তথ্যমন্ত্রী গতকাল শুক্রবার সকালে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা মিলনায়তনে বিভিন্ন প্রান্তিক কৃষকের মাঝে সবজিবীজ, রিপার মেশিন ও বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের মাঝে স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রী বিতরণ উপলক্ষে সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুরু থেকেই জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, আমরা যেন এক ইঞ্চি জায়গাও অনাবাদি না রাখি। সেই লক্ষ্য নিয়েই সমগ্র বাংলাদেশে সরকার কৃষকদের মাঝে বিনা মূল্যে সার, বীজ ও কীটনাশকসহ নানা ধরনের কৃষিযন্ত্র ভর্তুকিতে বিতরণ করছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে হবে। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আমরা যদি অধিক খাদ্য উৎপাদন করতে পারি সে ক্ষেত্রে অন্যদেরও সহায়তা করা যাবে।’ ড. হাছান বলেন, বাংলাদেশ খাদ্য ঘাটতির দেশ ছিল, সেই খাদ্য ঘাটতির দেশকে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে, সময়োপযোগী পদক্ষেপ ও সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার মাধ্যমে খাদ্যে উদ্বৃত্তের দেশে রূপান্তর হয়েছে। সরকার কৃষিতে নানাবিধ ভর্তুকি দেওয়ার এবং বীজ ও কীটনাশকের নিশ্চয়তা বিধান করার মাধ্যমে বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছে।’ তিনি বলেন, রাঙ্গুনিয়ায় প্রচুর শাকসবজি উৎপাদন হয়, সারা দেশেই শাকসবজির প্রচুর ফলন হয়। আমাদের জমিতে তিনবার ফসল হয়। কোনো কোনো জমিতে চার ফসলও আবাদ হয়। সে জন্য কৃষকদের মাঝে নানা ধরনের সবজিবীজ বিতরণ করেছি। যাতে তারা শাকসবজি ফলাতে পারেন। হাছান মাহমুদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একেবারে গ্রাম পর্যায়েও যাতে মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায় সে জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে উপজেলা পরিষদগুলোকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রীগুলো চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে বিতরণ করা হচ্ছে। এই কর্মসূচির আওতায় একেবারে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছেও স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সরকার।