স্বাস্থ্যবিধি মেনে এক মাস পর সাধারণ মুসল্লিরা গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় করেছেন রাজধানীর মসজিদগুলোতে। সবাই তিন ফুট দূরত্ব বজায় রেখে নামাজের কাতারে দাঁড়ান। নামাজের খুতবা ও কেরাত ছিল সংক্ষিপ্ত। তাছাড়া আগেই মসজিদ থেকে সুন্নাত ও নফল নামাজ বাসায় পড়ে যাওয়ার জন্য মসজিদের মাইক থেকে বলা হয়। শর্তসাপেক্ষে সরকারি বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে গতকাল জুমার নামাজে মুসল্লিদের ভিড় দেখা গেছে। নামাজ আদায় করতে আসা মুসল্লিদের জন্য মসজিদের প্রবেশ পথে বসানো হয়েছিল জীবাণুনাশক অটোমেটিক স্প্রে মেশিন। প্রবেশের আগে সবার হাত ধোয়ানো হয়। সেই সঙ্গে মাস্ক পরছেন কি না সেটা নিশ্চিত হয়েই মসজিদে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়। স্বাস্থ্যবিধিতে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে জামাতে নামাজ আদায় করেছেন সবাই। দায়িত্বরত ব্যক্তিরা সব বিধিনিষেধ কঠোরভাবে পালন করতে মুসল্লিদের বাধ্য করেন। গত ৬ এপ্রিল মসজিদে ১০ জনের বেশি জামাতে অংশ নেওয়া যাবে না বলে ঘোষণার প্রায় এক মাস পর সব মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করা হয়। দীর্ঘ এক মাস পর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে জুমার নামাজ আদায় করেই অনেকে আল্লার শুকরিয়া আদায় করেছেন। সঙ্গে সঙ্গে এই মহামারী থেকে জাতি যেন মুক্তি পায় সেজন্য দোয়া করেছেন। বায়তুল মোকাররমে যাওয়া পুরানা পল্টনের বাসিন্দা হেলাল মিয়া বলেন, ‘অনেক দিন পর মসজিদে জুমার নামাজ পড়ে ভালো লাগছে। তবে করোনা সংক্রমণের ভয় সবসময় তাড়া করছে। আমরা মোনাজাতে করোনা নামক গজব থেকে মুক্তি চেয়েছি।’ নয়াপল্টন জামে মসজিদে দুপুর পৌনে ১টায় আজান হয় এবং সোয়া ১টায় সংক্ষিপ্ত খুতবা অনুষ্ঠিত হয়। নামাজ শেষে করোনা মহামারী থেকে মুক্তির জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়। প্রসঙ্গত প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে গত ৬ এপ্রিল সর্বসাধারণকে ইবাদত বা উপাসনা নিজ নিজ বাড়িতে থেকে পালনের নির্দেশ দেয় ধর্ম মন্ত্রণালয়। নির্দেশনায় বলা হয়, মসজিদে জামাত চালু রাখার প্রয়োজনে খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেম মিলে পাঁচ ওয়াক্তের নামাজে সর্বোচ্চ ৫ জন এবং জুমায় সর্বোচ্চ ১০ জন অংশ নিতে পারবেন। জনস্বার্থে বাইরের মুসল্লি মসজিদের ভেতরে জামাতে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। আর পরে জানানো হয় তারাবিতে অংশ নিতে পারবেন সর্বোচ্চ ১২ জন। শর্ত বেঁধে দিয়ে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পর গতকালই ছিল প্রথম জুমা।