মতপ্রকাশ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে সম্প্রতি ঢাকায় নিযুক্ত সাত দেশের রাষ্ট্রদূতের টুইটারে বিবৃতি দেওয়ার সমালোচনা করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন। এর প্রতিক্রিয়ায় গতকাল শনিবার তিনি এক ভিডিও বার্তায় রাষ্ট্রদূতদের কূটনৈতিক শিষ্টাচার মেনে দায়িত্ব পালনের পরামর্শ দিয়েছেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘পৃথিবীতে কোনো দেশে রাষ্ট্রদূতদের জটলা করেএমনভাবে বিবৃতি দিতে দেখিনি। এটা খুবই দুঃখজনক। আমি খুব খুশি হতাম এই রাষ্ট্র্রদূতরা যদি জটলা করে বলতেন, রাখাইনে যুদ্ধ হচ্ছে, এটা বন্ধ হওয়া উচিত। এটা কোনো কূটনৈতিক শিষ্টাচারের মধ্যে পড়ে না।’
সম্প্রতি করোনাভাইরাস ইস্যুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে সাংবাদিক, লেখক ও রাজনৈতিককর্মীসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তাদের মধ্যে চারজনকে এরই মধ্যে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে গত বৃহস্পতিবার সাত পশ্চিমা রাষ্ট্রদূত আলাদাভাবে টুইট করে করোনাভাইরাসের মতো মহামারীর সময় নির্ভরযোগ্য ও বাস্তবভিত্তিক তথ্য প্রচার নিশ্চিত করার স্বার্থে গণমাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর গুরুত্ব দেন।
ওই সাত কূটনীতিক হলেন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল মিলার, যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার রবার্ট ডিকসন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত রেনসে টেরিঙ্ক, সুইডেনের রাষ্ট্রদূত শার্লোটা স্লাইটার, নরওয়ের রাষ্ট্রদূত সিসেল ব্লিকেন, ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত উইনি পেটারসন ও নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত হ্যারি ভারওয়েজ। এ ছাড়া মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে নতুন করে গ্রেপ্তারের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক উপসহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যালিস জি ওয়েলস টুইটে লিখেছেন, ‘বাংলাদেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে নতুন করে গ্রেপ্তারের ঘটনায় আমরা উদ্বিগ্ন। বাংলাদেশে প্রত্যেক মানুষের স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই।’
এরপর গতকাল পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তাদের (রাষ্ট্রদূতদের) যদি কোনো অভিযোগ থাকে, তবে তা প্রটোকল অনুযায়ী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানাতে পারতেন। কিন্তু সেটা না করে তারা রাজনীতির মহড়ায় চলে গেছেন। তারা প্রকাশ্যে বিবৃতি দিচ্ছেন। তারা কি এ দেশে রাজনীতি করবেন? এ দেশে নির্বাচন করবেন? নাকি অন্য কোনো কিছু?’
আবদুল মোমেন আরও বলেন, ‘এসব মতলব সুবিধার না। আমি আশা করব, তারা তাদের প্রটোকল মানবেন এবং তারা সেভাবেই কাজ করবেন। তারা জ্ঞানী-গুণী জন। তাদের এ ধরনের ব্যাপার প্রত্যাশিত নয়।’