দেশে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়া রোগীর সঙ্গে মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে। গতকাল শনিবার করোনা শনাক্তের ৬৩তম দিনে দেশে আরও ৮ জনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ নিয়ে গত তিন দিনে ২৮ জন ও এখন পর্যন্ত সর্বমোট ২১৪ জনের মৃত্যু হলো। এদিকে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় গত ছয় দিনের মধ্যে সর্বনিম্ন সংখ্যক নমুনা পরীক্ষা করে দেশে আরও ৬৩৬ জনের মধ্যে করোনা শনাক্ত করা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের এই সংখ্যা গত পাঁচ দিনের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগের টানা চার দিন ২৪ ঘণ্টায় সাত শতাধিক রোগী শনাক্ত হয়েছিল। এদিকে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে আরও ৩১৩ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর।
গতকাল বুলেটিনে জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (শুক্রবার দুপুর ১২টা থেকে শনিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত) সারা দেশের ৩৫টি ল্যাব কর্র্তৃক নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ৫ হাজার ২৪৭ জনের। আগের কিছু নমুনাসহ এই সময়ে পরীক্ষা করা হয়েছে ৫ হাজার ৪৬৫ জনের। এরমধ্যে ৬৩৬ জনের মধ্যে কভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত সর্বমোট শনাক্ত ১৩ হাজার ৭৭০ জন। ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন মৃতদের সবাই পুরুষ। তাদের বয়স ৭১-৮০ এর মধ্যে ২ জন, ৬১-৭০ এর মধ্যে ২ জন, ৫১-৬০ এর মধ্যে ১ জন, ৪১-৫০ এর মধ্যে ২ জন ও ৩১-৪০ এর মধ্যে ১ জন। এ নিয়ে দেশে সর্বমোট মৃত্যুর সংখ্যা ২১৪ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়েছেন আরও ৩১৩ জন। এ পর্যন্ত সর্বমোট সুস্থ ২ হাজার ৪১৪ জন। তিনি জানান, এ পর্যন্ত সমাপ্ত ঘটনার (সুস্থ ও মৃত্যুর মোট সংখ্যা) মধ্যে সুস্থ ৯১ দশমিক ৮ ভাগ ও মৃত্যু ৮ দশমিক ২ ভাগ। এছাড়া মোট শনাক্তের বিপরীতে মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৫ ভাগ ও সুস্থের হার ১৭ দশমিক ৫ ভাগ।
বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৯১৯ জনের। দেশে সামাজিকভাবে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় এবং পরীক্ষা বাড়ার সঙ্গে শনাক্তও বৃদ্ধি পাওয়ায় নমুনা পরীক্ষা পর্যায়ক্রমে আরও বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে। তবে গত তিন দিন পরীক্ষা বাড়ার পরিবর্তে কমেছে। এ পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬ হাজার ২৪১ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয় গত বুধবার। পরের তিন দিন পরীক্ষা হয়েছে ছয় হাজারের নিচে। গতকাল ২৪ ঘণ্টায় পরীক্ষা হয়েছে ৫ হাজার ৪৬৫ জনের, যা গত ছয় দিনের মধ্যে সর্বনিম্ন।
বুলেটিনে আরও জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে ১৯৬ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন মোট ২ হাজার ১৭ জন। একই সময়ে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে ১ হাজার ৭৫৫ জন। বর্তমানে কোয়ারেন্টাইনে আছেন মোট ৩৭ হাজার ১৮৩ জন। স্বাস্থ্য বাতায়ন-১৬২৬৩, ৩৩৩ ও আইইডিসিআরের হটলাইনে ২৪ ঘণ্টায় কল এসেছে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৩১২টি। স্থল, সমুদ্র ও বিমানপথে ২৪ ঘণ্টায় দেশে প্রবেশ করেছেন ৭৩৫ জন, তাদের প্রত্যেককে স্ক্রিনিং করা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় পিপিই বিতরণ হয়েছে ২২ হাজার ৭০০টি। বর্তমানে মজুদ আছে ৪ লাখ ১৪ হাজার ৭৬টি।
মোট আক্রান্তের ৮২ ভাগ ঢাকা বিভাগে : এ পর্যন্ত সর্বমোট আক্রান্তদের বিভাগ ওয়ারী সংখ্যা ও শতাংশ উল্লেখ করেন ডা. নাসিমা সুলতানা। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছে ঢাকা বিভাগে ৯ হাজার ১৭৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৫৭৬ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৪০০ জন, রংপুর বিভাগে ২৬৩ জন, খুলনা বিভাগে ২১১ জন, সিলেট বিভাগে ১৬৩ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৫৩ জন ও বরিশাল বিভাগে ১৩০ জন। শতাংশ অনুযায়ী, ঢাকা বিভাগে আছেন ৮২ দশমিক ০৭ ভাগ রোগী। এরমধ্যে শুধু ঢাকা শহরেই ৫৮ দশমিক ২৮ ভাগ। এছাড়া চট্টগ্রামে ৫ দশমিক ৪৫ ভাগ, ময়মনসিংহে ৩ দশমিক ৭৮ ভাগ, রংপুর ২ দশমিক ৪৯ ভাগ, খুলনায় ২ ভাগ, সিলেটে ১ দশমিক ৫৪ ভাগ, রাজশাহীতে ১ দশমিক ৪৫ ভাগ ও বরিশালে ১ দশমিক ২৩ ভাগ রোগী রয়েছেন।
করোনা পরীক্ষার সঙ্গে ডেঙ্গু পরীক্ষার নির্দেশনা : এদিন বুলেটিনের শুরুতে কভিড-১৯ এর পাশাপাশি বর্তমান সময়ে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাবের বিষয়ে সচেতন থাকার ওপর জোর দেন ডা. নাসিমা। তিনি জানান, গতকাল সব জেলার সিভিল সার্জনসহ অন্য কর্মকর্তাদের নিয়ে ডেঙ্গু বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক ভিডিও কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। এতে অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের কিছু নির্দেশনা প্রদান করা হয়। এরমধ্যে আছে, যেহেতু করোনা ও ডেঙ্গু উভয় রোগের ক্ষেত্রেই জ্বর থাকতে পারে, সেহেতু করোনা পরীক্ষার পাশাপাশি সন্দেহভাজন রোগীকে ডেঙ্গু পরীক্ষা করা।