কাদেরের আহ্বান

ঈদ কেনাকাটার অর্থ কর্মহীনদের মাঝে বণ্টন করুন

ঈদের কেনাকাটা না করে সেই অর্থ অসহায় কর্মহীন মানুষের মাঝে বণ্টন করে দেওয়ার জন্য সারা দেশের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। গতকাল শনিবার সংসদ ভবন এলাকার সরকারি বাসভবন থেকে এক ভিডিও সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান তিনি।

করোনা পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে ওবায়দুল কাদের বলেন, এবার ঈদ এসেছে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে, ভিন্ন বাস্তবতায়। দেশ পার করছে সংকটকাল। এই পরিস্থিতিতে আমি আওয়ামী লীগের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের ঈদের কেনাকাটা না করে এর অর্থ অসহায়, কর্মহীন জনগণের মাঝে বণ্টনের আহ্বান জানাচ্ছি। এভাবেই আমরা এবারের ঈদ উদযাপন করতে চাই। চাই ত্যাগের মহিমায় নিজেদেরকে অসহায় মানুষের সঙ্গে একাত্ম করতে। এ সময় ঈদের কেনাকাটায় সংযম ও পরিমিতিবোধ রাখার জন্য বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

গুজব ও অপপ্রচার ভাইরাসের চেয়েও ভয়ংকর মন্তব্য করে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী কাদের বলেন, ‘আমরা উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করছি, একশ্রেণির মানুষ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে যাচ্ছে। কোনো ঘটনা না ঘটলেও তা রটানো হচ্ছে, এসব গুজব ও অপপ্রচার ভাইরাসের চেয়েও ভয়ংকর।’ করোনাভাইরাসকালে পারিবারিক সহিংসতা উদ্বেগজনক হারে বেড়ে চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের সহিংসতা করোনা বিস্তারে সহায়ক হতে পারে। আমি সবাইকে রমজানের এ সময়ে সংযমী ও ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানাচ্ছি। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার চর্চার ক্ষেত্রে জনগণকে আরও কঠোর হতে হবে মন্তব্য করে ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, শেখ হাসিনার আহ্বানে সাড়া দিয়ে যারা ঘরে অবস্থান করছেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছেন, তাদের জানাচ্ছি আন্তরিক ধন্যবাদ। মনোবল হারালে চলবে না আমাদের। মাস্ক পরিধান, হাত ধোয়া, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার যে প্রতিরোধ ব্যবস্থা, তা চর্চায় আমাদের আরও কঠোর হতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের পরিস্থিতি আরও খারাপ হলেও তারা কিছু কিছু ক্ষেত্রে লকডাউন শিথিল করেছে। বিভিন্ন দেশ অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে লকডাউন শিথিল করেছে। জীবনের পাশাপাশি জীবিকার চাকাও সচল রাখতে হবে। তাই সরকার কিছু কিছু ক্ষেত্রে সাধারণ ছুটি শিথিল করেছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে শপিং মল খোলার অনুমতি দিয়েছে।’ ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমাদের অর্থনীতিতে উৎসবকেন্দ্রিক অর্থনীতির একটা প্রভাব আছে। সরকার শপিং মলে যাওয়ার বিষয়টি জনগণের ওপর ছেড়ে দিয়েছে। তবে শপিং মলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়টি প্রশাসনের নজরদারিতে থাকবে।’

এ সময় বিএনপি নেতাদের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘মির্জা ফখরুল সাহেবকে বলতে চাই, সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদগার না করে আপনি ও আপনার দল এ সংকটে জনগণের পাশে দাঁড়ান। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে মানবিক দায়িত্ব পালন করুন। তিনি বলেন, করোনাযোদ্ধাদের প্রতি আমি আহ্বান করছি আপনারা দেশ ও জাতির আশার আলো সম্মুখ সারির যোদ্ধা। আপনারা সাহসিকতার সাথে কাজ করুন। আপনার ও আপনার পরিবারের সুরক্ষায় শেখ হাসিনার সরকার পাশেই আছে। আপনাদের অদম্য মনোবল এবং জনগণের সাহযোগিতা নিয়ে আমরা এ সংকট থেকে বের হয়ে আসব ইনশাল্লাহ।