তিন সাবেক অধিনায়কদের নিয়ে তামিম ইকবালের রবিবারের ফেইসবুক লাইভ আড্ডার উদ্দেশ্য ছিল- তাদের শুরুর সময়ের সংগ্রামের গল্পগুলো জানা।
খুব বেশি নয়, টেস্ট যুগে পা রাখার সময়ও দেশের ক্রিকেটে সুযোগ সুবিধা অতটা ছিল না। ক্রিকেট বোর্ডও ছিল না এখনকার মতো বিত্তশালী। সেই সময় খেলার জন্য যে ত্যাগ স্বীকার করে গেছেন খেলোয়াড়রা, সেই গল্পগুলোই তামিম এদিন তুলে আনতে চেয়েছেন ভক্তদের মাঝে।
নাইমুর রহমান দুর্জয়, খালেদ মাহমুদ সুজন ও হাবিবুল বাশারকে নিয়ে তামিমের ফেইসবুক লাইভ আড্ডার সেই উদ্দেশ্য সফলও।
এ আড্ডায় মাঠের বাইরের অনেক মজার ঘটনা যেমন ওঠে এসেছে, তেমনি ওঠে এসেছে দেশের ক্রিকেটের শুরুর সময়ের সারথিদের নানা ত্যাগের গল্পও।
তবে সুযোগ-সুবিধায় অনেক পিছিয়ে থাকার পরও আকরাম-বুলবুল, দুর্জয়-সুজনরা লড়ে গেছেন। দেশের প্রথম টেস্ট অধিনায়ক নাইমুর রহমান দুর্জয় বলছেন, এটা সম্ভব হয়েছে কারণ ওই সময়ের ক্রিকেটারদের মধ্যে প্যাশন অনেক বেশি ছিল।
এখনকার খেলোয়াড়রা অ্যানার্জি ড্রিংক নষ্টও করেন। কিন্তু দুর্জয়-সুজনরা শোনালেন তাদের কীভাবে হাতে তৈরি শরবত খেয়ে দুধের সাধ ঘোলে মেটাতে হতো। সেই শরবত তৈরির গল্প শোনেও সবাই হাসতে বাধ্য। বিদেশে যাওয়ার আগে নিজেদেরই টাকা নিয়ে যেতে হতো হাত খরচের জন্য।
দুর্জয় বলছিলেন, ‘আমাদের আসলে সব থেকে বড় জিনিস ছিল প্রিমিয়ার লিগটা খেলা। বিশেষ করে বড় কয়েকটি টিম- মোহামেডান, আবাহনী, বিমান...। সুমন (হাবিবুল বাশার) সব সময় বিমান ছাড়তে চাইত না। কারণ বিমানের পেমেন্ট ছিল সব থেকে ভালো। আবাহনী, মোহামেডান, ব্রাদার্স, খারাপ খেললে এদের অফিশিয়ালদের খুঁজে পাওয়া যেত না।’
‘বিদেশ ট্যুরে ৫ ডলার, ৬ ডলার করে ডিএ বা অন্যান্য বিল থাকত। আইসিসি ট্রফি জয়, বিশ্বকাপে খেলার পর ধাপে ধাপে কিছুটা বাড়ল। ৩০ ডলার, ৪০ ডলারে আসছে, সেটাও আইসিসির চাপে।’
তাই ট্যুরে যাওয়ার আগে খেলোয়াড়রা ক্লাবের কাছে পাওনা টাকার জন্য যেতেন। দুর্জয় বলছিলেন, ‘বিদেশে ট্যুরে গেলে ক্লাবের কাছে যে পাওনা টাকা থাকত, সেটার জন্য দৌড়াদৌড়ি করতাম। যে বিদেশে গেলে টাকা লাগবে, নিজের টাকাই নিয়ে যেতে হবে। ক্লাব দেখা যেতো পাওনা পুরো দিত না। হয়তো পাওনা আছে ৫০০ ডলার, দিত ২০০ ডলার…।’
‘…খেলা শেষে ফেরার সময় হয়তো খাওয়ার জন্য থামতাম। রাতের জন্য আবার নিয়ে আসতাম। রাতের জন্য যে ট্যাক্সি ভাড়া করে বের হবে, সেটা কঠিন ছিল।’
এরপরই দুর্জয় বলেন খেলোয়াড়দের প্যাশনের কথা, ‘এই জিনিসগুলো বাইরে যদি রাখি, খেলার প্রতি প্যাশনটা অনেক বেশি ছিল, এখনকার থেকে। কারণ এখনকার খেলোয়াড়রা অনেক বিজি। এখনকার খেলোয়াড়দের ইনভলবমেন্ট অনেক বেশি।’
‘আমাদের যেমন ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ বা হঠাৎ ইন্টারন্যাশনাল টুর্নামেন্ট একটা-দুইটা থাকত। আইসিসির (আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি) পর থেকে এটা আস্তে আস্তে বাড়ল। কিন্তু প্যাশন অনেক বেশি ছিল। সেটা আমাদের খেলোয়াড় বলো, অফিশিয়াল বলো…।’
তখনকার ক্লাব কর্মকর্তাদের প্রসঙ্গ টেনে দুর্জয় বলেন, ‘ক্লাব অফিশিয়ালদের সঙ্গে খেলোয়াড়দের সম্পর্ক পরিবারের মতো ছিল। এখনকার মতো এতটা প্রফেশনাল ছিল না। এখানে ইমোশন ছিল। দল বদলের আগে কত নাটক হতো…।’
খালেদ মাহমুদ সুজন এ সময় যোগ করে বলেন, আমাদের থেকেও কষ্ট করেছে আমাদের আগের প্রজন্ম। তারা ১৯৭১ সালের পর অনেক সংগ্রাম করে ক্রিকেট খেলছিলেন বলেই আমরা এত দূর আসতে পেরেছি। ক্রিকেট বোর্ডও তখন আর্থিকভাবে এখনবার মতো স্বাবলম্বী ছিল না। সুজন সেই কথাটাও উল্লেখ করেন।
আরো পড়ুন: