ভার্চুয়াল কোর্ট নতুন অধ্যায়ের সূচনা : আইনমন্ত্রী

করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে আদালতের কার্যক্রম চালানোর বিষয়টিকে যুগান্তকারী উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, এটি বাংলাদেশের নতুন অধ্যায় সূচনার আইন। গতকাল রবিবার মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তার মাধ্যমে ফেইসবুক মেসেঞ্জার গ্রুপে এক ভিডিওবার্তায় এ কথা বলেন তিনি।

প্রযুক্তির মাধ্যমে আদালতের বিচারকাজ সংক্রান্ত অধ্যাদেশের খসড়া গত ৭ মে মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর গত শনিবার এ বিষয়ে অধ্যাদেশ করা জারি হয়। ভিডিওবার্তায় আনিসুল হক বলেন, ‘করোনাভাইরাসের প্রকোপে আদালতের সব কাজ প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তাই ভার্চুয়াল কোর্ট করে আমাদের বিচারকাজ চালিয়ে যাওয়ার যে উদ্দেশ্য এবং সেটাকে ডিজিটালি করার যে পরিকল্পনা ছিল, সেটাকে এগিয়ে এনে আমরা ভার্চুয়াল কোর্ট আরও আগে তৈরি করার পদক্ষেপ নিয়েছি। এ পদক্ষেপকে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে আনার জন্য অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এ অধ্যাদেশে সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট এবং নিম্ন আদালগুলোতে ট্রায়াল, বিচারিক অনুসন্ধান, দরখাস্ত, আপিল শুনানি, সাক্ষ্যগ্রহণ, আর্গুমেন্ট এবং আদেশ বা রায় দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।’

অধ্যাদেশের ধারা উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘ভার্চুয়াল উপস্থিতি সশরীরে আদালতে উপস্থিতি হিসেবে গণ্য হবে। এ কারণে ফৌজদারি কার্যবিধি এবং দেওয়ানি কার্যবিধি বা অন্য কোনো আইনে যা কিছুই থাকুক না কেন এ অধ্যাদেশ দ্বারা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ এবং হাইকোর্ট বিভাগ এবং প্রধান বিচারপতি প্র্যাকটিস ডাইরেকশনের মাধ্যমে আদালতের কার্যপ্রণালী নির্ধারণ করে বিচারকার্য চালাতে পারবেন।’ তিনি আরও বলেন, সাক্ষ্য আইন সংশোধন হওয়ার পরে এ অধ্যাদেশের মাধ্যমে বিচারিক কাজগুলোও শুরু করা যাবে। তখন নিম্ন আদালত এবং বিচারিক আদালত এ মাধ্যম ব্যবহার করে ট্রায়াল, সাক্ষ্যগ্রহণ এবং আর্গুমেন্ট শুনে রায় দিতে পারবেন।