করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে গত ১৮ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ঈদুল ফিতরের আগে এসব প্রতিষ্ঠান খোলার সম্ভাবনাও নেই। কিন্তু এই বন্ধের সময়ও রাজশাহীর অনেক বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান টিউশন ফি আদায়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নানাভাবে চাপ দিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। টিউশন ফি আদায়ে অভিভাবকদের কাছে বিকাশ, রকেট ও নগদের মতো মোবাইল ব্যাংকিং সেবার নম্বরও পাঠিয়ে দিচ্ছে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান। আবার অনেক প্রতিষ্ঠান বেতন আদায়ে ফোন করে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের চাপ দিচ্ছে। এ নিয়ে অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ১০০টি বেসরকারি বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৫০টির বেশি প্রতিষ্ঠান এখন বেতনের জন্য অভিভাবকদের চাপ সৃষ্টি করছে। অভিভাবকরা জানান, নগরীর শিমুল মেমোরিয়ালের তিনটি প্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের টিউশন ফি’র জন্য নানাভাবে চাপ দেওয়া হচ্ছে। বাদবাকি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেও একইভাবে চাপ দেওয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে এগিয়ে আছে নগরীর কিন্ডারগার্টেনগুলো। এ নিয়ে ফেইসবুকে অনেকে ক্ষোভও ঝেড়েছেন। এক অভিভাবক লিখেছেন, ‘রাজশাহীর অনেক বন্ধ স্কুলে ফোন করে দুই মাসের পুরো বেতন একসাথে চাওয়া হচ্ছে। বিষয়টা অভিভাবকদের জন্য বিব্রতকর, সাথে লজ্জাজনকও বটে! গত দুই মাস ধরে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেখানে বন্ধ রয়েছে, সেখানে ফোন করে বিকাশের মাধ্যমে টাকা চাওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত তা ভাববার বিষয়। গত জানুয়ারিতে সকল স্কুলে ভর্তিতে সেশন ফি’র নামে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়েছে। তারপর মাত্র ৩ মাস স্কুল চলার পরই বন্ধ হয়েছে। পরবর্তীতে কবে স্কুল খুলবে সেটাও অনিশ্চিত। সেখানে স্কুল কর্র্তৃপক্ষের বেতনের ভাবনা আসে কোথা থেকে?’
নগরীর সিঅ্যান্ডবি মোড়ের শিমুল মেমোরিয়ালে অধ্যয়নরত এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এই মহামারীর মধ্যেও প্রতিষ্ঠানটি বেতন নেওয়া বন্ধ করেনি। প্রতি মাসে বেতন নিতে বিকাশের মাধ্যমে বেতন পরিশোধের সিস্টেম চালু করে তা জানিয়ে এসএমএস করেছে, কল দিচ্ছে। এটা মেনে নেওয়ার মতো না।’
প্রতিষ্ঠানটির আরেক অভিভাবক বলেন, ‘করোনাভাইরাসের কারণে এপ্রিল মাসের টিউশন ফি পরিশোধের সক্ষমতা না থাকলেও তা পরিশোধ করতে হচ্ছে। এই বেতনটা তারা পরে নিলেও পারত। কিন্তু ৩০ এপ্রিলের মধ্যে বেতন পরিশোধ না করলে জরিমানার কথা বলা হয়।’
অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে সিঅ্যান্ডবি মোড়ের শিমুল মেমোরিয়ালের অধ্যক্ষ দিরাজ আহম্মেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণার পর থেকে রাজশাহীর অনেক প্রতিষ্ঠানই বেতন নিয়ে নিয়েছে। আমরাও বেতনের জন্য বলেছি। এজন্য জেলা প্রশাসক ও বোর্ড চেয়ারম্যানের অনুমতিক্রমে বেতন তোলা হচ্ছে। তবে কোনো অভিভাবককে চাপ দেওয়া হচ্ছে না। সবার জন্য একটিই বার্তা রাখা হয়েছে। তাদের ফোন করে বলা হচ্ছে। সেখানে কারও যদি অভিযোগ থাকে বা বেতন দিতে সমস্যা থাকলে আমরা মানবিক দিক থেকে দেখছি। আর অনেকের অর্ধ বেতনের আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের টিউশন ফি আমাদের আয়ের একমাত্র উৎস। এ থেকেই শিক্ষকদের বেতন দেওয়া হয়, অন্যান্য খরচ জোগান দেওয়া হয়। এজন্য আমরা বেতন আদায় করছি। তবে মানবিক দিকও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।’