আগামী ১৩ মে’র মধ্যে নতুন নিয়োগ পাওয়া ৫ হাজার ৫৪ নার্সকে তাদের কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে। নতুন নিয়োগ পাওয়া নার্সদের তাদের পছন্দ অনুযায়ী নিজ জেলা বা এলাকার করোনা রোগীর চিকিৎসায় সরকার নির্বাচিত হাসপাতালগুলোতে পদায়নের বিষয়টি অগ্রাধিকার দিয়ে বিবেচনা করবে
কর্র্তৃপক্ষ। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব জানান, এই নার্সদের করোনা রোগীদের সেবার জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যদি তারা সেবা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ আছে সরকারপ্রধানের।
তিনি আরও জানান,৫ হাজার ৫৪ নার্সের নিয়োগ অস্থায়ী হিসেবে নিয়োগ ও পদায়ন করা হলেও যোগদান করার দুই বছর পর চাকরির শর্ত অনুযায়ী করোনা রোগীর সেবায় সন্তোষজনক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তাদের স্থায়ী পদে নিয়োগ দেওয়া হবে।
এর আগে গত ৩০ এপ্রিল বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি) ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত নার্সিং পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে ৫ হাজার ৫৪ নার্সকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য সুপারিশ পাঠায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, করোনা সংকট (কভিড-১৯) মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে ছয় হাজার নার্স নিয়োগ দেওয়ার নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত নার্সদের সারা দেশের হাসপাতালগুলোর করোনা আক্রান্ত রোগীর সেবায় নিয়োগ দেওয়া হবে বলেও তখন জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী।
এরই ধারাবাহিকতায় নতুন ৫ হাজার ৫৪ নার্সকে প্রথমে অস্থায়ীভাবে নিয়োগ দিয়ে গত ৭ মে আদেশ জারি করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ।
পদায়নের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মো. হাবিবুর রহমান খান বলেন, করোনা রোগীর সেবায় পদায়নের পরই তারা কাজ শুরু করতে পারবেন। এর মধ্যে প্রশিক্ষণও নিতে হবে। সারা দেশে ১১০টি করোনা চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল তৈরি করা হয়েছে। এসব হাসপাতালে প্রয়োজন অনুযায়ী পদায়ন করা হবে।
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (নার্সিং ও মিডওয়াইফারি) মোহাম্মদ শাহাদত হোসাইন জানান, জাতীয় স্বার্থে জরুরি প্রয়োজনে তাদের নিয়োগ দিয়েছে সরকার। আজ (রবিবার/সোমবার) ও কালের মধ্যে তাদের পদায়ন করে আদেশ জারি করা হবে।
তবে যেহেতু সারা বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশেও বিশেষ পরিস্থিতি চলছে। তাছাড়া এখন সারা দেশের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বন্ধ এবং আন্তঃজেলা বা আন্তঃউপজেলা ভ্রমণেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তাই নির্ধারিত সময়ে কেউ যদি একান্তই অপারগ হয়ে পদায়ন করা কর্মস্থলে যোগ দিতে না পারে সেক্ষত্রে বিষয়টি মানবিকভাবে বিবেচনা সরকার।
এদিকে গতকাল শনিবার কভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীকে সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে জরুরি ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া দুই হাজার ডাক্তারকে (সহকারী সার্জন) পদায়ন করে আদেশ জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের দুই কোটি পরিবার এক কোটি একেবারে নিরন্ন আর এক কোটি অর্ধ অনাহারে থাকে, তাদের সবাইকে মাসিক রেশন দেন। সাপ্তাহিক নয়, কারণ সাপ্তাহিক দিলে তাদের বারবার রাস্তায় আসতে হবে তাই মাসিক দিতে হবে। মনে রাখবেন বাঘ যখন বনে খাবার না পায় তখন লোকালয়ে আসে।’
এ সময় তিনি সাংবাদিকদের জন্য ২০০ প্যাকেট ত্রাণের সাহায্য ঘোষণা দেন। বিক্ষোভ সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সাংবাদিক শওকত মাহমুদ, এম আবদুল্লাহ ও ইলিয়াস খান প্রমুখ।