শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর থানায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে দুই বোনকে শাবাল দিয়ে কুপিয়ে হাসপাতালে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে চাচাতো ভাই বাবুল কাজির (৬০) বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় রবিবার রাতে সখিপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার। এর আগে সকাল ৭টার দিকে ওই উপজেলার নঈমুদ্দিন সরদারকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন- ওই গ্রামের মৃত খালেদ কাজির মেয়ে নাজমা বেগম (৪০) ও আসমা বেগম (৩৫) ।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সখিপুর থানার নঈমুদ্দিন সরদারকান্দি গ্রামের নাজমা বেগমদের সঙ্গে তার চাচাতো ভাই বাবুল কাজির দীর্ঘদিন ধরে ১৮ শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল।
এ নিয়ে এলকায় অনেকবার দরবার সালিশ হয়েছে। রবিবার সকালে বাবুল কাজির নেতৃত্বে আল আমিন কাজি (২৫), আলমগীর কাজি (৪০), আবু তাহের (২৫), এনা সরকার (৬৫), শাহআলম কাজি (২৭)সহ ১০/১২ লোক মিলে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তারা সেই জমিতে জোরপূর্বক ঘর তুলে জমি দখল করতে যায়।
তখন নাজমা বেগম ও তার তিন বোন প্রতিবাদ করলে দেশীয় অস্ত্র শাবল, লোহার রড ও লাঠি নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায় তারা। তখন নাজমা বেগম ও তার বোন আসমা বেগমকে শাবাল ও রড দিয়ে পিটিয়ে এবং কোপ দিয়ে রক্তাক্ত জখম করা হয়।
স্থানীয়রা আহত অবস্থায় তাদেরকে ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। তাদের অবস্থা খারাপ দেখে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে। এ ঘটনায় রাতে সখিপুর থানায় একটি দায়ের করেছেন আহত আসমা বেগমের স্বামী নুরুল হক বেপারী।
আহত নাজমা বেগম বলেন, ১৮ শতাংশ জমি বাবার। কিন্তু বাবুল কাজিরা সেই জমি দখল করে নিতে চায়। আজ সকালে আমি বলি, আমাদের জমিতে ঘর তুলছেন কেন? বলতেই আমাকে ও আমার বোনকে রড ও শাবাল দিয়ে কোপ দেয়। তারপর কি হয়েছে জানি না। জ্ঞান ফিরলে দেখি হাসপাতালে। আমি এ হামলার বিচার চাই।
এদিকে, অভিযুক্ত বাবুল কাজির সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইলে তাকে পাওয়া যায়নি। তিনি পালিয়েছেন।
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার (ডি অর্থ- হাড় জোড়া বিশেষজ্ঞ) ডা. মো. আকরাম এলাহী বলেন, নাজমার মাথায় গভীর ক্ষত হয়েছে। বেশ কয়েকটি সেলাই লেগেছে। আর আসমার বাম হাত ভেঙে গেছে। নাজমা ও আসমার চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
সখিপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. এনামুল হক বলেন, জমি নিয়ে মারামারির ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।