ঘুম থেকে উঠি সকাল ৯টায় । এ লকডাউন সময়ে সকালে চায়ের চুমুকে চুমুকে বিভিন্ন পত্রিকার অনলাইন ভার্সন মোবাইলে পড়ি । অবসরে গান শুনি। নিজের লেখা দেশের গান । ফাহমিদা নবীর কণ্ঠে ‘এসো দু'চোখ ভরে দেখে যাও আমার এই ধান শালিকের দেশ/ পাখিদের কোলাহলে ঘুম ভেঙে জেগে ওঠে যে দেশ/ সেদেশ আমার বাংলাদেশ' এবং সামিনা চৌধুরীর কণ্ঠে 'মাগো তোমার কোলে মাথা রেখে আমি বাংলার আকাশ দেখি/ সে আকাশ স্বপ্নের মতো / আমি সে আকাশ ছুঁতে চাই একদিন প্রজাপতির মতো / আমি সে আকাশ ছুঁতে চাই একদিন বৃষ্টির মতো'।
আমার লেখা এই দুটি দেশের গান আমি বারবার শুনি । তা ছাড়া নতুন প্রজন্মের অনেকেই আমার লেখা গান গেয়েছেন। কিশোর, সাব্বির, পুলক, অবন্তী সিঁথি, মুহিন, লিজা, লুইপা, রন্টি, সুস্মিতা সাহা তাদের গানও শুনি। আমার ভালোলাগে প্রিয়াংকা গোপের গান । সেও আমার একটি দেশের গান গেয়েছেন । সুরকার, সংগীত পরিচালক এবং শিল্পী সুমন কল্যাণ দার একটি গান বারবার শুনছি। গানটি করোনা নিয়ে 'আমাদের দেখা হোক মহামারি শেষে /আমাদের দেখা হোক জিতে ফিরে এসে / আমাদের দেখা হোক জীবাণু ঘুমালে / আমাদের দেখা হোক সবুজ সকালে'।
অবসরে আবার বই পড়ছি আমার হাজং জনগোষ্ঠীকে নিয়ে লেখা ভারতীয় লেখক বীরেন হাজংয়ের 'দি হাজং অ্যান্ড দেয়ার স্ট্রাগল' বইটি এবং কবি কাজী রোজীর বুদ্ধি প্রতিবন্ধীদের নিয়ে লেখা 'লড়াই' বইটি ।
আমার ভালোলাগে উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থের ডেফোডিল কবিতাটি- 'আই ওয়ান্ডার্ড লোনলি এজ এ ক্লাউড' । কবিতাটির বাংলা' একলা ভাসি মেঘের মতো'।
'মেঘ যেমন ভেসে বেড়ায় দূর আকাশের বুকে/ উঁচু পাহাড় দেখে তারে লাজুক দুটি চোখে/ উপত্যকাও যায় ছাড়িয়ে সাদা মেঘের নাও/ এলোমেলো হেঁটে বেড়াই একলা অচিন গাঁও'।
আবার ভালোলাগে কবি নির্মলেন্দু গুণের প্রেম ও বিরহের কবিতা- 'তোমার চোখ এত লাল কেন' কবিতাটি বহুবার পড়েছি এবং শিমুল মুস্তফার কণ্ঠে 'আমি বলছি না ভালোবাসতেই হবে' লাইনটি শুনলেই বুকের ভেতর একটি শিহরণ অনুভব করি। কবি নির্মলেন্দু গুণের কবিতায় মাদকতা খুঁজে পাই,উন্মাদনা খুঁজে পাই ।
এই করোনার পরিস্থিতিতে লম্বা সময় সরকারি ছুটি দেওয়ার কারণে অসংখ্য মানুষ ঢাকা ছেড়ে তাদের গ্রামের বাড়িতে চলে গেছেন । হাজার হাজার গার্মেন্টস কর্মীরাও ট্রেনে,বাসে,লঞ্চে গাদাগাদি করে ভিড় ঠেলে বাড়ি গেছেন । করোনাভাইরাস ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় আবার সরকার তাৎক্ষণিকভাবে গণপরিবহন বন্ধ করে দিলেন এবং কিছুদিন পর আবার লকডাউন ঘোষণা করলেন ।
আমি আটকে গেলাম ঢাকায় । আমার সেই গ্রামের বাড়ি নেত্রকোণা জেলার সুসং দুর্গাপুরে আর যাওয়া হলো না । যাওয়া হলো না আমার সেই চিরচেনা গারো পাহাড়ের বুকে । কতদিন দেখি না আমার প্রিয় সোমেশ্বরী নদীকে । এই নদীর কাছে আমাদের কত ঋণ । শ্রমজীবী হাজারো মানুষের জীবিকা এই নদীকেন্দ্রিক । নদীতে কয়লা আর সিলিকন বালির প্রতিটি ভাঁজে ভাঁজে যেন লুকিয়ে আছে সেই হাজারো মানুষের জীবনে দুঃখ জয়ের গল্প । বর্ষায় সোমেশ্বরী নদীর টালমাটাল যৌবন যে দেখেনি সে কখনো বুঝতে পারবেনা স্রোতের বিপরীতে টিকে থাকা সংগ্রামী মানুষের ভাষা ।
অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি আমার সেই বিজয়পুরের সাদা মাটির দেশ দেখার আকাঙ্ক্ষা যেন দুর্নিবার ! খুব ইচ্ছে করে বহেরাতলীর বুকে শহীদ হাজং মাতা রাশিমনির স্মৃতিসৌধের সামনে গিয়ে শ্রদ্ধায় কিছুক্ষণ নিরবে দাঁড়িয়ে থাকি !
আহা কী বিপর্যয়,কী দুঃসময় যাচ্ছে মানবসভ্যতার । শুনছি কারো প্রিয়জন হারানোর আর্তনাদ আর কারো অর্থনৈতিক সংকটের করুণ কাহিনী। চারদিকে হু হু করে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা । চোখের সামনেই করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর খোকন ভাই।
কিছুই ভালো লাগছে না। গভীর দীর্ঘশ্বাস নিয়ে এখনো রাজধানীর বুকে টিকে আছি। কখন যে কী হয় বুঝতে পারছি না। তিন মাস ধরে আমেরিকান প্রবাসী বন্ধু ফিলিপ হাজংয়ের কোনো খবর পাচ্ছি না। সে নিউইয়র্কে থাকে। জানি না সে পরিবার নিয়ে কেমন আছে? আগে প্রতিরাতেই সে ফোন করত। এক থেকে দুই ঘন্টা কথা বলত। আরেকজন অভিভাবকতুল্য বড় ভাই রনি মানকিন আমেরিকার টেক্সাসে থাকেন তার সাথেও বেশ কিছুদিন ধরে কথা হচ্ছে না। ফেইসবুকে নক করলেও কোনো রেসপন্স পাচ্ছি না। সবকিছুই যেন থমকে গেছে। থাইল্যান্ডে চাকরি করে আমার আরেক বন্ধু সোহেল হাজং। সে থাইল্যান্ডে থেকেও করোনা মোকাবেলায় দরিদ্র হাজং পরিবারগুলোর জন্য জরুরি তহবিল গঠনের লক্ষ্যে ব্যাপক নেটওয়ার্কিং করছেন । সমাজের একটু স্বচ্ছল মানুষের কাছ থেকে চাঁদা সংগ্রহ করে কিছু চাল,ডাল,তেল,আলু,লবণ সাবান কিনে দরিদ্র হাজং পরিবারগুলোতে বিতরণ করছেন আমাদের হাজং ছাত্র-যুব সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ।
হাজং গ্রামগুলোতে মাঠ পর্যায়ে সমন্বয় করে যৌথভাবে কাজ করছেন বাংলাদেশ জাতীয় হাজং সংগঠন (বাজাহাস) এবং বাংলাদেশ হাজং ছাত্র সংগঠন (বাহাছাস) । পাশাপাশি হাজংদের লেওয়াটানা সাংস্কৃতিক দল কিছু দুঃস্থ পরিবারকে খাদ্যসামগ্রী দিয়ে সহযোগিতা করছে । বিরিশিরি কালচারাল একাডেমির প্রথম হাজং পরিচালক স্বপন হাজং মামার সাথে নিয়মিত কথা হয় করোনা মোকাবেলায় আমাদের করণীয় কি? কীভাবে অসহায় গরীব হাজং পরিবারের পাশে দাঁড়ানো যায় এসব নানান বিষয়ে ।
কিছুদিন আগে একুশে পদকপ্রাপ্ত লেখক প্রিয় মানুষ ড.নূরুন নবীর সাথে কথা হলো । তিনি সপরিবারে নিউইয়র্কে আছেন । তিনি তার ছেলে এবং ছেলের বৌয়ের করোনায় আক্রান্তের কথা জানালেন ।
চীনে করোনা ভাইরাস শনাক্তের আগে প্রখ্যাত কলামিস্ট আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী বাংলাদেশে এসেছিলেন । আঠারো বছর বয়সে তিনি লিখেছিলেন 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি' সেই অমর কালজয়ী গান। কথা বলছিলাম তাঁর সাথে আমাদের আদিবাসী ভাষাগুলো টিকিয়ে রাখার ব্যাপারে । সেখানেই প্রথম পরিচয় হয় ড. নূরুন নবীর সাথে । ভাষা ও সাহিত্য একুশে পদকপ্রাপ্ত লেখক ড. নূরুন নবীর 'বুলেটস অব ৭১-অ্যা ফ্রিডম ফাইটার’স স্টোরি',‘আমার একাত্তর আমার যুদ্ধ', ‘জন্মেছি এ বাংলায়' বইগুলো পড়া হয়নি এখনো।
দুই বাংলার সাহিত্যের ফেরিওয়ালা কবি আসলাম সানী এবং একুশে পদকপ্রাপ্ত সংগঠন 'দি মাদার ল্যাঙ্গুয়েজ লাভার্স অব দি ওয়ার্ল্ড সোসাইটি',বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের জেনারেল সেক্রেটারি বীরমুক্তিযোদ্ধা কবীর মেহরাব ভাইয়ের সাথে বর্তমান পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা হয় । তারা দুজনই আমার অভিভাবক । আর মাতৃতুল্য অভিভাবক বলতে বরেণ্য কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন এবং কবি কাজী রোজী তাঁরা দুজনই আমাকে ফোন করেন । আমার নিয়মিত খোঁজখবর নেন। সরকারি ছুটি আবার আগামী ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে । সামনে হয়তো আরো ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে আমাদের । এই লকডাউনের মধ্যেই সেলিনা হোসেনের 'কাঠ কয়লার ছবি' উপন্যাসটি তিনবার পড়ে শেষ করেছি । এই উপন্যাসে যুদ্ধশিশু এবং সিলেটের চা শ্রমিকদের শোষণ ও বঞ্চনার কথা বলা হয়েছে । মূলত এই উপন্যাসটি একটি লস্ট আইডেনটিটির গল্প ।
করোনার এই দুর্যোগে আমার হাজং ১০৪টি গ্রামগুলোতে চরম খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে । ত্রাণের সহায়তা চেয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সেক্রেটারি আশরাফ সিদ্দিকী বিটুর কাছে একটি আবেদন পত্র মেইলে পাঠানো হয়েছে । মেইলটি হাজং যুব সংগঠনের সভাপতি আদিবাসী নেতা অ্যাড. বিপুল হাজংয়ের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে । জানি না কবে আমাদের কর্মহীন দরিদ্র ১ হাজার হাজং পরিবারের জন্য ত্রাণের ব্যবস্থা হবে ?
অনেক স্বপ্ন ছিল মুজিববর্ষে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে আমার লেখা একটি গানের অ্যালবাম প্রকাশ করব। আমার এই অ্যালবামে সার্কভুক্ত ছয়টি দেশের আটজন শিল্পীর কণ্ঠে গান অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে । অ্যালবামটির সবগুলো গান বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে । 'বঙ্গবন্ধু তুমি স্বপ্ন বাঙালির' শিরোনামের অ্যালবামটিতে যারা কণ্ঠ দিয়েছেন তাঁদের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে সুবীর নন্দী এবং ফাহমিদা নবী । বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে সুবীর নন্দীর এটিই ছিল শেষ গান । গানটিতে কণ্ঠ দেওয়ার কিছুদিন পর তিনি অসুস্থ হয়ে চলে গেলেন না ফেরার দেশে । আমরা হারালাম সুবীর নন্দীর মতো একজন নন্দিত সংগীতশিল্পীকে । ভারত থেকে গেয়েছেন নচিকেতা এবং শুভমিতা । বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে নচিকেতা এবং শুভমিতার এটিই প্রথম গান । নেপাল থেকে আশরা কুনওয়ার । ফেইসবুকে ছবিতে দেখলাম চীনে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার কিছুদিন আগে আশরা কুনওয়ার চীনের উহান থেকে নেপালে ফিরেছেন । তার গত মার্চের ১০ তারিখে গানে কণ্ঠ দেয়ার কথা ছিল । পরিস্থিতি বিবেচনায় কণ্ঠ নেয়ার তারিখ আবার পিছিয়ে দিলাম । পাশাপাশি সংগীতশিল্পী সাংগে হ্লাদেন শেরিং (ভুটান),ডেভিড (শ্রীলঙ্কা) এবং শালাবি (মালদ্বীপ) থেকে কণ্ঠ দেয়ার কথা ছিল । কিন্তু করোনার কারণে থেমে গেল তাঁদের কণ্ঠ নেয়ার কাজ । থেমে গেল 'বঙ্গবন্ধু তুমি স্বপ্ন বাঙালির' অ্যালবামের কাজ । গত দুবছর ধরে একান্ত ব্যক্তিগত অর্থায়নে এই অ্যালবামের কাজ করতে গিয়ে আবার অর্থ সংকটেও পড়তে হলো আমাকে । সুরকার যাদু রিছিল ঢাকায় টিকতে না পেরে চলে গেলেন তার গ্রামের বাড়ি মধুপুরে । সংগীত পরিচালক মুশফিক লিটু ভাইয়ের স্টুডিও বন্ধ । তার কাছে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে আমার দুটি গানের কাজ আটকে আছে । কথা হয়েছে প্রিন্স মাহমুদ ভাইয়ের সাথে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে নতুন গান নিয়ে ।
হোয়াটসঅ্যাপে কথা হয় পশ্চিম বাংলার অনেক বন্ধু,কবি,লেখক,সাংবাদিক,শিল্পীদের সাথে । কথা হয় 'লাল পাহাড়ের দেশে যা /রাঙামাটির দেশে যা এখানে তোকে মানাইসে নাইকো / এক্কেবারে মাইনসে নাইকো /' গানের গীতিকার কবি অরুণ কুমার চক্রবর্তীর সাথে ।
পশ্চিমবঙ্গের খ্যাতিমান সুরকার উদয় বন্দোপাধ্যায়ের কাছে আমার লেখা দুটি গানের সুর করা আছে । শুভমিতার একটি জনপ্রিয় গান 'যেভাবেই তুমি সকাল দেখো সূর্য কিন্তু একটাই' গানের সুরকার উদয় বন্দোপাধ্যায় । আমার দেখা একজন চমৎকার মনের মানুষ ।
মুজিববর্ষে সংগীতশিল্পী শুভমিতার বাংলাদেশে আসার কথা ছিল । তাঁকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন ভাই । তিনি সারা দেশব্যাপী গ্রিন এনভায়রনমেন্ট মুভমেন্ট এর নেতৃত্ব দিচ্ছেন । এই মুভমেন্টের সাথে সারাদেশের তরুণদের সম্পৃক্ত করছেন । তিনি তারুণ্যের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপন অভিযান পরিচালনা করছেন শহর থেকে গ্রাম পর্যায়ে । আসুন আমরাও এই গ্রিন এনভায়রনমেন্ট মুভমেন্টে অংশগ্রহণ করি,বৃক্ষকে ভালবেসে একটি সবুজ সকালের স্বপ্ন দেখি ।
মুজিববর্ষে শুভমিতার আমার লেখা 'দেখো তোমার জন্যে বাংলার আকাশে গাঙচিল ওড়ে যায় / দেখো তোমার জন্যে রঙ তুলিতে কত শিশু ছবি এঁকে যায় / টুঙ্গীপাড়ার মেঠোপথ ধরে / সবুজের বুক চিরে আবার এসো পিতা সেই মধুমতি নদীর তীরে /' গানটি গাওয়ার কথা ছিল । করোনা থামিয়ে দিল মুজিববর্ষের সব আয়োজন । থামিয়ে দিল আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের অনেক কাজ,আমাদের ছুটে চলার গতি ।
করোনার এই দুর্যোগ মুহূর্তে জীবনের ভুল-ত্রুটির হিসেব করছি আর প্রিয় সংগীতশিল্পী নচিকেতার সেই গান শুনছি –'আমি পথভোলা হতে চাই বারবার / ঠিকানাতো মিলে যাবে একদিন / তোমরা ঠিকানাহীন ঘরেতেই থেকো পথেতে নামোনি যারা কোনোদিন'। বাংলা গানের জীবন্ত কিংবদন্তি নচিকেতার গান শুনে যেমন আশার আলো দেখি তেমনি তাঁর কথা শুনে অনুপ্রাণিত হই,উজ্জীবিত হই । আবার নতুন করে স্বপ্ন দেখি যদি এই করোনায় বেঁচে থাকি তবে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে আমার অসমাপ্ত অ্যালবামের কাজটি শেষ করব । আমার দীর্ঘদিন বুকের গভীরে লালিত স্বপ্ন পূরণ করব।
শেষ করছি প্রিয় লেখক নচিকেতার অসাধারণ কথা দিয়ে 'আমার জীবনে প্রচুর ভুল আছে,ভ্রান্তি আছে । যে কারণে আমি লিখেছিলাম সঠিক জানতে গেলে ভুল করো অবিরত '।
আমি সঠিক জেনেছি কিনা জানিনা । কিন্তু আমার জীবনে প্রচুর ভুল করেছি । তার জন্যে আমার সিরিয়াসলি কোনো অনুশোচনা নেই । যারা একটি ভুল করেই মাথা চাপকান ও মা কি করে ফেললাম । তাদের বলল জীবন অনেক বড় । একটি ভুল দিয়ে জীবনকে মাপা যায় না । আমার তো লক্ষ লক্ষ ভুল আছে জীবনে ।
সুজন হাজং: গীতিকার।