বরাদ্দ কমছে পদ্মা মেট্রোতে বাড়ছে পারমাণবিকে

আগামী অর্থবছরের (২০২০-২১) বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বেশ কয়েকটি মেগা প্রকল্পে বরাদ্দের পরিমাণ কমছে। এর মধ্যে পদ্মা সেতুতে ৩৭০ কোটি টাকা, মেট্রোরেলে ৩০১২ কোটি টাকা, কর্ণফুলী টানেলে ৮৪৯ কোটি টাকা ও পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্পে ২৬১ কোটি টাকা বরাদ্দ কমছে। তবে কয়েকটি প্রকল্পে বরাদ্দ বাড়ছে। এর মধ্যে দেশের অন্যতম বড় প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ৮৪৮ কোটি টাকা, দোহাজারী-ঘুনধুম রেললাইনে ৪০০ কোটি টাকা ও পায়রা বন্দরে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ বাড়ছে।

আজ মঙ্গলবার পরিকল্পনা বিভাগে আগামী অর্থবছরের এডিপি চূড়ান্ত করতে বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান সভাপতিত্ব করবেন। এজন্য একটি খসড়া এডিপি তৈরি করেছে পরিকল্পনা কমিশন। খসড়া প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে এমন তথ্য জানা গেছে।

বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলো বলছে, বরাদ্দ কম চাওয়ার পেছনে করোনাভাইরাস দায়ী। কারণ করোনার কারণে প্রকল্পের গতি হারিয়েছে। আবার পুরোদমে চালু করতে সময় লাগবে। ফলে বাড়তি বরাদ্দ নিলে ব্যয় না হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এজন্য বরাদ্দ কম চেয়েছে বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলো। তাদের দাবি, প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি এলে সংশোধিত এডিপিতে বাড়তি বরাদ্দ চাওয়ার সুযোগ রয়েছে। প্রয়োজনে তখন চাওয়া হবে।

এ বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘কমিশন বলছে, বস্তবায়ন সংস্থাগুলোর চাহিদা অনুসারেই বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়েছে। এক্ষেত্রে যারা বেশি বরাদ্দ চেয়েছে তাদের বেশি দেওয়া হয়েছে; যারা কম চেয়েছে তাদের কম দেওয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘অনেকে করোনার কারণে অর্থ ব্যয় করতে পারবে কি না তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছে। এজন্য বরাদ্দ কম চাইতে পারে। তবে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে প্রকল্পে বরাদ্দ-সংকট রাখা হবে না।’

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা যায়, চলতি অর্থবছরে (২০১৯-২০) মূল এডিপিতে পদ্মা সেতু প্রকল্পে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৫ হাজার ৩৭০ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। আগামী অর্থবছরে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে ৫ হাজার কোটি টাকা। এ হিসাবে বরাদ্দ কমছে ৩৭০ কোটি ৬৯ লাখ টাকা।

মূল এডিপিতে মেট্রোরেল প্রকল্পে বরাদ্দ ছিল ৭ হাজার ২১২ কোটি টাকা। কিন্তু আগামী অর্থবছরের এডিপিতে ৪ হাজার ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। এ হিসাবে বরাদ্দ কমছে ৩ হাজার ১২ কোটি টাকা।

এ দুই প্রকল্পের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, করোনায় প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি কমছে। গতি বাড়িয়ে অর্থ ব্যয় বাড়াতে পারলে সংশোধিত এডিপিতে বাড়তি বরাদ্দ চাওয়া হবে।

পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্পে চলতি অর্থবছর মূল এডিপিতে বরাদ্দ ছিল ৩ হাজার ৯৯৫ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরে এ প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে ৩ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা। এ হিসাবে বরাদ্দ কমছে ২৬১ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে অন্যান্য অঞ্চলের সরাসরি রেল যোগাযোগ শুরু হবে। এটি অগ্রাধিকার তালিকাভুক্ত প্রকল্প।

একই সঙ্গে অগ্রাধিকারভুক্ত কর্ণফুলী টানেল প্রকল্পে আগামী অর্থবছরের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে ৫০০ কোটি টাকা, চলতি অর্থবছরের মূল এডিপিতে বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ৩৪৯ কোটি টাকা। এ হিসাবে বরাদ্দ কমছে ৮৪৯ কোটি টাকা।

অন্যদিকে বেশ কয়েকটি মেগা প্রকল্পে বরাদ্দ বাড়ছে। এর মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বরাদ্দ বাড়ছে ৮৪৮ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের মূল এডিপিতে বরাদ্দ ছিল ১৪ হাজার ৯৮০ কোটি টাকা, আগামী অর্থবছরের জন্য দেওয়া হচ্ছে ১৫ হাজার ৮২৮ কোটি টাকা। 

পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে ৭০০ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের মূল এডিপিতে বরাদ্দ ছিল ৫০০ কোটি টাকা। এ হিসাবে বরাদ্দ বাড়ছে ২০০ কোটি টাকা।

দোহাজারী-কক্সবাজার-ঘুনধুম প্রকল্পে চলতি অর্থবছর বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরে এ প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। বরাদ্দ বাড়ছে ৪০০ কোটি টাকা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দোহাজারী-কক্সবাজার-ঘুনধুম প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মফিজুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, চলতি অর্থবছরের ১ হাজার ১০০ কোটি টাকার মধ্যে ৮০০ কোটি টাকার বেশি খরচ হয়েছে। বাকি সময়ে আরও কিছু টাকা খরচ হবে। আগামী অর্থবছরে বাড়তি চাওয়া হয়েছে, প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি আসবে বলে আশা করছি। কারণ এতদিনে করোনা পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটবে।

এছাড়া বঙ্গবন্ধু রেলসেতু প্রকল্প ২০১৬ সালে অনুমোদনের সময় বরাদ্দ অনুমোদন হয়েছিল ৯ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা। চার বছরের মাথায় নতুন করে ৭ হাজার ৪৭ কোটি টাকা ব্যয় বাড়িয়ে প্রকল্পটি সংশোধন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কাজে অগ্রগতি মাত্র ২ শতাংশ। এ অবস্থায় আগামী অর্থবছরের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে ২ হাজার ৭৪৩ কোটি টাকা।