দ. এশিয়ায় করোনা মোকাবিলায় সেরা শ্রীলঙ্কা, খারাপ ভারত

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় দক্ষিণ এশিয়ার চারটি বড় দেশের মধ্যে শ্রীলঙ্কা সবচেয়ে ভালো করেছে। সবচেয়ে খারাপ করেছে ভারত। অন্যদিকে ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে বাংলাদেশের অবস্থা তুলনামূলক ভালো। ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস আমহার্স্টের দুজন ভারতীয় অধ্যাপক দীপঙ্কর বসু ও প্রিয়াঙ্কা শ্রীবাস্তবের গবেষণায় এমন চিত্র উঠে এসেছে বলে খবর দিয়েছে বিবিসি। অধ্যাপকরা বলছেন, দৈনিক রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি কিংবা মৃত্যুহার সব দিক থেকেই ভারতের অবস্থা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ। গবেষণায় দক্ষিণ এশিয়ার চারটি দেশ তাদের ৫০তম রোগী রিপোর্ট করার পর পরবর্তী ৪০ দিনে কীভাবে সংক্রমণ ছড়িয়েছে, তাও দেখানো হয়েছে। এখানেও সেরা শ্রীলঙ্কা। তাদের মোট রোগীই শুধু ভারত-পাকিস্তানের চেয়ে অনেক গুণ কম নয়, দৈনিক বৃদ্ধির হারও বিগত বেশ কিছুদিন ধরে কমছে। অন্যদিকে ভারত ও পাকিস্তান প্রায় পরস্পরের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলেছে। তুলনায় সামান্য ভালো অবস্থানে বাংলাদেশ। যদিও দেশটিতে প্রাদুর্ভাব শুরুই হয়েছে একটু দেরিতে।

কভিড কতটা প্রাণঘাতী চেহারা নিয়েছে দীপঙ্কর বসু ও প্রিয়াঙ্কা শ্রীবাস্তব গবেষণায় সেটাও দেখিয়েছেন। বাংলাদেশে মৃত্যুর হার শুরুতে বেশি হলেও মাসখানেকের মধ্যে সেটি তারা দুই শতাংশের নিচে আনে। শ্রীলঙ্কায় এখন সেটা মাত্র এক শতাংশের মতো। অন্যদিকে ভারত ও পাকিস্তানে মৃত্যুর হার বেড়েই চলেছে এবং চারটি দেশের মধ্যে ভারতেই মৃত্যুর হার সর্বোচ্চ, সাড়ে তিন শতাংশের বেশি।

শ্রীলঙ্কার বিষয়ে লে. জেনারেল সভেন্দ্র সিলভা বলেন, ‘১১ মার্চ প্রথম রোগী শনাক্ত হলেও কভিড টাস্কফোর্স করা হয়েছিল ২৬ জানুয়ারি। তখনই উহানফেরত ৩৪ ছাত্রের জন্য বিশেষ কোয়ারেন্টাইন সেন্টার তৈরি করে সেনাবাহিনী। এখন দেশের তিন-চতুর্থাংশ এলাকা লকডাউনের বাইরে। আমরা জনগণকে সামাজিক দূরত্ব ও বেস্ট প্র্যাকটিস অব মেডিসিন বোঝাতে পেরেছি।’