নতুন প্রক্রিয়ায় নির্মিত হবে সিনেমা

অমিতাভ রেজা পরিচালিত ‘আয়নাবাজি’র চরিত্রদের নিয়ে তিন পর্বের একটি সিরিজের প্রচার শুরু হয়েছে গতকাল থেকে। সিরিজ ও অন্যান্য বিষয়ে অমিতাভ রেজা চৌধুরীর সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত জানাচ্ছেন সুদীপ্ত সাইদ খান

করোনা পরিস্থিতিতে ঘরে বসেই সময় কাটাচ্ছেন জনপ্রিয় নির্মাতা অমিতাভ রেজা চৌধুরী। কীভাবে কাটছে তার ঘরবন্দি সময়? অমিতাভ বলেন, ‘বিভিন্ন পরিকল্পনা করছি, বাসায় বসে যতটা পারা যায় কাজ গুছিয়ে নিচ্ছি। পরিবারকে সময় দিচ্ছি। সময় খারাপ কাটছে না, ভালোই কাটছে। শুধু চিন্তা হচ্ছে, এভাবে বসে থাকলে আমাদের আর্থিক সমস্যাটা বাড়তে থাকবে।’

২০১৬ সালের বহুল আলোচিত সিনেমা আয়নাবাজির আয়না, হৃদি ও ক্রাইম রিপোর্টার সাবেরকে আবারও পর্দায় হাজির করলেন অমিতাভ রেজা। গতকাল থেকে তিন পর্বের সিরিজটি প্রচারিত হচ্ছে। এ বিষয়ে অমিতাভ রেজা বলেন ‘আয়নাবাজি’ সিরিজের প্রতিটি পর্বের দৈর্ঘ্য ৭ থেকে ৮ মিনিট। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত আয়না কীভাবে প্রতিকূলতাকে জয় করে আর প্রতিবেশী এবং নিকটজনরা কীভাবে তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছেন, সেটাই এই সিরিজে দেখানো হচ্ছে।’

কীভাবে এই সিরিজের ভাবনা এলো সে বিষয়ে অমিতাভ বলেন, ‘ভাবছিলাম, এই কভিড সিচুয়েশনে কী করা যায়? তখন ভাবলাম যে নতুন কিছু করার চেয়ে বরং জনপ্রিয় চরিত্র দিয়ে কিছু করা যায় কি না। যেমন আমাদের আয়না আছে, হৃদি আছে, সাবের আছে ওদের দিয়ে কোনো সচেতনতামূলক কিছু তৈরি করা যায় কি না? সেখান থেকেই এটা করা। এরপর আদিল ভাই দায়িত্ব নিলেন। ব্র্যাকের মাধ্যমে কাজটা শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখল। তিনটা পর্বে সিরিজটা করা হয়েছে।’

লকডাউনের ভেতর শ্যুটিং করার বিষয়ে অমিতাভ বলেন, ‘আমাদের শিল্পীরা আগেই যেহেতু নিজেদের চরিত্রগুলোতে কাজ করেছে ফলে তাদের সেই সেই চরিত্রগুলো ফুটিয়ে তুলতে খুব বেশি একটা নির্দেশনা দিতে হয়নি। শুধু কী করতে হবে, সেটা তাদের বলা হয়েছে তারা নিজেরাই বাসায় বসে বাসার লোকজনের সহায়তা নিয়ে শ্যুট করে পাঠিয়ে দিয়েছে। এরপর আমি আমার এডিটরদের সঙ্গে আলাপ করে যার যার ঘরে বসেই কাজটা করেছি।’

‘রিকশা গার্ল’ সিনেমার শ্যুটিংও শেষ করে এনেছেন পরিচালক। মুক্তির অপেক্ষায় থাকা সিনেমাটি কবে আলোর মুখ দেখবে? অমিতাভ বলেন, ‘এখন তো সারা পৃথিবীই অনিশ্চিত। ফলে বলতে পারছি না, রিকশা গার্ল কবে নাগাদ মুক্তি দিতে পারব। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বিবেচনা করব। এডিট করে রেখেছি, ফাইনাল কাজ করতে আমার আরও মাসখানেক লাগবে।’

ঘরে বসে নতুন নতুন প্রজেক্টের পরিকল্পনাও করছেন অমিতাভ। তিনি বলেন, ‘এখন তো করোনা পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে সবাই যাচ্ছি। কিছু জিনিস গুছিয়ে নিচ্ছি। এই পরিস্থিতিতে অনেক কিছু নতুন করে ভাবছি। তো ‘আয়নাবাজির’ এই সিরিজ বানাতে গিয়ে পরীক্ষা করলাম যে কাজ করতে পারব কি না, কিন্তু এটা খুবই ডিফিকাল্ট। তারপরও চেষ্টা করে দেখতে হবে।’

ফিল্ম মেকিংয়ের ক্ষেত্রে এই প্রসেসটা কোনো প্রভাব তৈরি করবে কি না? জবাবে তিনি বলেন, ‘ঠিক এই প্রসেসটাই প্রভাব ফেলবে কি না জানি না, তবে পুরো দুনিয়ার ফিল্ম মেকাররাই অন্য ধরনের সিনেমা নির্মাণ করার চেষ্টা করছেন। নতুন কিছু করার চেষ্টা করা হচ্ছে। যেমন আগে সিনেমায় আলোকসজ্জা বা জমকালো কিছু তুলে ধরে নির্মিত সৌন্দর্য তুলে ধরা হয়েছে সেখানে এখন থেকে অতটা নির্মিত জিনিস নয় বরং একদম বাস্তবতার কাছাকাছি কিছু তুলে ধরা হবে। মানে নির্মিত সৌন্দর্য থেকে বের হয়ে আমরা বাস্তব সৌন্দর্যের দিকে যাত্রা করব। এটা হবে অনেকটা পেনসিলে আঁকা কবিতা বা ছবির মতো। এটার মূল গল্পটা হবে এটার ভাবনা। চিন্তাটাই মানুষের কাছে প্রশংসিত হবে। আলোকসজ্জা, মেকআপ, লাইট, টেকনিক ওগুলো এখানে তেমন কাজ করবে না বলে আমার মনে হয়।’

করোনা পরবর্তী শ্যুটিং পলিসি কী হতে পারে? জবাবে তিনি বলেন, ‘নতুনভাবে সব করতে হবে। নতুন স্বাভাবিকতায় আমাদের অনেক পরিকল্পনা করতে হবে। কীভাবে শ্যুট করা যায়, কীভাবে কী করতে হবে। কিছু নিয়মকানুন তৈরি হচ্ছে। সব তো আর এই মুহূর্তে বলা সম্ভব না তবে আর্টিস্টদের বাড়ি থেকে নিয়ে আসতে হবে, মেকআপ বাসাতে বসেই নেবে, বয়স্ক শিল্পীদের আনা যাবে না। প্রতিটি শ্যুটিং স্পটে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্যবস্থা নিতে হবে, কম দিনে শ্যুট করতে হবে। এগুলো ছাড়াও আরও কিছু নীতিমালা গ্রহণ করতে হবে। আশা করি নীতিমালা শিগগিরই হয়ে যাবে।’