ভ্যাকসিন না আসা পর্যন্ত তথাকথিত হার্ড ইমিউনিটি অর্জনের মাধ্যমে নভেল করোনাভাইরাস মহামারীকে পরাজিত করার ক্রমবর্ধমান আলোচিত ভাবনাকে হিসেবনিকেশের ভুল এবং এই চিন্তাভাবনা বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
গত সোমবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ইমার্জেন্সি প্রোগ্রামের প্রধান মাইকেল রায়ান এক ব্রিফিংয়ে বলেন, এটা সত্যিই বিপজ্জনক, বিপজ্জনক হিসেবনিকেশ।
যেসব দেশের করোনা মোকাবিলা ব্যবস্থা শিথিল এবং কোনো ব্যবস্থাই নেয়নি; হার্ড ইমিউনিটির ধারণাটি সম্ভবত সেসব দেশের। তাদের ধারণা হঠাৎ করেই তারা ম্যাজিক্যালি হার্ড ইমিউনিটিতে পৌঁছাবে। কিন্তু এই পথে যদি আমরা কিছু বয়স্ক মানুষকে হারিয়ে ফেলি, তখন কী হবে?
ভেটেরিনারি মেডিসিন শাস্ত্র থেকে হার্ড ইমিউনিটির ধারণাটির উদ্ভব হয়েছে। যা প্রাথমিকভাবে জনস্বাস্থ্যের সামগ্রিক অবস্থার দিকে ইঙ্গিত করে। প্রাকৃতিকভাবে একটি জনগোষ্ঠীর বৃহৎ অংশের শরীরে কোনো সংক্রামক রোগের প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে উঠবে এমন ধারণা থেকে হার্ড ইমিউনিটির উৎপত্তি। তখন ওই জনগোষ্ঠীর মধ্যে যারা সংক্রমিত হননি; তাদের মধ্যে রোগটির কম বিস্তার ঘটবে। এর অর্থ হলো ভ্যাকসিন না আসা পর্যন্ত অধিকাংশ মানুষকেই শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দিয়েই করোনাকে ঠেকাতে হবে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, এই চিন্তাভাবনা নিয়ে করোনা মোকাবিলায় অগ্রসর হলে চরম মূল্য দিতে হবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওই কর্মকর্তা বলেন, মানুষের মাঝে হার্ড ইমিউনিটি তখনই প্রযোজ্য যখন বিজ্ঞানীদের হিসেবনিকেশ করা দরকার যে, একটি সমাজে কত সংখ্যক মানুষকে ভ্যাকসিন দেওয়া গেলে যথাযথ হার্ড ইমিউনিটিতে পৌঁছানো যাবে। বিশ্বের বৃহৎসংখ্যক জনগোষ্ঠী ইতিমধ্যে কভিড-১৯-এ সংক্রমিত হয়েছেন বলে যে ধারণা ছড়িয়ে পড়েছে, মহামারীবিষয়ক প্রাথমিক গবেষণায় সেটি ভুল প্রমাণিত হয়েছে। যারা ভাইরাসটিতে সংক্রমিত হয়েছেন তাদের বড় একটি অংশ গুরুতর অসুস্থ।
হার্ড ইমিউনিটির চিন্তাভাবনাকারী নির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম উল্লেখ করেননি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এই কর্মকর্তা। তবে ইউরোপের দেশ সুইডেনসহ বিশ্বের আরও কিছু দেশ করোনা মোকাবিলায় কঠোর লকডাউন আরোপ না করায় সেসব দেশের দিকে ইঙ্গিত করে এসব কথা বলেছেন মাইকেল রায়ান। কারণ ওইসব দেশের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা লকডাউন না থাকলে হার্ড ইমিউনিটি গড়ে উঠতে পারে বলে যুক্তি দেখিয়েছেন।