মৃত ছেলেসহ মাকে নামিয়ে দেওয়া হলো বাস থেকে

ঢাকা থেকে জয়পুরহাটে যাওয়ার পথে বাসেই মারা গেছেন জ্বর-সর্দিতে আক্রান্ত এক শ্রমিক। তিনি করোনায় মারা গেছেন সন্দেহে তার লাশ ও মাকে বাস থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। এদিকে সর্দি, কাশি, জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে শরীয়তপুরে মারা গেছেন এক রিকশাচালক। দেশ রূপান্তরের নিজস্ব প্রতিবেদক, ব্যুরো অফিস, প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর অনুযায়ী গত ৩৩ দিনে সর্দি, কাশি, জ্বর ও শ্বাসকষ্টে এ নিয়ে মৃত্যু হলো ১৫৪ জনের।

জয়পুরহাট : করোনাভাইরাসে মৃত্যু হয়েছে সন্দেহে ঢাকা থেকে জয়পুরহাটে আসা একটি বাস থেকে এক যাত্রীর লাশ ও তার মাকে পথেই নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার ভোরে শহরের অদূরে বগুড়া-জয়পুরহাট সড়কের হিচমি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মৃত মিজানুর রহমান (৫০) নওগাঁর ধামরইরহাট উপজেলার জাহানপুর গ্রামের আতোয়ার হোসেনের ছেলে। জয়পুরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিল্টন চন্দ্র রায় জানান, মিজানুর রহমান ঢাকায় শ্রমিকের কাজ করতেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কিডনি রোগে আক্রান্ত। সম্প্রতি তার জ্বর-সর্দি হয়। গত সোমবার রাতে মাকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি আসার সময় রাস্তায় তার মৃত্যু হয়। এ সময় বাসের অন্য যাত্রীরা করোনায় তার মৃত্যু হয়েছে সন্দেহ করে। পরে তার লাশ ও মাকে বাস থেকে নামিয়ে দেয় তারা। খবর পেয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে মৃত ব্যক্তির ও তার মায়ের নমুনা সংগ্রহ করেছে।

এর আগে এ ধরনের আরেকটি ঘটনা ঘটেছিল বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায়। ওইদিন ঢাকা থেকে রংপুরগামী গাড়ি থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল এক জ্বর-শ্বাসকষ্ট ও কাশির রোগীকে। পরে ওই ব্যক্তির করোনাভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়ে এবং সবশেষে বগুড়ার মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে তিনি বাড়ি ফিরে যান।

শরীয়তপুর : নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গতকাল সকাল সাড়ে ৭টার দিকে এক রিকশাচালকের (৫০) মৃত্যু হয়েছে। উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা তিনি। জেলা প্রশাসক কাজী আবু তাহের জানিয়েছেন, মৃত্যুর আগে করোনা পরীক্ষার জন্য গত সোমবার তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়। তার বাড়ি ও আশপাশের বেশ কয়েকটি বাড়ির লোকজনসহ সংস্পর্শে আসা সবাইকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। তিনি আরও জানান, সোমবার ওই ব্যক্তি জ্বর, ঠান্ডা, গলাব্যথা ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। তখন তাকে ভর্তি করে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে রাখা হয়।