করোনা পরিস্থিতিতে চরম খাদ্যসংকটে পড়ার কথা জানিয়েছে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ৬৪ শতাংশ শিশুর পরিবার। তাদের ভাষ্য, চলমান লকডাউনে পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্যদের আয়ের সুযোগ হারাতে থাকায় খাদ্য সুরক্ষা পরিস্থিতি সংকটজনক পর্যায়ে পৌঁছায়। সম্প্রতি সেভ দ্য চিলড্রেন ইন বাংলাদেশ-এর এক জরিপে এমন তথ্যই উঠে এসেছে। জরিপে বলা হয়, শহরের বস্তি, চা-বাগান ও গ্রামাঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত ১০-১৮ বছর বয়সী ১২১ জন শিশুর সঙ্গে ফোনে কথা বলে এসব তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এই ১২১ জনের মধ্যে ৪০ শতাংশ ছেলে ও ৬০ শতাংশ মেয়ে। আছে প্রতিবন্ধী শিশুও। জরিপের লক্ষ্য ছিল দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিশুদের ওপর কভিড-১৯ সংকটের প্রভাব উন্মোচন করা। পাশাপাশি এর বিরূপ প্রভাব হ্রাস করার জন্য সরকারি সংস্থা ও এনজিওর কৌশল এবং কার্যক্রমকে শক্তিশালী করা। ওই সব শিশুর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাদের বেশির ভাগই সরকারি বা বেসরকারি সংস্থা থেকে কোনো সাহায্য পায়নি।
সেভ দ্য চিলড্রেন বলছে, জরিপের ২০টি প্রশ্ন থেকে জানা যায় ৯০ শতাংশ শিশুকে স্কুল থেকে লেখাপড়ার কোনো খোঁজ নেওয়া হয়নি। ৯১ শতাংশের বাড়িতে পড়াশোনায় সাহায্য করার মতো কেউ নেই এবং ২৩ শতাংশ বাসায় একেবারেই লেখাপড়া করছে না। সাধারণত যে শিশুরা বাড়িতে লাঞ্ছনার মুখোমুখি হয়, তাদের মধ্যে ২১ শতাংশ কভিড-১৯ পরিস্থিতিতেÑএ ধরনের শাস্তি বেড়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করেছে। অন্যদিকে শারীরিক শাস্তির ক্ষেত্রে এটি ৪৭ শতাংশ বেড়ে গেছে।
বিপযয় এড়াতে ‘প্রোটেক্ট এ জেনারেশন ফ্রম কভিড-১৯’-এর আওতায় দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিশুদের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে পাঁচটি সুপারিশের কথা বলেছে সেভ দ্য চিলড্রেন। সুপারিশগুলো হলো বিশ^ব্যাপী সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে মহামারী ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি হ্রাস, প্রয়োজন আছে এমন পরিবারগুলোর জন্য জীবিকার সহায়তা দেওয়া, স্কুল-কলেজের মাধ্যমে শিশুদের শিক্ষায় সহায়তা করতে নিয়মিত ফলোআপ, সহিংসতা থেকে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ ও সংকট মোকাবিলায় শিশুদের মনো-সামাজিক সহায়তা প্রদান।