সংকট শেষে কেমন হবে বৈশ্বিক পররাষ্ট্রনীতি

কভিড-১৯ সংক্রমণ এক কথায় পাল্টে দিয়েছে বৈশ্বিক হালচাল। কোন দেশ কার মিত্র, কোন দেশ শক্তিশালী তা যেন অপ্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছে দিন দিন। মহামারীর কবলে পড়ে সব দেশই চলে এসেছে এক ধরনের সহাবস্থানে। কভিড সংকট কেটে গেলে তাই দেশগুলোর পররাষ্ট্রনীতিতে ব্যাপক রদবদল আসা স্বাভাবিক। সংকট শেষে বৈশ্বিক পররাষ্ট্রনীতি আর দেশগুলোর সম্ভাব্য রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি নিয়ে লিখেছেন জুবায়ের আহাম্মেদ

আগে ঘর সামলানো নীতি

কভিড-১৯ সংক্রমণের পর সব দেশই সম্ভবত ‘আগে ঘর, পরে পর’ নীতিতে চলে এসেছে। বিজ্ঞান প্রযুক্তি আর সামরিক শক্তিমত্তা প্রদর্শনের এই যুগে স্বাস্থ্য খাতে সবকটি দেশই বাজেট রেখেছিল অনেক কম। কিন্তু কভিড-১৯ সংক্রমণ যেন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে চিকিৎসা পরিস্থিতির আসল রূপ। বিশেষত অন্যান্য ক্ষেত্রে চরম উন্নতির বিপরীতে জনস্বাস্থ্য বিষয়টিতে চিকিৎসাবিজ্ঞান যে আসলেই নাজুক অবস্থায় আছে তা আরও একবার প্রমাণ হলো। কভিড-১৯ সংকট শেষে তাই জনস্বাস্থ্য, দেশীয় চিকিৎসা পদ্ধতিসহ নিজস্ব ব্যবস্থাপনার দিকেই সবচেয়ে বেশি মনোযোগ থাকবে সব দেশের। এক্ষেত্রে তাড়া থাকবে দুদিক থেকে। প্রথমত, কভিড-১৯ চলাকালীন দেশগুলো ব্যাপক আকারে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবে। যার কারণে আগে ক্ষতি কাটিয়ে ওঠাই হবে প্রধান লক্ষ্য। দ্বিতীয়ত, কাগজে-কলমে সারা বিশ্বের সবচেয়ে বড় দাতা দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সম্পূর্ণভাবে পর্যুদস্ত হওয়ার কারণে বৈদেশিক আস্থা ও সাহায্যের জায়গায় বড় ফাটল একেবারেই স্পষ্ট হয়ে উঠবে। সুতরাং পররাষ্ট্রনীতির কথা চিন্তা করতে গেলে সামনের দিনগুলোতে প্রতিটি দেশই থাকবে সাবধানী পর্যায়ে।

এছাড়া জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রেও বড় সমস্যা আসবে। এবং তা কেবল বাংলাদেশ, ভারত কিংবা এ জাতীয় বিপুল শ্রমশক্তির দেশেই না, বরং চীন, জাপানসহ বড় রাষ্ট্রের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। নিজস্ব আর্থিক কাঠামো পুনর্গঠনের সময়ে জনশক্তি রপ্তানির চেয়ে দেশের নিজস্ব শক্তিকেই কাজে লাগাতে চাইবে সবকটা দেশ। এতে করে বিভিন্ন রাষ্ট্রের মাঝে সম্পর্কে বৈরিতা আসা একেবারেই অস্বাভাবিক না।

মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে বড় ধাক্কা 

সংকটের শুরু থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘চাইনিজ ভাইরাস’ সম্বোধন বারবার নেতিবাচক শিরোনামের কারণ হয়েছে। প্রতিবার সংবাদ সম্মেলনে এসে নতুন করে চীনকে কভিড-১৯ সংক্রমণের দায় দিয়ে গিয়েছেন ট্রাম্প। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছে, চীনের উহান থেকে জীবাণু অস্ত্র হিসেবে কভিড-১৯ করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েনি। কিন্তু তাতে খুব বেশি কর্ণপাত করেননি ট্রাম্প। এমনকি তার প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরাও চীনকেই বারবার দায় চাপাচ্ছেন এই সংক্রমণের জন্য। আর এই তালিকায় নিম্নকক্ষের সিনেটর থেকে শুরু করে একেবারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যন্ত আছেন। আর একই সময়ে এমন সব মন্তব্যের জন্য বিশ্বব্যাপী পড়তির মুখে রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের গ্রহণযোগ্যতাও। একইসঙ্গে বিভিন্ন দেশে অতিরিক্ত সামরিক শক্তি দেখাতে গিয়েও নেতিবাচক অবস্থায় পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক ব্যয় কমাতে পারেননি। বরং অল্প ক’দিন আগেও ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। সেই সঙ্গে বর্তমান সময়ের স্বাস্থ্য খাতের বেহালদশা যোগ করলে যা দাঁড়ায় তার ফলাফল খুবই নেতিবাচক হতে চলেছে। করোনার সঙ্গে লড়াইয়ে ব্যর্থ ট্রাম্প কোনোভাবেই বাকযুদ্ধে হারতে চাচ্ছেন না। টেক্কা দিতে চাইছেন চীনের সঙ্গে। অথচ চীন সারা বিশ্বে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। এমনকি খোদ মার্কিন মুল্লুকেও পৌঁছে গিয়েছে চীনের জরুরি সাহায্য। স্বভাবতই সংকটকালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক ইমেজে ভাটা পড়েছে। তাই মার্কিন শক্তিশালী পররাষ্ট্রনীতি যদি কভিড-১৯ এর অবসানের পরপর দুর্বল হয়ে পড়ে, তাহলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। স্বাভাবিক নিয়মেই বিশ্বের অন্যান্য রাষ্ট্র ট্রাম্পের এ ধরনের আচরণ বিবেচনায় রাখবে। কারণ বর্তমানে ট্রাম্প এমন এক রাষ্ট্রের প্রতি সোচ্চার আছেন, যে দেশটি পররাষ্ট্রনীতির দিক থেকে আগামীর বিশ্বে সবার বন্ধুরাষ্ট্র হতে চলেছে।

নতুন বন্ধুরাষ্ট্র চীন

মোটাদাগে দেখতে গেলে, সারা বিশ্ব এখন সত্যিকার অর্থেই গধফব রহ ঈযরহধ নির্ভর। কভিড-১৯ সংক্রমণ বলা হোক কিংবা এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা সবখানেই চীনের নামই ভাসছে পুরো বিশ্বে। সারা বিশ্ব যখন চীন থেকে আগত এক ভাইরাসের ভয়ে মানবেতর আর গৃহবন্দি অবস্থায় অসহায়, তখন চীন নিজেদের ক্ষতি সামলে এবার সাহায্য করতে চাইছে সারা বিশ্বকে। বিভিন্ন দেশে পৌঁছে গিয়েছে চীনের সাহায্য-সহযোগিতা। ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ না হওয়ায় চীনের ভাবমূর্তি আরও অনেকখানি বেড়েছে। বিশেষত অনুন্নত এবং তৃতীয় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চীনের গ্রহণযোগ্যতা এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি। প্রথম দিকে খুব বেশি আমলে না নিলেও এখন দেশগুলো নির্ভর করছে চীনের ওপর। এমনকি রোগ মোকাবিলায় চীনকেই আদর্শ মানতে হচ্ছে। আস্তে আস্তে সে পথে আলোর দেখাও মিলছে বৈকি। বিশেষত জার্মানি, ইতালির মতো প্রবলভাবে আক্রান্ত দেশও আংশিক লকডাউন খুলে দিয়েছে। জার্মানি তো দেশটির ফুটবল লিগই চালু করছে সপ্তাহশেষে। ইতালি, স্পেন, ইংল্যান্ডেও আভাস মিলেছে নতুন শুরুর। আর এসব কিছুই সম্ভব হচ্ছে চীনের দেখানো পথে। সংকটকালে বিশ্বের কাছে বন্ধুত্বের প্রতীক হয়ে ওঠা চীন তাই আগামীর দিনেও খুব বড় আস্থার জায়গা হতে পারে। এক্ষেত্রে চীনের জন্য ইতিবাচক অবস্থান তৈরি করতে বর্তমান অবস্থান। একমাত্র চীনই এই অবস্থায় পূর্ণাঙ্গ ভাবে অর্থনীতি সচল রাখতে পারছে। সুতরাং রপ্তানি খাতে বা জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে বিশ্বস্ত জায়গা হবে চীন। শত্রু-মিত্র বিবেচনার বাইরে গিয়ে চীনের বর্তমান অবস্থান দেশটিকে সবার কাছেই ইতিবাচক পরাশক্তি হিসেবে নিয়ে আসছে। আর শত্রুতা করতে গিয়ে এই কাজে চীনকে নিজের অজান্তেই সাহায্য করছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

সবাই যদি চীনকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করে তবে চীনের নীতি কী হতে পারে? এ প্রশ্নের উত্তর বেশ সহজ। অনেক আগে থেকেই সূক্ষ্ম এক সাম্রাজ্যবাদ বিস্তার করে রেখেছে চীন। বিভিন্ন সময়ে অন্য দেশকে ঋণ দিয়েছে দেশটি। আর ঋণ আদায়ে ব্যর্থ হলে এর বিনিময়ে দেশটির অবকাঠামোগত সম্পদে ভাগ বসিয়েছে তারা। যার নমুনা শ্রীলঙ্কার বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর যা বর্তমানে ৯৯ বছরের জন্য চীনের আওতায় আছে। আর আফ্রিকান দেশগুলোতে এর নজির অনেক। চীন সহসাই তাদের এই নীতি থেকে সরে আসবে বলে মনে করেন না আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশেষজ্ঞরা। বরং সাম্রাজ্যবাদী ধরনের এই চিন্তাভাবনা বড় করার একটা সুযোগ যখন হাতের কাছেই তৈরি হয়ে গিয়েছে, তখন তার সুযোগ হেলায় নষ্ট করবেন না প্রেসিডেন্ট শি চিন পিং। চীনের পররাষ্ট্রনীতি এ কারণেই বেশ উজ্জ্বল বলা চলে সংকট-পরবর্তী সময়ে।

ইউরোপের ঐক্য দৃঢ় হতে পারে

সবচেয়ে বড় লড়াইটা সম্ভবত করতে হবে ইউরোপকে। এমন একটি অবস্থায় তারা দাঁড়িয়েছে, যেখানে বহির্বিশ্বকেও তারা পাশে পাচ্ছে না আবার নিজস্ব উপায়েও ঘুরে দাঁড়াবার রসদ কম। সাধারণ উদাহরণ হিসেবে ইতালি এবং ফ্রান্সকে বিবেচনা করা যাক। বিশ্বে একক দেশ হিসেবে সবচেয়ে বেশি ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের মালিকানা আছে ইতালির। ৫০ এর অধিক ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট আছে দেশটির। এছাড়া অন্যান্য দর্শনীয় স্থান তো আছেই। এছাড়া নিজস্ব রন্ধন প্রণালী এবং ভুবন ভোলানো পিজ্জার জন্যও ইতালি পর্যটকদের বড় আকর্ষণ। কিন্তু কভিড-১৯ এর সংক্রমণের পর থেকে ইতালি আছে চরম দুর্বিপাকে। অন্যান্য অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে যদি বিবেচনার বাইরে রাখাও হয় তবে কেবল পর্যটন এবং এর সঙ্গে নিয়োজিত ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের বড় সমস্যায় পড়তে হয়েছে। একই কথা প্রযোজ্য ফ্রান্স, স্পেন কিংবা গ্রিসের মতো দেশের ক্ষেত্রেও। এক্ষেত্রে দেশগুলোর বড় ভরসার নাম ইউরোপীয় ইউনিয়ন। সামগ্রিকভাবে নিজেদের সংগঠিত করা ছাড়া আপাতত কোনো প্রকার বিকল্প নেই ইউরোপের সামনে। ইতালি, স্পেন, গ্রিসে বেশ কয়েক বছর ধরেই বেকারত্ব বড় একটি সামাজিক সমস্যা ছিল। করোনায় ব্যাপক প্রাণহানি এবং ভঙ্গুর অর্থনীতি চাঙ্গা করতে এখন পূর্ণ জনশক্তির দরকার পড়বে দেশগুলোর। কিন্তু সব অর্থনৈতিক কাজের শুরুর জন্য দরকার বড় মাপের পুঁজি এবং পারস্পরিক নির্ভরতা। যেহেতু দেশগুলো প্রায় সমান পরিমাণে অর্থনৈতিক এবং সামাজিক ক্ষতির মুখে পড়েছে তাই আঞ্চলিক ঐক্যের বিষয়টি বড় হয়ে দেখা দেবে ইউরোপের জন্য। যা আফ্রিকান বা এশিয়ার বিভিন্ন দেশগুলোতে অত বেশি প্রভাব নাও রাখতে পারে। কারণ আফ্রিকার একটা বড় অংশ ইউরোপীয় এবং চীনের দান ও উন্নয়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে চলে আর এশিয়ার জন্য চীনের প্রভাব তো আছেই। গ্রেট ব্রিটেন অবশ্য ইইউ থেকে বেরিয়ে আসছে। কিন্তু ব্রেক্সিট ইস্যুর পরেও সামগ্রিক ঐক্যের ডাক আসলে ব্রিটেনের পক্ষে পিছিয়ে থাকা সম্ভব হবে বলে মনে করেন না বিশেষজ্ঞরা।

পুতিনের রাশিয়া কোন পথে যাবে

বড় শক্তির রাষ্ট্রগুলোর মাঝে সবচেয়ে রহস্যময় অবস্থায় সম্ভবত আছে রাশিয়া। প্রাথমিক পর্যায়ে দেশটিতে কভিড-১৯ সংক্রমণ কম হলেও বর্তমানে তা বেড়ে যাচ্ছে আশঙ্কাজনক হারে। একটা সময় ধারণা করা হচ্ছিল রাশিয়াও নতুন করে যোগ দিতে পারে মার্কিনবিরোধী পররাষ্ট্রনীতিতে কিন্তু আপাতত তা খুব বেশি কঠিন হতে চলেছে। পুতিনের জন্য সামনের সময়টা খুব বেশি চ্যালেঞ্জিং। সংকট শেষে মিত্রদের চেয়ে তাকে অনেকাংশে নির্ভর করতে হবে নিজস্ব ব্যবস্থাপনার ওপর। রাশিয়া নিয়ে এখনই মন্তব্য করা তাই দুষ্কর।

বড় সুযোগের অপেক্ষায় মধ্যপ্রাচ্য

মধ্যপ্রাচ্যের তেলের বাজার তাদের অর্থনীতি, পররাষ্ট্রনীতিসহ সবকিছুর বড় নিয়ন্ত্রক। আর এখন মধ্যপ্রাচ্য চীনের পর সবচেয়ে বেশি আশাবাদী হতে পারে। সংকট শেষে নতুন বিশ্বে ভ্রমণ, বাণিজ্য সবকিছুই নতুন করে শুরু হলে বড় লাভের মুখ দেখবে সৌদি আরবসহ তেল রপ্তানিকারক দেশগুলো। যাতায়াত কিংবা শিল্প, দুদিক বিবেচনাতেই চাহিদা বেড়ে যাবে প্রচুর পরিমাণে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ, বিশেষ করে সৌদি আরব কিংবা ইরানের মতো দেশগুলো এই অবস্থায় নিজেদের পররাষ্ট্রনীতি আরও অনেক বেশি সুসংহত করার সুযোগ পাবে। সৌদি আরব কভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবের আগেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বন্ধুত্বের সম্পর্ক বাড়ানোর ব্যাপারে ব্যাপক জোর দিয়েছিল। এমনকি দেশে সাংস্কৃতিক সংস্কারের ডাকও এসেছিল বড় আকারে। আগামীর পররাষ্ট্র ব্যবস্থায় মৈত্রী তাদের জন্য খুবই ইতিবাচক হতে পারে।

নতুন বিশ্বযুদ্ধ নাকি শান্তিপূর্ণ পৃথিবী?

এই প্রশ্নটার উত্তর দুই রকম হতে পারে। একটি বড় আর্থিক সংকট পৃথিবীতে অবশ্যই দেখা দেবে। এ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করা চলে না। বাড়বে ক্ষুধার্ত মুখ। সে সময় বিভিন্ন দেশে গৃহযুদ্ধ দেখা দেওয়া মোটেই অস্বাভাবিক না। আবার এতবড় সংকটের পর স্বাভাবিকভাবেই প্রয়োজন হবে একতার। বড় অভাব মিটিয়ে নিতে সব রাষ্ট্র নিজেদের সংগঠিত করার সঙ্গে সঙ্গে বাহ্যিক কোনো কোন্দল থেকে নিজেকে গুটিয়ে রাখতেও সজাগ থাকবে। এ কারণে সিরিয়াসহ বিভিন্ন দেশে সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন কমে আসার সম্ভাবনা অনেক বেশি। তবে সবকিছুই এখন পর্যন্ত ‘দুর্গম গিরি কান্তার মরু।’ সবার আগে প্রয়োজন কভিড-১৯ এর অবসান, দরকার খুব দ্রুত একটি নিরাময় ব্যবস্থা। তা না হলে, বিপদ বেড়ে যাবে আরও অনেকগুণ।