পরবর্তী মহামারীর উৎস আমাজন

মহাবন আমাজন থেকে পরবর্তী মহামারী ছড়াতে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন ব্রাজিলের পরিবেশ বিজ্ঞানী ডেভিড লাপোলা। অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও নির্বিচারে বনাঞ্চল উজাড় করার কারণেই এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে মানুষকে, এমনটাও বলেন তিনি। লাপোলা আমাজনকে বহুবিধ ভাইরাসের জলাধার হিসেবে মন্তব্য করেন বলে জানিয়েছে এএফপি।

যত বেশি বনাঞ্চল ধ্বংস হবে, তত বেশি মারণ ভাইরাস মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়বে। কারণ বনভূমি হলো মানুষ ও ভাইরাসের মাঝে ঢাল। এমনটা আগেই জানিয়েছিলেন বিজ্ঞানীরা। বন্য প্রাণীর শরীরে থাকা অজানা ভাইরাস ছড়ানো রোধ করতে হলে বনাঞ্চল ধ্বংস আটকাতে হবে সবার আগে।

গত বছরই আমাজনের ব্রাজিলিয়ান অংশে ১০ হাজার বর্গ কিলোমিটারের বেশি বনভূমি ধ্বংস করা হয়েছে, যা উদ্বেগের বিষয়। চলতি বছর এপ্রিল পর্যন্ত আমাজনে ১ হাজার ২০ বর্গ কিমি বনভূমি নষ্ট হয়েছে।

পরিবেশ বিজ্ঞানী লাপোলা আরও বলেন, ‘ভাগ্যের ওপর নির্ভরশীল হওয়া উচিত হবে না আমাদের। পরিবেশগত বৈষম্য তৈরি করার কারণে ভাইরাস প্রাণী থেকে লাফিয়ে মানুষের ওপর পড়তেই পারে। পরিবেশগত বৈষম্যের জন্যই অধিকাংশ ভাইরাস বৃহদাকারে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে।’ এইচআইভি, ইবোলা এবং ডেঙ্গু জ্বরও একই কারণে সৃষ্ট বলে সারা বিশ্বের ২০ শতাংশ অক্সিজেনের জোগান দেয় আমাজন বনভূমি। তার থেকেও বড় কথা, এই বনভূমিতে বহু নাম না জানা প্রাণীও রয়েছে। তাদের শরীরে রয়েছে অজানা প্রাণঘাতী ভাইরাস। সেই ভাইরাস একবার মানুষের মধ্যে ছড়াতে শুরু করলে বিপদ। ব্রাজিলের পরিবেশ বিজ্ঞানী ডেভিড লাপোলা জানিয়েছেন, বনাঞ্চলে নগরায়ণ করলে বিভিন্ন প্রাণী থেকে ভাইরাস মানুষের শরীরে ছড়ানো অস্বাভাবিক ঘটনা নয়। আমাজনের গভীর অরণ্যে বহু চেনা-অচেনা ভাইরাস রয়েছে। মানুষ বনাঞ্চল ধ্বংস করে গভীর জঙ্গলে প্রবেশ করলে সেই ভাইরাসে সংক্রমিত হবে। আর আমাজন যেভাবে ধ্বংস করা হচ্ছে তাতে এরপর সেখান থেকেই নতুন কোনো ভাইরাস ছড়াতে পারে।

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জইর বোলসোনারো বিজ্ঞানীদের এসব হুঁশিয়ারির কোনো তোয়াক্কা করেন না। তিনি আমাজনের আদিবাসী অধ্যুষিত বনাঞ্চল উজাড় করে খনিজ সম্পদ আহরণ ও চাষযোগ্য জমির পরিমাণ বাড়াতে চাইছেন।