দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার করোনা শনাক্তের ৬৮তম দিনে আরও ১৪ জন রোগী মৃত্যুবরণ করেছেন। এছাড়া এদিন সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আরও ১ হাজার ৪১ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ২৪ ঘণ্টায় এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রোগী শনাক্তের ঘটনা। এর আগে গত বুধবার ২৪ ঘণ্টায় এ যাবৎ সর্বোচ্চ ১ হাজার ১৬২ জন শনাক্ত হয়। তবে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় পরীক্ষা কিছু কম হওয়ায় শনাক্তের হার প্রায় আগের দিনের সমান। গত কয়েক দিনের ন্যায় গতকালও প্রতি একশ জনের পরীক্ষায় ১৪ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এদিকে গতকাল সর্বমোট নমুনা পরীক্ষা দেড় লাখ ছাড়িয়েছে। গতকাল পর্যন্ত সর্বমোট ১ লাখ ৫১ হাজার ৯৩০টি নমুনা পরীক্ষায় করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৯ হাজারের কাছাকাছি। এরমধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন পৌনে তিনশ এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন সাড়ে তিন হাজারের বেশি মানুষ।
গতকাল বুলেটিনে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (বুধবার দুপুর ১২টা থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত) ৪১টি ল্যাব কর্তৃক নমুনা সংগ্রহ হয়েছে মোট ৭ হাজার ৮৩৭ জনের। এর মধ্যে ঢাকায় ৪ হাজার ৯৫৬ জনের ও ঢাকার বাইরে ২ হাজার ৮৮১ জনের। সর্বমোট পরীক্ষা করা হয়েছে ৭ হাজার ৩৯২ জনের। ঢাকার মধ্যে ৪ হাজার ৫৮৮ জন এবং ঢাকার বাইরে ২ হাজার ৮০৪ জনের। এসব পরীক্ষায় ১ হাজার ৪১ জনের কভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তকৃত ৭৫৪ জন ঢাকার মধ্যে ও ২৮৭ জন ঢাকার বাইরে। এ নিয়ে সর্বমোট শনাক্ত ১৮ হাজার ৮৬৩ জন। এদিন বুলেটিনে সুস্থ হওয়ার তথ্য দেওয়া না হলেও পরে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ২৪২ জন সুস্থ হওয়ার তথ্য জানানো হয়। এ নিয়ে সর্বমোট সুস্থ হয়েছেন ৩ হাজার ৬০৩ জন।
২৪ ঘণ্টায় আরও ১৪ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। তাদের মধ্যে পুরুষ ১১ জন ও মহিলা ৩ জন। ঢাকার মধ্যে ৯ জন ও বাকি ৫ জন চট্টগ্রামের। তাদের বয়স ৭১-৮০ বছরের মধ্যে ২ জন, ৫১-৬০ এর মধ্যে ৫ জন, ৪১-৫০ এর মধ্যে ৫ জন, ৩১-৪০ এর মধ্যে ১ জন ও ২১-৩০ এর মধ্যে ১ জন। এ নিয়ে দেশে সর্বমোট মৃত্যুবরণ করেছেন ২৮৩ জন। এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের মধ্যে মৃত্যুহার ১ দশমিক ৫ শতাংশ ও সুস্থতার হার ১৯ দশমিক ১ শতাংশ বলে জানানো হয়।
ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, দেশে ৮ মার্চ প্রথম করোনা শনাক্তের পর বর্তমানে দশম সপ্তাহ চলছে। সর্বশেষ তিন সপ্তাহের তুলনামূলক তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ২৬ এপ্রিল থেকে ২ মে পর্যন্ত অষ্টম সপ্তাহে মোট শনাক্ত ছিল ৩ হাজার ৭৯২ জন। ওই সপ্তাহে সুস্থ হয়েছিল ৬৪ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছিল ৩৫ জন। নবম সপ্তাহে (৩ মে থেকে ৯ মে) মোট শনাক্ত হয়েছিল ৪ হাজার ৯৮০ জন। সুস্থ হয়েছিল ২ হাজার ৩৩৭ জন ও মৃত্যুবরণ করেছে ৩৯ জন। দশম সপ্তাহ এখনো শেষ হয়নি। তবে এখন পর্যন্ত শনাক্ত হয়েছে ৫ হাজার ৯৩ জন। সুস্থ হয়েছে ১ হাজার ১৮৯ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছে ৬৯ জন।
বুলেটিনে আরও জানানো হয়, ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে ২০১ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন মোট ২ হাজার ৫৭০ জন। একই সময়ে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে ৩ হাজার ৩১ জনকে। বর্তমানে কোয়ারেন্টাইনে আছেন মোট ৪৬ হাজার ১৪ জন। স্বাস্থ্য বাতায়ন-১৬২৬৩, ৩৩৩ ও আইইডিসিআরের হটলাইনে ২৪ ঘণ্টায় ১ লাখ ৫১ হাজার ৫০২টি কল এসেছে। ২৪ ঘণ্টায় পিপিই বিতরণ করা হয়েছে ৪৪ হাজার ৭৫০টি। বর্তমানে মজুদ আছে ৩ লাখ ৭১ হাজার ৩৯৩টি। স্থল, সমুদ্র ও বিমানপথে ২৪ ঘণ্টায় দেশে প্রবেশ করেছেন ১ হাজার ৪০৪ জন, তাদের প্রত্যেককে স্ক্রিনিং করা হয়েছে।