ঘরবন্দি সময়ে বসে নেই জনপ্রিয় অভিনেত্রী সোহানা সাবা। যৌথভাবে পরিচালনা করছেন অনলাইন সিরিজ। আয়োজন করেছেন অনলাইন আড্ডা। সাবার সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে লিখেছেন সুদীপ্ত সাইদ খান
ঘরে বসে সোহানা সাবা যৌথভাবে পরিচালনা করছেন অনলাইন সিরিজ ‘নয়নতারা হাউজিং’। ইতিমধ্যেই সাতটি পর্ব প্রচারিত হয়েছে। নয়নতারার পেছনের গল্প জানতে চাইলে সোহানা সাবা বলেন, ‘আমি, শাওন আপু, চুমকি আপুসহ আমাদের একটা গ্রুপ আছে। এপ্রিলের শুরুর দিকে আমরা ইনবক্সে কথা বলছিলাম, বাসায় বসে বসে বোর হয়ে যাচ্ছি, ঘরে বসে কিছু করা যায় কি না। সেটা ভেবেই নয়নতারা হাউজিংয়ের প্রথম পর্ব ‘টমেটো’ নির্মাণের ভাবনা মাথায় আসে। এটা করার আগে আমাদের ভাবতে হয়েছে, শিল্পীদের কারা কারা আমাদের বন্ধু, যাদের একবার বললেই তারা রাজি হয়ে যাবেন। এরকম অনেক বিষয় চিন্তাভাবনা করে সাত-আট দিনের মাথায় স্ক্রিপ্টটা কমপ্লিট করে আমরা প্রত্যেককে দিলাম। টমেটো করার সময়, ভাবলাম যে সামনে তো পহেলা বৈশাখ। বৈশাখকে মাথায় রেখে কিছু করা যায় কি না। এরপর ‘এসো হে বৈশাখ’ নামের পর্বটা বানানো। এমন করেই সাতটি পর্ব আমরা নির্মাণ করে ফেলেছি।’
সীমাবদ্ধতার ভেতরেই কাজ করছেন তারা। সাবা বলেন, ‘মানুষ মনে করে আমরা শিল্পীরা স্বপ্নের রাজ্যে বসবাস করি, প্রচুর টাকা আমাদের। কিন্তু প্রকৃত অবস্থা তা নয়। আমাদেরও নানা সীমাবদ্ধতা আছে। সেইসব সীমাবদ্ধতার ভেতরেই এই কাজটা আমরা করেছি এবং প্রচুর রেসপন্স পাচ্ছি।’
এদিকে স্ট্রিমিং এন্টারটেইনমেন্ট প্লাটফর্ম বিঞ্জ নয়নতারা হাউজিংয়ের তিনটি পর্ব স্পনসর করেছে। সেই পর্বগুলো থেকে যে আয় হবে সেই টাকা অসহায় মানুষদের দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সোহানা সাবারা। সোহানা জানালেন, নয়নতারার আরও সাতটা পর্বের শ্যুটিং করছেন। ঈদের আগেই এই পর্বগুলো প্রচারের সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে দীর্ঘদিন ধরেই সোহানা সাবা তারকাদের নিয়ে একটি আড্ডার অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করে আসছেন। একটি মোবাইল কোম্পানির ‘ভ্যাস’ সার্ভিসের আওতায় সেই আড্ডা প্রচারিত হচ্ছিল। সাবা জানালেন, চিত্রনায়ক ফেরদৌস, নায়িকা পূর্ণিমা, সাকিব আল হাসানসহ প্রচুর তারকা সেই আড্ডায় অংশ নিয়েছেন। তারই ধারাবাহিকতায় করোনাকালে সাবা ফেইসবুকে আয়োজন করেছেন ‘আড্ডা উইথ সোহানা সাবা’র। এই আড্ডায় প্রতিদিনই অংশ নিচ্ছেন নানা অঙ্গনের তারকারা। সাবা বলেন, ‘এই সময়ে আমি প্রচুর সাক্ষাৎকারে অংশ নিয়েছি। কিন্তু, সেসব ইন্টারভিউয়ে ভালো প্রশ্ন পাইনি। কোনো রকম স্টাডি ছাড়াই আমাদের নানা রকমের প্রশ্ন করা হচ্ছে। করোনার দোহাই দিয়ে এরকম নানা উল্টাপাল্টা সাক্ষাৎকারের মুখোমুখি হতে হয়েছে। তখন মনে হয়েছে যে, আমি কেন আমার মতো কিছু করছি না। সেই ভাবনা থেকে মনে হলো আমি যদি নিজেই কিছু করি তাহলে আমার সম্পর্কে যেমন অডিয়েন্সকে জানাতে পারলাম তেমনি অন্যদের সম্পর্কেও জানতে পারলাম। একটু বিনোদনও হলো, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডাও হলো। সেই চিন্তা থেকেই এই আড্ডার আয়োজন।’
আড্ডার বিষয় নিয়ে তিনি বলেন, ‘আড্ডায় আমরা মূলত আসল তথ্যটা উপস্থাপন করার চেষ্টা করি। ধরেন, মানুষ মনে করছে আমার তো টাকা নেই, অথচ শিল্পীরা প্রতিদিনই লিপস্টিক মেখে আড্ডা দিচ্ছে ব্যাপারটা যে আসলে তা নয়, আমরা যে হাসছি, হাসার সময়েও যে কান্না লুকিয়ে হাসছি সেই বিষয়টা মানুষের সামনে পরিষ্কার করাই আমার মূল উদ্দেশ্য। শুধু তাই নয়, কভিড-১৯ এর কারণে বিষণœ না থেকে কীভাবে নিজেকে ভালো রাখা যায় সেই গল্পটাও আমি ‘আড্ডা উইথ সোহানা সাবা’য় তুলে ধরছি।’
এদিকে ঘরের ভেতর লাইভ বা শ্যুটিং করার কারণে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে বলে মনে করেন সাবা। তিনি বলেন, ‘যেহেতু ঘরে বসে লাইভ করছি, শ্যুটিং করছি। ফলে আমার ঘরের ভেতরে কী আছে সেটা দর্শকরা জেনে যাচ্ছে। পারসোনাল লাইফটা অনেকাংশে উন্মুক্ত হয়ে যাচ্ছে। আবার আমি কী করছি সেটা আমার পরিবারের সদস্যরাও জেনে যাচ্ছেন।’
লকডাউন শেষ হলেই আবারও শ্যুটিংয়ে ফেরার কথা ভাবছেন সাবা। তিনি বলেন, ‘দুই মাস ধরে ঘরে বসে আছি। এভাবে কতদিন আর বসে থাকতে পারব। কাজে ফিরতেই হবে। দীর্ঘদিন কাজ না করে সার্ভাইভ করা সম্ভব না। সব কিছুরই একটা সীমাবদ্ধতা আছে। আমি মনে করি নিজের নিরাপত্তা নিজে নিয়ে কাজে নামতে হবে। এক্ষেত্রে কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করাও সঠিক বলে মনে করি না। কারণ আমাদের আর্থিক অবস্থার ব্যাপারটা সরকার ভাবছে, অন্যদেরও ভাবতে হবে।’