চেয়ারম্যানের 'টর্চার সেল' থেকে আহত যুবক উদ্ধার

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার ভেলাগুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহির উদ্দিনের 'র্টচার সেল' থেকে নুরুজ্জামান নামে এক যুবককে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। 

আহত ওই যুবককে প্রথমে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। আহত নুরুজ্জামান উপজেলার ভেলাগুড়ি ইউনিয়নের জাওয়ারী গ্রামের মৃত নবী হোসেনের ছেলে।

স্থানীয় অনেকের দাবি, মাদকবিরোধী কথা বলায় নুরুজ্জামানকে ওই দিন দিন দুপুরে তুলে নিয়ে বেধড়ক পিটিয়েছে চেয়ারম্যান মহির উদ্দিন ও তার পরিবারের লোকজন। এ সময় ২৭০ পিস ইয়াবা দিয়ে নির্যাতনের শিকার ওই যুবককে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়। স্থানীয়দের প্রতিবাদের মুখে পুলিশ ও বিজিবি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ওই যুবককে উদ্ধার করে।

তাদের দাবি, ওই চেয়ারম্যান তার বাড়ির একটি কক্ষকে টর্চার সেল বানিয়ে সেখানে অনেককে নিয়ে মারধর করে আসছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার দুপুরে জাওরানী বাজারে এমদাদুলের চায়ের দোকানে বসে নাশতা করছিলেন নুরুজ্জামান। হঠাৎ করে চেয়ারম্যানের ছেলে জাহাঙ্গীর, ভাই মনসুর ও  গ্রাম পুলিশ শামিম প্রকাশ্যে তাকে টেনেহিঁচড়ে চেয়ারম্যানের বাড়ি নিয়ে যায়। সেখানে তার হাত-পা বেঁধে বেধড়ক লাঠি, রড, হাতুড়ি দিয়ে পেটানো হয়। এ সময় তার চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ছুটে গিয়ে চেয়ারম্যানের বাড়ি ঘেরাও করে। খবর পেয়ে পুলিশ ও বিজিবি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে এবং দিনভর আলোচনার পর সন্ধ্যার আগে ওই যুবককে আহত অবস্থায় তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরিবারের লোকজন সন্ধ্যার পর নুরুজ্জামানকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে 

সেখানকার দ্বায়িত্বরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য নুরুজ্জামানকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। 

আহত নুরুজ্জামানের চাচা আবুল কাশেম শনিবার রাতে চেয়ারম্যান মহির উদ্দিনসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে হাতীবান্ধা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। 

তার অভিযোগ, সরকার দলীয় ওই চেয়ারম্যানের নাম থাকায় রোববার বিকেলে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়নি। 

তিনি 'মানবিক' কারণে চেয়ারম্যানের নাম বাদ দিয়ে নতুন করে আরো একটি অভিযোগ থানায় জমা দিয়েছেন বলে জানান। 

নির্যাতনের শিকার নুরুজ্জামান বলেন, প্রায় ৬ মাস আগে ইউপি চেয়ারম্যানের ভাই মাদক কারবারী মনসুরের ৯৬ বোতল ফেন্সিডিল বিজিবির কাছে ধরিয়ে দেই। সেই জেরে চেয়ারম্যানের নির্দেশে তারা আমাকে ধরে নিয়ে যায়। এ সময় চেয়ারম্যানের ছেলে জাহাঙ্গীর আমাকে বলে 'তুই কী সাংবাদিক আমাদের বিরুদ্ধে লিখিস, আমাদের মাল ধরিয়ে দেইস ব্যাটা' বলেই লাঠি, রড, হাতুড়ি দিয়ে বেধড়ক পেটাতে থাকে। এ ছাড়া হত্যার জন্য ফাঁকা ইনজেকশন শরীরে বেশ কয়েকবার পুশ করার চেষ্টা করে। চেয়ারম্যানের পুরো পরিবার মাদক ব্যবসায় জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে কেউ গেলেই তাকে তারা বিভিন্নভাবে হয়রানী করা হয়। 

যোগাযোগ করা হলে ভেলাগুড়ি ইউপি চেয়ারম্যান মহির উদ্দিন জানান, নুরুজ্জামানকে গ্রাম পুলিশ ইয়াবাসহ আটক করে আমার বাড়িতে আনে। তাকে আমরা কোনো মারধর করি নাই। 

এ বিষয়ে হাতীবান্ধা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওমর ফারুক বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর উদ্ধার ইয়াবা বিষয়ে তদন্ত করা হবে।