ঈদের আগেই ঢাকা ছাড়ছেন দুই সহস্রাধিক বিদেশি

করোনা পরিস্থিতিতে ঈদুল ফিতরের আগেই দুই সহস্রাধিক বিদেশি বাংলাদেশ ছাড়ছেন। ইতিমধ্যে টিকিট সংগ্রহের পর তাদের জন্য বিশেষ ফ্লাইট প্রস্তুত করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে আজ সোমবার কানাডার তিন শতাধিক নাগরিক ঢাকা ছাড়বেন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কাতার এয়ারওয়েজে ২৪৩ জন এবং কুয়েত ও জাজিরা এয়ারের দুটি বিশেষ ফ্লাইটে তিন শতাধিক বাংলাদেশি গতকাল রবিবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্র্তৃপক্ষের (বেবিচক) এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে এসব তথ্য জানিয়েছেন। তিনি আরও জানান, ঈদের আগেই দুই সহস্রাধিক বিদেশির ঢাকা ত্যাগের প্রস্তুতি চলছে। তাদের বেশির ভাগই ভারত ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের নাগরিক। গত ৮ মার্চ দেশে করোনা শনাক্তের পর থেকে বিদেশিরা ঢাকা ছাড়া শুরু করেন। প্রথমে ভুটান ও মালয়েশিয়ার নাগরিকরা যান। এরপর যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ অন্যান্য দেশের নাগরিকরা যাওয়া শুরু করেন।

গতকাল ঢাকার কানাডীয় দূতাবাস জানায়, সোমবার চতুর্থ দফায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কাতার এয়ারওয়েজের একটি বিশেষ ফ্লাইট কানাডার টরন্টোর উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। এই ফ্লাইটে ৩০০ জনের বেশি নাগরিককে দেশে ফেরানো হবে। এরপর শেষ দফায় নাগরিকদের নিয়ে আরও একটি বিশেষ ফ্লাইট কানাডা যাবে। তবে শেষ ফ্লাইটের তারিখ ও যাত্রী এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সবশেষ ১০ মে বিশেষ ফ্লাইটে কানাডার ৩৪০ নাগরিক ঢাকা ত্যাগ করেন। আগে আরও দুই দফায় ৪৭১ কানাডিয়ান ঢাকা ছেড়েছেন।

এদিকে বেবিচকের কর্মকর্তারা জানান, যুক্তরাষ্ট্রে আটকে পড়া ২৪৩ বাংলাদেশিকে নিয়ে কাতার এয়ারের বিশেষ ফ্লাইটটি গতকাল ভোর ৪টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এক মাস ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চেষ্টায় দেশের শীর্ষস্থানীয় ট্রাভেল সংস্থা গ্যালাক্সি এভিয়েশনের সহায়তায় তাদের ফিরিয়ে আনা হলো।

নির্দেশনা অনুযায়ী প্রত্যেক যাত্রী কভিড-১৯-এর উপসর্গবিহীন স্বাস্থ্যসনদ পেয়ে ফ্লাইটে ওঠেন। ঢাকায়ও তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। কারও শরীরে তাপমাত্রা অস্বাভাবিক ধরা পড়েনি। তাই প্রাতিষ্ঠানিকের পরিবর্তে হোম কোয়ারেন্টাইনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

গ্যালাক্সি এভিয়েশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ ইউসুফ ওয়ালিদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ছড়িয়ে থাকা বাংলাদেশিদের দ্রুত শনাক্ত করে ঢাকায় আনা ছিল চ্যালেঞ্জিং। আগে এ ধরনের অভিজ্ঞতা না থাকলেও সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে তাদের আমরা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। এটি অনেক বড় সফলতা। কারণ কাতার এয়ার শুধু ফ্লাইটটি পরিচালনা করেছে। বাকি সব কাজ করেছে গ্যালাক্সি এভিয়েশন।’ তিনি আরও বলেন, ‘ফেরত বাংলাদেশিদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, পর্যটক, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা ও বিজনেস ভিসার যাত্রী রয়েছেন। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের এডুকেশন ও কালচারাল কর্মসূচির অধীনে বাংলাদেশ থেকে অংশ নেওয়া স্কুল-কলেজের ৪৯ শিক্ষার্থী রয়েছে।’