করোনায় পুলিশ বিএনপি নেতা ও ব্যাংকারের মৃত্যু

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এক পুলিশ কর্মকর্তা মারা গেছেন। গতকাল সোমবার সকালে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। গত রবিবার রাতে সিলেট নগরীর শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে মারা যান এক ওয়ার্ড বিএনপি নেতা। একই রাতে কুমিল্লায় মারা গেছেন এক সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তা। বিস্তারিত  নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর

পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) সোহেল রানা দেশ রূপান্তরকে জানান, করোনাভাইরাসে পুলিশের ঢাকা মহানগর বিশেষ শাখার (সিটি-এসবি) পল্টন জোন-১-এ কর্মরত এসআই মো. মজিবুর রহমান তালুকদার (৫৬) সোমবার সকাল ৮টা ৫১ মিনিটে মারা গেছেন। এ নিয়ে দেশে এই বাহিনীতে নয়জনের মৃত্যু হয়েছে।

জানা গেছে, করোনা আক্রান্ত মজিবুরকে গত ১১ মে রাজধানীর ইমপালস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়। অবস্থার আরও অবনতি হলে পরে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। সেখানে সকালে তার মৃত্যু হয়। তার বাড়ি সিরাজগঞ্জের কাজিপুর থানার তারাকান্দি এলাকায়। স্ত্রী ও সন্তানরা বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার সাখপাড়া গ্রামে বসবাস করেন। তার মৃত্যুতে আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ শোক জানিয়েছেন।

সিলেট নগরীর শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে গত রবিবার রাত ১১টার দিকে করোনা আক্রান্ত দক্ষিণ সুরমা উপজেলার তেতলি ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি দবির মিয়া (৬৫) মারা গেছেন। সোমবার দুপুরে নগরীর মানিকপীর (রহ.) টিলার কবরস্থানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দবির মিয়ার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়। শামসুদ্দিন হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. সুশান্ত কুমার মহাপাত্র জানান, দবির মিয়াকে রাত ৯টার দিকে ভর্তি করা হয়েছিল। ভর্তির প্রায় দুই ঘণ্টা পর তিনি মারা যান। জানা গেছে, দবির মিয়ার আরেক ভাইও করোনা আক্রান্ত। তিনিও শামসুদ্দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এদিকে রবিবার রাতে কুমিল্লা নগরীর মৌলভীপাড়ার নিজ বাসায় করোনা আক্রান্ত সোনালী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল অফিসার (পিও) মাহবুব এলাহী মারা যান। বিষয়টি নিশ্চিত করে সোনালী ব্যাংকের লোকাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. মনিরুজ্জামান জানান, মাহবুব এলাহী সোনালী ব্যাংক মতিঝিল শাখার চালান সেকশনে কর্মরত ছিলেন।

জানা গেছে, করোনার লক্ষণ দেখা দেওয়ায় গত ৭ মে ছুটি নিয়ে কুমিল্লায় চলে যান মাহবুব। ১০ মে তার করোনা শনাক্ত হয়। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কয়েক দিন ভর্তিও ছিলেন তিনি।